শীর্ষ খবর

২০২৫ সালের মধ্যে ১০ বছরের বেশি বয়সী সবাই পাবে স্মার্ট এনআইডি কার্ড

আইডিইএ প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপে ১০ বছরের বেশি বয়সী সব নাগরিকের হাতে স্মার্ট এনআইডি কার্ড তুলে দিতে একটি প্রস্তাব তৈরি করেছে নির্বাচন কমিশন।

আইডিইএ প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপে ১০ বছরের বেশি বয়সী সব নাগরিকের হাতে স্মার্ট এনআইডি কার্ড তুলে দিতে একটি প্রস্তাব তৈরি করেছে নির্বাচন কমিশন।

প্রকল্পের প্রথম পর্যায় শেষ করতে কমিশন চার বার সময়সীমা বাড়িয়েছে। ফলে বেড়ে গেছে প্রকল্পের খরচ। তা সত্ত্বেও দ্বিতীয় পর্যায়ের এই পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৫ সালের মধ্যে বয়স ১০ বছরের বেশি হবে এমন ১৭ কোটি ৭৩ লাখের বেশি নাগরিককে স্মার্ট এনআইডি কার্ড দেওয়া হবে।

প্রথম ধাপে উপজেলা পর্যায়ে প্রায় নয় কোটি ভোটারকে এনআইডি কার্ড দেওয়ার কথা ছিল। তবে এখন পর্যন্ত সাড়ে ছয় কোটি কার্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা।

চার বারের মতো বর্ধিত সময়সীমা আগামী মাসে শেষ হবে। এক হাজার ৩৭৯ কোটি টাকা থেকে বেড়ে এই প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের খরচ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৬৯৬ কোটি টাকা।

নির্বাচন কমিশন শিগগির এই প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের জন্য এক হাজার ