বিদ্যুৎহীন সিলেট, জনজীবন বিপর্যস্ত

অগ্নিকাণ্ডের কারণে ২৪ ঘণ্টা সিলেট জেলা ও সুনামগঞ্জের কিছু অংশ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সিটি করপোরেশন এলাকায় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া, বিঘ্নিত হচ্ছে জরুরি সেবা।
ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি ইউনিটের প্রচেষ্টায় প্রায় ২ ঘণ্টা পর সিলেট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ছবি: সংগৃহীত

অগ্নিকাণ্ডের কারণে ২৪ ঘণ্টা সিলেট জেলা ও সুনামগঞ্জের কিছু অংশ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সিটি করপোরেশন এলাকায় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া, বিঘ্নিত হচ্ছে জরুরি সেবা।

আজ বুধবার সকালে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী (বিক্রয় ও বিতরণ) খন্দকার মোকাম্মেল হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, আমাদের প্রায় চার শ কর্মী কাজ করছেন। কখন বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে তা বলা যাচ্ছে না। তবে আমরা চেষ্টা করবো পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের দুটি আলাদা কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। তিন কর্মদিবসের মধ্যে কমিটির প্রতিবেদন দেওয়ার কথা। আগামীকাল তিন কর্মদিবস শেষ হবে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের পানি সরবরাহ শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী আলী আকবর বলেন, গতকাল শহরে মাইকিং করা হয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে না। গতকাল অগ্নিকাণ্ডের আগে প্রায় এক কোটি লিটার পানি সরবরাহ করেছি আমরা। নগরীর মোট চাহিদা ৮ কোটি লিটারের মধ্যে চার থেকে পাঁচ কোটি লিটার পানি সিটি করপোরেশন সরবরাহ করতে পারে। হঠাৎ বিদ্যুৎ বিভ্রাট হওয়ায় তীব্র পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

সিলেটের বাগবাড়ি, মদিনা মার্কেট, পাঠানটুলা, কালীবাড়ী, হাওলদারপাড়া, শিবগঞ্জ, রায়নগর, কুমারপাড়া, ঝরনারপাড়, শেখঘাট, চালিবন্দর, কামালগড়, ছড়ারপাড়, লামাবাজারসহ ২৭টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের পানির খোঁজে বের হতে দেখা গেছে। বন্ধ হয়ে গেছে গৃহস্থালি কাজ।

নগরীর দক্ষিণ সুরমা এলাকার বাসিন্দা আলাউদ্দিন আহমদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। মোবাইল ফোনে চার্জ নাই। কতক্ষণে পরিস্থিতি স্বভাবিক হবে কিছু বোঝা যাচ্ছে না। মোবাইল ফোন চার্জ করাতে অনেকে হোটেল ও রেস্টুরেন্টে ভিড় জমাচ্ছেন। তারা ব্যক্তিগত জেনারেটর ব্যবহার করে ৫০ টাকার বিনিময়ে মোবাইল চার্জ করে দিচ্ছে।’

একই এলাকার বাসিন্দা জাহেদা আক্তার বলেন, ‘দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজের খাবার নষ্ট হতে শুরু করেছে।’

সিলেটের শাহী ঈদগাহ এলাকার বাসিন্দা রাজীব রাসেল বলেন, ‘খাবার পানি কিনে খাচ্ছি, কিন্তু সব এলাকা তো পুকুর নেই। গৃহস্থালি কাজ, গোসল এসব বন্ধ হয়ে গেছে।’

দেব কল্যাণ ধর দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘অনেকে ব্যক্তিগতভাবে মোটর দিয়ে পানি তুলে দিচ্ছে। বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা পানির জন্য ঘুরছেন।’

নয়াসড়ক এলাকার বাসিন্দা তানবীর রুহেল বলেন, ‘মোবাইল নেটওয়ার্ক খুব গুরুত্বপূর্ণ। অনেক এলাকায় নেটওয়ার্ক না থাকায় পরিবার-পরিজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। কাল রাত থেকে মোমবাতি সংকট দেখা দিয়েছে। ভ্যানে করে দ্বিগুন তিন গুন বেশি দামে পানি বিক্রি করছে। যেসব এলাকায় পুকুর বা দিঘি আছে সেখানার মানুষ কিছুটা স্বস্তিতে আছেন।

গতকাল সকাল পৌনে ১১টার দিকে সিলেটের আখালিয়ার কুমারগাঁও বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পরে সিলেট জেলা ও সুনামগঞ্জের কিছু অংশ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে।

Comments

The Daily Star  | English
Bangladesh lacking in remittance earning compared to four South Asian countries

Remittance hits eight-month high

In February, migrants sent home $2.16 billion, up 39% year-on-year

2h ago