৫ মাস পর আরেক কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার ভিডিও প্রকাশ, নিউইয়র্কের ৭ পুলিশ বরখাস্ত

যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচ মাস পর প্রকাশ্যে এলো পুলিশি নির্যাতনে আরেক কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার ঘটনা। নিউইয়র্কের রচেস্টারে ড্যানিয়েল প্রুড (৪১) নামে এক কৃষ্ণাঙ্গকে ‘শ্বাসরোধ করে’ হত্যার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
Daniel Prude.jpg
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচ মাস পর প্রকাশ্যে এলো পুলিশি নির্যাতনে আরেক কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার ঘটনা। নিউইয়র্কের রচেস্টারে ড্যানিয়েল প্রুড (৪১) নামে এক কৃষ্ণাঙ্গকে ‘শ্বাসরোধ করে’ হত্যার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

পুলিশের নির্মম অত্যাচারের একটি ভিডিও জনসমক্ষে এনেছে ড্যানিয়েল প্রুডের পরিবার।

এ ঘটনায় সাত পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রচেস্টারের মেয়র লাভলি ওয়ারেন।

বিবিসি জানায়, গত ২৩ মার্চ জো নামের একজন তার ভাইয়ের তীব্র মানসিক সমস্যার কথা জানিয়ে নিউইয়র্কের রচেস্টার পুলিশের সাহায্য চান।

বুধবার সংবাদ সম্মেলনে জো বলেন, ‘আমি আমার ভাইকে সাহায্য করার জন্য পুলিশ ডেকেছিলাম, তাকে মেরে ফেলতে নয়।’

পুলিশ উপস্থিত হওয়ার আগে প্রুড হাল্কা তুষারপাতের মধ্যে নগ্ন হয়ে রাস্তায় দৌড়াদৌড়ি করছিলেন। তিনি ‘আমি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত’ বলেও চিৎকার করছিলেন।

বডি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, ঘটনাস্থলে পুলিশ আসার পর প্রুড কর্মকর্তাদের নির্দেশ মেনেছেন। পুলিশের কর্মকর্তারা যখন তাকে মাটিতে শুয়ে হাত পেছনে রাখতে বলেন, তখনো তিনি ‘অবশ্যই, অবশ্যই’ বলেছেন।

এরপর হঠাৎ করে প্রুড উত্তেজিত হয়ে ওঠেন, ঘিরে থাকা কর্মকর্তাদের গালি দেন ও থুতু নিক্ষেপ করতে থাকেন।

তবে ফুটেজে পুলিশের কাজে তাকে শারীরিকভাবে কোনোধরনের বাধা দিতে দেখা যায়নি।

প্রুড পুলিশকে জানান, তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। এরপরই পুলিশ সদস্যরা তাকে ‘স্পিট হুড’ পরিয়ে দেন।

‘স্পিট হুড’ মূলত সন্দেহভাজনদের থুথু বা শ্লেষ্মা থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের রক্ষা করে।

ভিডিওতে এরপর পুলিশের এক সদস্যকে দুই হাত দিয়ে প্রুডের মুখ রাস্তার উপর ঠেসে ধরতে ও ‘থুথু দেওয়া বন্ধ করো’ বলতে শোনা গেছে।

এরপরই প্রুড শান্ত ও নির্জীব হয়ে যান। অ্যাম্বুলেন্সে তোলার আগে স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রুডের জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করেন।

এক সপ্তাহ পর, ৩০ মার্চ তার লাইফসাপোর্ট খুলে নেওয়া হয়।

পাঁচ মাস পর ফুটেজ প্রকাশের পর আবারও যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন চাঙা হয়ে উঠেছে।

বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে মেয়র ওয়ারেন বলেন, ‘প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোগত বর্ণবাদই ড্যানিয়েল প্রুডের মৃত্যুর কারণ। আমি এটা অস্বীকার করব না। আমি এর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছি। ন্যায়বিচারের আহ্বান জানিয়েছি।’

প্রুডের মেয়ে তাসিরা প্রুড বৃহস্পতিবার সিএনএনকে বলেন, ‘জড়িত থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার করে হত্যাকারী হিসেবে বিচার করা উচিত।’

Comments

The Daily Star  | English

New School Curriculum: Implementation limps along

One and a half years after it was launched, implementation of the new curriculum at schools is still in a shambles as the authorities are yet to finalise a method of evaluating the students.

41m ago