নারায়ণগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ বাবা-মেয়ের মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলায় অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে দীপায়ন সরকার (৩৫) ও তার মেয়ে দিয়া রানী সরকার (৫) মারা গেছেন। এ ঘটনায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় এখনো চিকিৎসাধীন দীপায়নের স্ত্রী পপি সরকার (২৮)।
স্টার অনলাইন গ্রাফিক্স

নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলায় অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে দীপায়ন সরকার (৩৫) ও তার মেয়ে দিয়া রানী সরকার (৫) মারা গেছেন। এ ঘটনায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় এখনো চিকিৎসাধীন দীপায়নের স্ত্রী পপি সরকার (২৮)। 

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল শনিবার রাতে তাদের মৃত্যু হয়।

দীপায়ন নেত্রকোণার ইছাপুর এলাকার রাম গোপল সরকারের ছেলে।

দগ্ধ পপি সরকারের বরাত দিয়ে দীপায়নের বড় বোনের জামাতা সুসেন সরকার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘শুক্রবার মধ্য রাতে গ্যাস লাইটার দিয়ে মশার কয়েল ধরাতে গেলে রুমের মধ্যে আগুন লেগে যায়। সেসময় তাদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে আগুন নিভিয়ে তাদের উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসে।’

চিকিৎসকের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘দীপায়নের শরীরের ৪৮ শতাংশ, দিয়ার ৪০ শতাংশ ও পপির ৩০ শতাংশ পুড়ে গেছে। মূলত তাদের মুখমণ্ডল ও শ্বাসনালী পুড়ে গেছে। যার জন্য শনিবার রাত ১০টার দিকে দীপায়ন ও দিয়া মারা গেছে। পপির অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক বলেছেন চিকিৎসকরা।’

সুসেন সরকার বলেন, ‘গ্রামে তারা খুব কষ্টে জীবনযাপন করছিল। যার জন্য আমি তাদের বলেছিলাম শহরে আসলে স্বামী-স্ত্রী দুইজনের কাজের ব্যবস্থা করে দেবো। মেয়েটাকে এখানে ভালো স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেবো। এজন্য এখানে বাসাও ঠিক করে দেই। যার জন্য ১০ দিন আগে গ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জে আসে তারা। কয়েক জায়গায় কাজের জন্য কথাও চলছিল। এর মধ্যে কীভাবে কী হয়ে গেল, কিছুই বুঝতে পারছি না।’

‘এক তলা ভবনের এক রুমের একটি বাসা নিয়েছি। পাশেই রান্না ঘর ছিল। হয়তো রান্না শেষে গ্যাস ভালোভাবে বন্ধ করেনি। যার জন্য গ্যাস লিকেজ হয়ে ঘরের ভেতর গ্যাস জমে ছিল। যখনই গ্যাস লাইটা দিয়ে কয়েল ধরাতে গেছে, তখনই আগুন জ্বলে উঠেছে’, বলেন তিনি।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘শনিবার রাতে বাবা ও মেয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। স্ত্রীর অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক। তাদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য সব ধরনের সহযোগিতা করা হয়েছে।’

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘শুক্রবার রাতে আমরা কোনো আগুনের সংবাদ পাইনি। অনেক সময় নিজেরা আগুন নিভিয়ে দগ্ধদের ঢাকায় নিয়ে গেলে আমাদের জানানো হয় না।’

Comments

The Daily Star  | English

44 lives lost to Bailey Road blaze

33 died at DMCH, 10 at the burn institute, and one at Central Police Hospital

9h ago