ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত

রান্নার লাইনের ছয়টি ছিদ্র দিয়ে মসজিদে গ্যাস ছড়ায়

গ্যাস পাইপলাইনে থাকা ছয়টি ছিদ্র দিয়ে বের হওয়া মিথেন গ্যাসে নারায়ণগঞ্জে মসজিদের প্রায় ১৭ শতাংশ ভরে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। এমনটিই জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস এবং সিভিল ডিফেন্সের তদন্ত কমিটি।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার পশ্চিম তল্লা বাইতুস সালাম জামে মসজিদে বিস্ফোরণ। ছবি: স্টার

গ্যাস পাইপলাইনে থাকা ছয়টি ছিদ্র দিয়ে বের হওয়া মিথেন গ্যাসে নারায়ণগঞ্জে মসজিদের প্রায় ১৭ শতাংশ ভরে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। এমনটিই জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস এবং সিভিল ডিফেন্সের তদন্ত কমিটি।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে বৈদ্যুতিক স্পার্কের কারণে গ্যাসে আগুন ধরে যায়।

এই বিস্ফোরণে মারা গেছেন ৩১ জন এবং আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজ্জাদ হুসেন গতকাল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘গ্যাস লিক হওয়ায় বিস্ফোরণ ঘটেছিল। দুর্ঘটনার পর আমরা দেখতে পাই, মসজিদের প্রায় ১৭ শতাংশ বাতাস মিথেন গ্যাসে ভরা ছিল।’

তিনি জানান, তদন্ত কমিটি আগামী বৃহস্পতিবার প্রতিবেদন জমা দেবে এবং এখন তারা প্রতিবেদনটি চূড়ান্ত করছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেনেন্ট কর্নেল জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে চার সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় গত ৪ সেপ্টেম্বর।

বিস্ফোরণের কারণ উদঘাটন করতে তদন্ত কমিটি স্থানীয় জনগণ, তিতাস গ্যাস লিমিটেড কর্তৃপক্ষ, মসজিদ কমিটি এবং বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে কথা বলেছে।

তদন্ত অনুসারে, মিথেন গ্যাস বৈদ্যুতিক স্পার্কের সংস্পর্শে এসে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে। এয়ার কন্ডিশনের কারণে বিস্ফোরণ হয়নি।

তদন্ত কমিটি মসজিদের ভিতরে এবং মসজিদের গেটে গ্যাসের বুদবুদ তৈরি হওয়ার প্রমাণ পেয়েছে।

লেফটেনেন্ট কর্নেল জিল্লুর জানান, তিতাস গ্যাস শ্রমিকরা মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় খনন করে সরবরাহ পাইপে ছয়টি ছিদ্র খুঁজে পায়।

তিতাস গ্যাসের কোনো গাফিলতি খুঁজে পেয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা গ্যাস লিক হওয়ার বিষয়টিই তদন্ত করেছি।’

বিস্ফোরণের এই ঘটনায় তিতাস গ্যাস আট কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।

ফায়ার সার্ভিস এবং সিভিল ডিফেন্স কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের ২০ মিনিটের মধ্যে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেখানে মিথেন গ্যাসের উপস্থিতি পেয়েছে।

মসজিদ কমিটি এই লিক সম্পর্কে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছিল এমন কোনো প্রমাণ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মসজিদ কমিটির দাবির সপক্ষে আমরা কোনো দালিলিক প্রমাণ পাইনি।’

৪ সেপ্টেম্বর এশার নামাজের পর পশ্চিম তল্লা বায়তুস সালাত মসজিদে এই বিস্ফোরণ ঘটে। এতে অন্তত ৩৯ জন দগ্ধ হন এবং তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩১ জন মারা গেছেন।

সিআইডি এই ঘটনার পৃথক তদন্ত করছে। তাদেরও প্রাথমিক ধারণা, গ্যাস পাইপের ছিদ্র দিয়ে গ্যাস বের হওয়ার কারণেই বিস্ফোরণটি ঘটেছিল।

Comments