‘সরকারের বেসরকারিকরণ হয়ে গেছে’

তনুর কথা মনে আছে? ধর্ষণের পর যাকে হত্যা করা হয়েছিল। আমরা প্রায় ভুলেই গেছি তনুকে। ত্বকীকে কি মনে রেখেছি আমরা? আমরা কি ভুলে গেলাম মেজর (অব.) রাশেদকে? এসব প্রশ্নের হয়ত সরল উত্তর নেই।
(ওপরের সারিতে বাঁ থেকে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সামাদ, আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল ও (নিচের সারিতে বাঁ থেকে) অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজিম উদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত

তনুর কথা মনে আছে? ধর্ষণের পর যাকে হত্যা করা হয়েছিল। আমরা প্রায় ভুলেই গেছি তনুকে। ত্বকীকে কি মনে রেখেছি আমরা? আমরা কি ভুলে গেলাম মেজর (অব.) রাশেদকে? এসব প্রশ্নের হয়ত সরল উত্তর নেই।

একের পর এক ঘটনা ঘটে। ঘটনায় চাপা পড়ে যায় ঘটনা। রটে যায় চাপা পড়া ঘটনাটির আর কূল-কিনারা হবে না। যা ক্রমান্বয়ে মানুষের বিশ্বাসে পরিণত হয়ে যাচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের পক্ষ থেকে কথা বলা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সামাদ, একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল ও অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজিম উদ্দিনের সঙ্গে।

একের পর এক হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠনসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কাজকে লুম্পেন কালচার বলে অভিহিত করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) এবং সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ। তিনি বলেন, ‘মার্কস-এঙ্গেলের কথায় এটি হচ্ছে, লুম্পেন প্রলেতারিয়েত। প্রলেতারিয়েত হচ্ছে দরিদ্র ও সর্বহারা মানুষ। আর লুম্পেন মানে নির্বোধ। বিদ্যায়, অর্থে, মানসিকতায় প্রলেতারিয়েতদের সংস্কৃতি হচ্ছে লুট করা, খুন করা, ধর্ষণ করা। এদের কোনো বোধ নেই, বিচার করার ক্ষমতা নেই।’

বাংলাদেশের একাডেমিকভাবে শিক্ষিত মানুষও এই সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে এই কাজে যারা যুক্ত হচ্ছে তারা বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ থেকে যুক্ত হচ্ছে। তরুণরা, কিশোররা এই কাজে যুক্ত হচ্ছে। তারা তো দরিদ্র না।’

আমাদের দেশে অর্থবিত্তের মালিকরাই আরও অর্থবিত্তের লোভে লুম্পেন প্রলেতারিয়েত গোষ্ঠীর মতো আচরণ করছে উল্লেখ করে ড. মুহাম্মদ সামাদ বলেন, ‘অর্থবিত্ত থাকার পরও যারা আরও অর্থবিত্ত চায়, তাদের সঙ্গে জড়িত আছেন রাজনৈতিক নেতারা। রাজনীতিবিদরা এদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রশ্রয় দিচ্ছেন। রাজনীতিবিদদের কাজ হচ্ছে সমাজের অন্যায়, অত্যাচার, নির্মমতা, অমানবিকতা দূর করা, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। তারাই অর্থের লোভে বিপরীত কাজ করছেন। খবরে একদিন দেখলাম, এক এমপি ২৫টি বাড়ি আর হাজার কোটি টাকার মালিক। নিয়মিতই এমন খবর আসছে যে বিভিন্নজন শত শত কোটি টাকার মালিক। তারা তো অশিক্ষিত না। তাদের এই সম্পদের লোভের কারণ হচ্ছে জ্ঞান তাদের প্রভাবিত করে না। তাদের জ্ঞানের জায়গায় লুম্পেন ঢুকে গেছে।’

এই অবস্থা পুরো সমাজেই প্রভাব বিস্তার করে ফেলেছে বলে মনে করেন তিনি। ‘সমাজ সংস্কারের দায়িত্ব যাদের তারাই যদি লুম্পেন হয়, তাহলে সমাজে এ ধরনের ঘটনা ধারাবাহিকভাবে ঘটতে থাকবে,’ যোগ করেন তিনি।

