খেলা

নাটকীয় জয়ে ইউএস ওপেনের নতুন রানী ওসাকা

ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ইউএস ওপেনের নারী এককে চ্যাম্পিয়ন হলেন তিনি।
naomi osaka
ছবি: রয়টার্স

প্রথম সেটে ছিটেফোঁটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করতে পারলেন না। দ্বিতীয় সেটের শুরুতে পিছিয়ে পড়লেন ২-০ গেমে। নাওমি ওসাকার শেষ ততক্ষণে দেখে ফেলেছিলেন অনেকে। তবে আসর জুড়ে র‍্যাকেট হাতে নৈপুণ্য দেখানোর পাশাপাশি বর্ণবৈষম্য ও যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশের নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরব হয়ে আলোড়ন তোলা এই টেনিস তারকা তো হাল ছাড়ার পাত্র নন! দৃঢ় মনোবল নিয়ে ঘুরে দাঁড়ালেন। ভিক্টোরিয়া আজারেঙ্কাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ইউএস ওপেনের নারী এককে চ্যাম্পিয়ন হলেন তিনি।

রবিবার নিউইয়র্কের আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে পিছিয়ে পড়েও জয় তুলে নেন ২২ বছর বয়সী ওসাকা। ফাইনালে বেলারুশের আজারেঙ্কাকে ১-৬, ৬-৩ ও ৬-৩ গেমে হারিয়ে শিরোপার উল্লাসে মাতোয়ারা হন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত জাপানিজ তারকা।

সবমিলিয়ে এটি ওসাকার তৃতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যাম। এর আগে ২০১৮ সালে ইউএস ওপেন ও ২০১৯ সালে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতেছিলেন। এখন পর্যন্ত তিনটি গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনালে উঠে প্রতিবারই বিজয়ীর বেশে কোর্ট ছাড়ার কৃতিত্ব দেখালেন তিনি। ২৬ বছর পর ফাইনালের প্রথম সেট হেরেও ইউএস ওপেনের নারী এককে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার নজির গড়লেন ওসাকা। সবশেষ ১৯৯৪ সালে একইভাবে সেরার মুকুট জিতেছিলেন স্পেনের আরান্তজা সানচেজ ভিকারিও। তিনি হারান জার্মান কিংবদন্তি স্টেফি গ্রাফকে।

অন্যদিকে, বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের সাবেক এক নম্বর তারকা আজারেঙ্কা ২০১৩ সালের পর প্রথমবারের মতো কোনো গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিলেন। চোট, মাতৃত্ব ও সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে মাঝে খেলা থেকে অনেক দিন দূরে ছিলেন তিনি। এমনকি চলতি বছরের শুরুর দিকে করোনাভাইরাসের কারণে সব ধরনের টেনিস আসর স্থগিত হয়ে যাওয়ায় অবসরের ভাবনাও জেঁকে বসেছিল। সেটা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে ইউএস ওপেনে দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চে জায়গা ঠিকই করে নিলেন ৩১ বছর বয়সী আজারেঙ্কা। কিন্তু ২০১২ ও ২০১৩ সালে জেতা দুটি অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সঙ্গে ঝুলিতে নতুন আরেকটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম যোগ করা হলো না তার।

নাটকীয় জয়ে নারী এককের বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে তৃতীয় স্থানে উঠে যাবেন বর্তমানে নয় নম্বরে থাকা ওসাকা। ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষ আজারেঙ্কাকে উদ্দেশ্য করে ঠাট্টার ছলে তিনি বলেন, ‘আমি তোমার সঙ্গে আর একটি ফাইনালেও খেলতে চাই না। আমি একটুও উপভোগ করিনি। এটা আমার জন্য খুব কঠিন ম্যাচ ছিল।’

রসিকতা বাদ দিয়ে তিনি যোগ করেন, ‘সত্যিই এটা আমার জন্য অনুপ্রেরণামূলক ম্যাচ ছিল। যখন আমি ছোট ছিলাম, তখন তোমাকে এখানে খেলতে দেখেছি। অনেক কিছু শিখেছি। তোমাকে ধন্যবাদ।’

Comments

The Daily Star  | English

Economy with deep scars limps along

Business and industrial activities resumed yesterday amid a semblance of normalcy after a spasm of violence, internet outage and a curfew that left deep wounds in almost all corners of the economy.

6h ago