জাবিতে অনলাইনে শিক্ষক নিয়োগ বন্ধের দাবি শিক্ষকদের একাংশের

করোনাকালীন বন্ধে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইনে মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের একাংশ।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক। ফাইল ছবি

করোনাকালীন বন্ধে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইনে মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের একাংশ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব রিমোট সেন্সিং (আইআরএস) এর দুইবার স্থগিতকৃত নিয়োগ বোর্ডের পুনরায় আহ্বানকে কেন্দ্র করে আজ বিকেলে অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’। 

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক খবির উদ্দিনের ভাষ্য, সীমিত শিক্ষা কার্যক্রমে নতুন শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া অগ্রহণযোগ্য। অনলাইনে বোর্ডের মাধ্যমে নিয়োগ হলে মান যাচাই যথাযথভাবে হবে না এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হবে।

তবে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিয়মিত আপগ্রেডেশন প্রক্রিয়া অনলাইনে চালু রাখা যৌক্তিক বলে মনে করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তার উত্থাপিত দাবির মধ্যে রয়েছে--সিন্ডিকেটে কমিটির কার্যক্রম দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ করা; আইআরএস নিয়ে উত্থাপিত সকল অভিযোগ একাডেমিক কাউন্সিলে আলোচনা করা এবং সরাসরি পরীক্ষার মাধ্যমে প্রয়োজন অনুসারে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া।

লিখিত বক্তব্যে অধ্যাপক খবির উদ্দিন বলেন, ‘যে ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থী নেই, সিলেবাস এখনো পাশ হয়নি, যার গঠন কাঠামো নিয়ে আপত্তি রয়েছে সিন্ডিকেট কমিটির কোনো সমাধান ছাড়াই হঠাৎ নিয়োগ বোর্ড আহ্বান করায় আমাদের মনে প্রশ্নের উদ্রেক করে।’

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও জানান, এর আগে দুইবার সিলেকশন বোর্ড ডাকা হলেও শিক্ষকদের বাধায় তা স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে এই ইনস্টিটিউট সংক্রান্ত বিষয়টি দেখার জন্যবিশ্ববিদ্যালয়ের দুই উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষসহ পাঁচ সদস্যের কমিটি করেন উপাচার্য। কিন্তু সেই কমিটি এখন পর্যন্ত কোন বৈঠক করতে পারেনি।

এই নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত না করলে উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য উপাচার্য দায়ী থাকবেন বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় সংবাদ সম্মেলনে।

কমিটির একজন সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক শামসুল আলম দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, গত কিছুদিন আগে তিনি আইআরএস এর নামকরণ বিষয়ক গঠিত একটি কমিটির চিঠি পেয়েছেন। কিন্তু কোনো বৈঠকের খবর পাননি।

কমিটির প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আমির হোসেন বলেন, ‘কমিটির প্রধান হিসেবে আমি কোনো অফিসিয়াল চিঠি পাইনি। যার কারণে মিটিং ডাকা হয়নি। আর করোনা পরিস্থিতির কারণে আসলে কোনো উদ্যোগ নেওয়াও সম্ভব হয়নি।’

এই বিভ্রান্তির ব্যাপারে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে একাধিকবার ফোন ও মেসেজ পাঠালেও কোন উত্তর পাওয়া যায়নি। 

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের বার্ষিক সিনেট অধিবেশনে ইনস্টিটিউট অব রিমোট সেন্সিং-এর অনুমোদন দেওয়া হয়, যা পরবর্তী পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) নাম পরিবর্তনসহ কিছু শর্ত সাপেক্ষে অনুমোদন দেয়। কিন্তু এই ইনস্টিটিউটের গঠন এবং অনুমোদন নিয়ে শুরু থেকেই ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’ এবং ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ আপত্তি জানিয়ে আসছে।

এ ছাড়া ইউজিসির শর্ত হিসেবে আইআরএস শুধু মাস্টার্স প্রোগ্রাম চালু করলে ভূগোল বিভাগের সঙ্গে বস্তুগত বিষয়ে সম্পূর্ণ মিলে যায়। ফলে ভূগোলে অনার্স করা শিক্ষার্থীরা আইআরএস-এ মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তি হলে ভূগোল বিভাগের চলমান মাস্টার্স প্রোগ্রাম ব্যাহত হবে দাবি তুলে ভূগোল বিভাগ একাডেমিক কমিটিতে সিদ্ধান্ত নেয়। প্রতিবাদ হিসেবে ভূগোল বিভাগের একাডেমিক কমিটি থেকে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের জন্য নতুন সিলেবাস না করারও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সভাপতি ও জীববিজ্ঞান অনুষদের ডীন অধ্যাপক আব্দুল জব্বার হাওলাদার, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার হাসান মাহমুদ, সহযোগী অধ্যাপক উম্মে সায়কা, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার প্রমুখ।

Comments

The Daily Star  | English
fire incident in dhaka bailey road

Fire Safety in High-Rise: Owners exploit legal loopholes

Many building owners do not comply with fire safety regulations, taking advantage of conflicting legal definitions of high-rise buildings, said urban experts after a deadly fire on Bailey Road claimed 46 lives.

1h ago