লেখক, রাজনীতি-বিশ্লেষক, কলামিস্ট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘সারা পৃথিবীতেই এরকম চাঞ্চল্যকর ঘটনা একটার পর একটা ঘটতেই থাকে। কিন্তু, উন্নত দেশগুলোতে ইনবিল্ট সিস্টেম আছে, সরকারি প্রতিষ্ঠান আছে, আইন আছে এবং জবাবদিহিতা আছে। ফলে সেগুলোর বিচার নিয়ম অনুযায়ী হয়।’

প্রশ্ন রেখে আসিফ নজরুল বলেন, ‘একটা ঘটনার বিচারের জন্য গণমাধ্যমকে, জনগণকে সারাক্ষণ লেগে থাকতে হবে কেন? এর জন্য তো আমরা ট্যাক্স দেই। পুলিশ, বিচার বিভাগ তাদের কাজ করবে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কাজ করে না বলেই আমাদের লেগে থাকতে হয় এবং আমাদের মধ্যে এক ধরনের হতাশার তৈরি হচ্ছে। কারণ লেগে না থাকলে বিচার হচ্ছে না। পৃথিবীতে আর কোথায় আছে যে, একটা চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে আর তার বিচারের জন্য মানুষ সারাক্ষণ লেগে আছে? মানুষের কী আর কাজ নেই? সারা পৃথিবীতে খুন হচ্ছে না? ধর্ষণ হচ্ছে না? দুর্নীতি হচ্ছে না? হচ্ছে এবং নিয়মতান্ত্রিকভাবেই তার বিচার হচ্ছে।’

বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এক্ষেত্রে চরম ব্যর্থ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশে আইনের শাসন বলে কিছু নেই, প্রতিষ্ঠান বলে কিছু নেই, জবাবদিহিতা নেই, সমস্ত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ভেঙ্গে পড়েছে। এখন একটা ইনফরমাল প্রতিষ্ঠান হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ দাঁড়িয়েছে। ফরমাল প্রতিষ্ঠানগুলো কোথায়, যাদের আমরা টাকা দিয়ে পালন করি? সংসদীয় কমিটি কোথায়? যাদের বিচার করার কথা, তারা কোথায়? পুলিশ কোথায়? মানবাধিকার সংস্থা কোথায়? তথ্য কমিশন কোথায়? তারা তো এগুলো দেখার জন্য ফরমাল দায়িত্বপ্রাপ্ত। তারা দেখে না বলেই আমাদের দেখতে হয়, কথা বলতে হয়। আমরা ভাবতে  শুরু করি যে আমরা না দেখলেই এটা এমন হয়ে যায়, ঘটনা চাপা পড়ে যায়।’

আলোচনায় থাকলেই সব ঘটনার বিচার হয় বা সমাধান হয় বলে মনে করেন না আসিফ নজরুল। উদাহরণ দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড, তনু হত্যাকাণ্ড, নির্বাচনে কারচুপি, ভুয়া নির্বাচন নিয়ে বহু আলোচনা হয়েছে। কিন্তু, এসবের বিচার হয়নি। আলোচনায় থাকলে কিছু ক্ষেত্রে বিচার হয় কিছু ক্ষেত্রে হয় না।’

বিচারের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বিবেচনার বিষয় হয়ে ওঠে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেখা যায়, যে বিচারটা করলে সরকার বিপদে পড়বে, সেটার বিচার করে না। যে বিচারটা করলে সরকারের তেমন কোনো অসুবিধা নেই, সে বিচারটা করা হয়। রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে নয়ন বন্ডের মতো দু-একজন মারা গেলে সরকারের কোনো অসুবিধা নেই। সাহেদের বিচার হলে সরকারের কী আসে যায়? সাহেদের জায়গায় যদি সরকারের অতি উচ্চ পর্যায়ের কোনো নেতাকে নিয়ে এই আলোচনা হতো তাহলে তার বিচার হতো না। যে কারণে নারায়ণগঞ্জের ত্বকী হত্যার বিচার হয় না।

