যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার দাবি, করোনা ভ্যাকসিন তৈরির তথ্য হ্যাক করার চেষ্টা করেছে রাশিয়া

যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা করছে এমন প্রতিষ্ঠানের তথ্য হ্যাক করার চেষ্টা করেছে রাশিয়ার গুপ্তচররা।
cyber-attack
রয়টার্স ফাইল ফটো

যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা করছে এমন প্রতিষ্ঠানের তথ্য হ্যাক করার চেষ্টা করেছে রাশিয়ার গুপ্তচররা।

এমন দাবি করে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টার (এনসিএসসি), কানাডিয়ান কমিউনিকেশন সিকিউরিটি এস্টাবলিশমেন্ট (সিএসই), মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস), সাইবার সিকিউরিটি ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিকিউরিটি এজেন্সি (সিআইএসএ) ও মার্কিন ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি (এনএসএ) হ্যাকিং নিয়ে সতর্কবার্তা প্রকাশ করেছে।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কোন কোন প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করা হয়েছে কিংবা কোনো তথ্য চুরি হয়েছে কিনা তা নির্দিষ্ট করে জানায়নি এনসিএসসি। তবে, হ্যাকারদের কারণে এখন পর্যন্ত ভ্যাকসিন গবেষণা বাধাগ্রস্ত হয়নি বলে জানা গেছে।

এনসিএসসি জানিয়েছে, ওই হ্যাকিং গ্রুপ যে রাশিয়ান গোয়েন্দা সংস্থার অংশ হিসেবে কাজ করছে তা প্রায় পুরোপুরি নিশ্চিত।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাব বলেন, ‘রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় যারা কাজ করছে তাদেরকেই টার্গেট করছে। এটি একেবারেই গ্রহণযোগ্য না।’

তিনি আরও বলেন, ‘অন্যরা যখন বেপরোয়া ও স্বার্থপর আচরণ করছে, যুক্তরাজ্য ও তার সহযোগী দেশ তখন ভ্যাকসিন আবিষ্কার ও বিশ্বের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কঠোর পরিশ্রম করছে।’

যুক্তরাজ্যের এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে রাশিয়া। দেশটির রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেস্কোভ রাশিয়ার বার্তা সংস্থা টাসকে বলেন, ‘গ্রেট ব্রিটেনের ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠান ও গবেষণা কেন্দ্রগুলোতে কেউ হ্যাক করার চেষ্টা করছে কিনা সে সম্পর্কে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। আমরা শুধু একটি কথাই বলতে পারি যে, এই প্রচেষ্টার সঙ্গে রাশিয়ার কোনো সম্পর্ক নেই।’

যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সংস্থাগুলো জানায়, হ্যাকাররা দুর্বল কম্পিউটার সিস্টেমে অ্যাক্সেস পাওয়ার জন্য সফটওয়্যার ত্রুটিকে কাজে লাগাচ্ছে। ত্রুটিপূর্ণ মেশিন থেকে ফাইল আপলোড ও ডাউনলোড করতে ওয়েলমেস ও ওয়েলমাইল নামের ম্যালওয়্যার ব্যবহার করেছে।

মূলত ‘এপিটি২৯’ নামের একটি হ্যাকিং গ্রুপের দিকেই আঙ্গুল তুলছে এনসিএসসি। ওই গ্রুপটি ‘দ্য ডিউকস’ ও ‘কোজি বিয়ার’ নামেও পরিচিত।

এনসিএসসি বলছে, ওই হ্যাকিং গ্রুপটি যে রাশিয়ান গোয়েন্দা সংস্থার একটি অংশ সে ব্যাপারে তারা ৯৫ শতাংশেরও বেশি নিশ্চিত।

এর আগেও গ্রুপটি ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় ইউএস ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটির (ডিএনসি) মেইল হ্যাক করার সঙ্গে জড়িত ছিল।

২০১৭ সালে এই হ্যাকিং গ্রুপটি নরওয়ের লেবার পার্টি, প্রতিরক্ষা এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি দেশটির জাতীয় সুরক্ষা সংস্থায়ও আক্রমণ করেছে।

Comments