বাটলার ঝড়ে সিরিজ ইংল্যান্ডের

অ্যারন ফিঞ্চের দলের মাঝারি পূঁজি উড়ে গেছে জস বাটলারের ব্যাটের ঝাঁজে।
jos buttler
অস্ট্রেলিয়াকে যেন তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেওয়ার উল্লাস বাটলারের। ছবি: রয়টার্স

আগের ম্যাচে অনায়াসে জেতার মতো অবস্থা থেকে হেরে বসেছিল অস্ট্রেলিয়া। তবু সে ম্যাচে লড়াই হয়েছিল সমানে সমান। এবার ইংল্যান্ডের কাছে যেন পাত্তাই পেল না অ্যারন ফিঞ্চদের দল। তাদের মামুলি পূঁজি উড়ে গেছে জস বাটলারের ব্যাটের ঝাঁজে।

সাউদাম্পটনের এইজেস বৌলে অস্ট্রেলিয়ার ১৫৭ রান ৭ বল আগে পেরিয়ে ৬ উইকেটে জিতেছে ইংল্যান্ড। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতেছে এক ম্যাচ আগেই।

দলকে জেতাতে ৫৪ বলে ৭৭ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে অপরাজিত ছিলেন কিপার ব্যাটসম্যান জস বাটলার।

১৫৮ রানের লক্ষ্যে নেমে জনি বেয়ারস্টো আবারও করেছেন হতাশ। এবার মিচেল স্টার্কের বলে হিট উইকেট হয়ে থেমেছেন ৯ রানে। ১৯ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর লম্বা সময় আর কোন বিপর্যয় নয়। দারুণ ছন্দে থাকা দুই ব্যাটসম্যান বাটলার আর ডেভিড মালান মিলে দ্রুত আনতে থাকেন রান, খেলতে থাকেন অনায়াসে।

অস্ট্রেলিয়ার সিরিজে ফেরার সম্ভাবনা অনেকটাই ফুরিয়ে যায় এই জুটিতে। বাঁহাতি স্পিনার অ্যাস্টন অ্যাগারের বলে ৩২ বলে ৪২ করা মালান আউট হলে ভাঙে এই জুটি। তবে দ্বিতীয় উইকেটে ততক্ষণে তারা যোগ করে ফেলেছেন ৮৭ রান। মালানের আউটের পর দ্রুত টম ব্যান্টন আর ইয়ন মরগ্যানকেও হারায় স্বাগতিকরা।

আগের ম্যাচে যে অবস্থা থেকে অস্ট্রেলিয়া হেরে বসেছিল, সেই অবস্থার পুনরাবৃত্তি উল্টোভাবে হয় কিনা এমন একটা ক্ষীণ শঙ্কা জেগেছিল। কিন্তু মঈন আলিকে নিয়ে তা ফুৎকারেই যেন উড়ান বাটলার। ৮ বাউন্ডারি আর ২ ছক্কার ইনিংসে অসিদের ম্যাচে ফেরার সব পথ বন্ধ হয়ে যায়। 

শেষ দুই ওভারে দরকার ছিল ১৮ রান। লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পার করা ১৯তম ওভারকেই টার্গেট বানিয়ে ফেলেন তারা। প্রথম বলে ১ রান নিয়ে বাটলার স্ট্রাইক দিয়েছিলেন মঈনকে।  মঈন এক ছক্কা, এক চার মেরে বাটলারকে স্ট্রাইক দেওয়ার পর বাকিটা সারেন ইংল্যান্ডের ওপেনার।  বিশাল এক ছক্কায় অসিদের আছড়ে ফেলেন গ্যালারিতে।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে গিয়ে মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় পুড়েছে অস্ট্রেলিয়া। এবার রান পাননি ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নারও। প্রথম ওভারেই ওয়ার্নারের উইকেট দিয়ে শুরু। জোফরা আর্চারের পেসে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তিনি।

অ্যালেক্স ক্যারি, স্টিভেন স্মিথরা আগের ম্যাচের মতই আসা যাওয়ার মাঝে ছিলেন। মার্কাস স্টয়নিসকে নিয়ে অধিনায়ক ফিঞ্চ চেষ্টা চালিয়েছেন। দুজনেই থিতু হয়েও শেষ পর্যন্ত টিকে আরও বড় সংগ্রহ এনে দিতে পারেননি দলকে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

অস্ট্রেলিয়া:  ২০ ওভারে ১৫৭/৭ (ওয়ার্নার ০, ফিঞ্চ ৪০, কেয়ারি ২, স্মিথ ১০, স্টয়নিস ৩৫, ম্যাক্সওয়েল ২৩, অ্যাগার ২৩, কামিন্স ১৩*, স্টার্ক ২*; আর্চার ১/৩২, উড ১/২৫, কারান ০/২৫, রশিদ ১/২৫, জর্ডান ২/৪০, মইন ০/৮)।

ইংল্যান্ড: ১৮.৫ ওভারে ১৫৮/৪ (বাটলার ৭৭*, বেয়ারস্টো ৯, মালান ৪২, ব্যান্টন ২, মর্গ্যান ৭, মইন ১৩*; স্টার্ক ১/২৫, কামিন্স ০/২৪, রিচার্ডসন ০/১৯, ম্যাক্সওয়েল ০/১৬, জ্যাম্পা ১/৪২, অ্যাগার ২/২৭)।

ফল: ইংল্যান্ড ৬ উইকেটে জয়ী

সিরিজ: ৩ ম্যাচ সিরিজে ইংল্যান্ড ২-০তে এগিয়ে

ম্যান অব দা ম্যাচ: জস বাটলার

 

Comments