তিনি বলেন, ‘পত্রপত্রিকায় দেখলাম, সাবরিনাকে নাকি চিকিৎসক নেতারা নিয়ে গিয়েছিলেন বলেই তিনি কাজ পেয়েছিলেন। সেই নেতাদের নাম কী প্রকাশ্যে এসেছে? সাহেদ আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটিতে এসেছেন কার মাধ্যমে? তার নাম কি আমরা বলতে পারছি, পত্রিকা কি তাদের নাম লিখতে পারছে? গণমাধ্যমে চুনো পুঁটিদের নিয়ে লেখালেখি করলে তাদের বিচার হচ্ছে কিন্তু, রাঘব বোয়ালদের বিচার হয়নি। তনু বা সাগর-রুনি হত্যার বিচার কেন হচ্ছে না তা নিয়ে গণমাধ্যম হাইপ তুলতে পেরেছে? পারেনি। এই ক্ষেত্রেও আমাদের সীমাবদ্ধতা আছে।’

তবে, বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে গণমাধ্যম একটি বড় ভূমিকা রাখছে বলে মনে করেন আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, ‘জাহালমের ঘটনাটি দেখেন। এর সঙ্গে কোনো রাজনীতি জড়িত নেই। কত বড় একটা অন্যায় হয়ে যাচ্ছিল। রোজিনার মতো গণমাধ্যমকর্মী এর পেছনে দিনের পর দিন লেগে ছিলেন বলেই জাহালম আজ ন্যায় বিচার পেলেন।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন মনে করেন বিচারিক ব্যবস্থা ঠিকভাবে কাজ না করার ইঙ্গিত হচ্ছে একটি ঘটনার নিচে আরেকটি ঘটনা চাপা পড়ে যাওয়া এবং বিচার না হওয়া। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকটি মামলা যদি তার সঠিক গতিতে চলত, তাহলে চাঞ্চল্যকর মামলাগুলোর রায় অগ্রাধিকার দিয়ে ১০, ১৪ বা ৪৫ কার্যদিবসে দিতে হতো না। এখানে মানুষের ভেতরে থাকা ক্ষোভের মূল্যায়ন করা হচ্ছে।’

উচ্চ এবং নিম্ন আদালতে প্রায় ৩৫ লাখ মামলা বিচারাধীন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এসব মামলার মধ্যে সামগ্রিক হিসেবে শাস্তি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ক্ষেত্রে এবং ধর্ষণের ক্ষেত্রে এই হার তিন শতাংশ। সব মিলিয়ে প্রমাণিত হয় যে, বাংলাদেশে ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেম এবং জুডিশিয়াল জাস্টিস সিস্টেম প্রায় ডিজফাংশনাল।’

‘এর মধ্যে যেসব মামলা চাঞ্চল্যকর সেগুলো দ্রুত রায় দেওয়া হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় নুসরাত হত্যা মামলা বা রিফাত হত্যা মামলার কথা। এরকম ঘটনা তো আরও ঘটছে, সেক্ষেত্রে তো এভাবে রায় দেওয়া হচ্ছে না। সেসব মামলায় তো এভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। আমাদের জুডিশিয়াল পদ্ধতির উদ্দেশ্য ছিল ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। কিছু কিছু মামলার ক্ষেত্রে চমক সৃষ্টি করার প্রবণতা এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি। এই শাস্তি দেখে কিন্তু অপরাধীরা নিবৃত হচ্ছে না। যে কোনো কিছুর সুফল পেতে হলে পুরো সিস্টেম ঠিক করতে হবে। আপনার সারা শরীরে যদি ক্ষত থাকে তাহলে নির্দিষ্ট একটি ক্ষততে অ্যান্টিবায়োটিক বা অয়েনমেন্ট লাগিয়ে তো সুস্থ হতে পারবেন না,’ বলেন শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন।

তিনি আরও বলেন, ‘গণমাধ্যম সচেতন করার কাজ করতে পারে, তবে মূল দায়িত্ব সরকারের। সরকার ঠিক মতো কাজ না করলে জনগণের দায়িত্ব প্রতিবাদ করা।’

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজিম উদ্দিন মনে করেন কোনো ঘটনা তুলে ধরার ক্ষেত্রে মিডিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি বলেন, ‘আমরা ঘটনা দেখতে পাই মিডিয়ার মাধ্যমে। মিডিয়া যে ঘটনা যেভাবে তুলে ধরে সেভাবেই আমরা দেখি। মিডিয়াও তো এই রাজনীতির বাইরের কিছু না। যার কারণে মিডিয়া একটি ঘটনা থেকে আরেকটি ঘটনায় এমনভাবে নিয়ে যায়, যাতে পেছনের ঘটনাটি আমরা ভুলে যেতে পারি। এটাকে আমি মনে করি মিডিয়ার রাজনীতি।’

এসবের পেছনে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রভাব রয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এখন মিডিয়া স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহের চাইতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে বেশি। র‌্যাব বা পুলিশের কাছ থকে সংবাদ সংগ্রহ করে সেটা প্রকাশ করা হচ্ছে। যার ফলে প্রকৃত সত্য বা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠার মতো ঘটনা আড়ালে চলে যাচ্ছে। এটি আমাদের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রভাবে হচ্ছে। ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও অনেকে ঘটনার পেছনের ঘটনা তুলে আনতে পারছে না। ফলে, সরকার যেটি আমাদের সামনে যেভাবে আনতে চায় সেটি সেভাবেই আসছে।’

এর থেকে উত্তরণের পথ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তানজিম উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের দেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি অলিখিত জরুরি অবস্থা চলছে। ২০০৭ সালে যে পরিস্থিতি ছিল, বিশেষ করে ২০১৮ সালের নির্বাচন পরবর্তী সময়কে আমার মনে হয় অলিখিত জরুরি অবস্থা। এই জায়গা থেকে বের হয়ে আসতে না পারলে সেটি কারও জন্যই ভালো কিছু হবে না। এ রকম পরিস্থিতিতে সরকারও প্রকৃত সত্য জানতে পারে না। কোথা থেকে কোন ঝুঁকি বা বিপদ তৈরি হচ্ছে সেটাও আঁচ করা সম্ভব হয় না। ঝুঁকিগুলো ফিল্টার করে বড় ঘটনাকেও সাধারণ বলে প্রচার করা হচ্ছে।’

সরকারের অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার তো আসলে সরকার নেই, এটা বে-সরকার। সরকার যদি সরকার হয় তাহলে তো মানুষের কথা ভাববে। সরকার হয়ে উঠছে ব্যবসায়ী। সরকার তো ব্যবসায়ী হতে পারে না। তার কাজ একটি মূল্যবোধের মাধ্যমে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা, সমাজের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্কের একটি ভারসাম্য তৈরি করা। সরকার যদি ব্যবসায়ী হয়ে যায় তাহলে সমাজের সঙ্গে সেই সম্পর্কটা তো থাকে না। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ব্যাংকগুলোর ক্ষতি হলেও ব্যবসায়ীদের লাভ নিশ্চিত করতে হবে। মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বশীল একটি পদে থেকে তিনি যদি এই বিষয়কে এভাবে দেখেন তাহলে তো এটা স্পষ্ট যে সরকার আসলে সরকার নেই, সরকারের বে-সরকারিকরণ হয়ে গেছে। এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।’

সরকারের এই সমস্যা কাঠামোগত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই সরকার সরে গিয়ে অন্য সরকার আসলেই যে এই সমস্যার সমাধান হবে তা না। এই কাঠামো থেকে বের হতে হলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে কিছু মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে। দুর্ভাগ্যবশত ১৯৭১ সালে যে চেতনায় দেশ স্বাধীন হয়েছিল আমরা সেই চেতনা ধারণ করতে পারিনি। ফলে, আমি মনে করি এখনও আমরা ঔপনিবেশিক পরম্পরার মধ্যেই আছি। এই পরম্পরার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, ক্ষমতাবানদেরই রক্ষা করে রাষ্ট্র। রাষ্ট্রের সমস্ত আয়োজনই থাকে ক্ষমতাবানদের রক্ষার। বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর থেকে যে সরকারই ক্ষমতায় এসেছে, তারা সবাই এই আয়োজনটিই করেছে। এ কারণেই দেশে একটি অলিখিত জরুরি অবস্থার তৈরি হয়েছে। এর জন্য আমি এককভাবে কাউকে দায়ী করি না। সামগ্রিক রাজনীতির বিকাশ এভাবে হওয়াতে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।’

Comments

The Daily Star  | English
IMF loan conditions

3rd Loan Tranche: IMF team to focus on four key areas

During its visit to Dhaka, the International Monetary Fund’s review mission will focus on Bangladesh’s foreign exchange reserves, inflation rate, banking sector, and revenue reforms.

12h ago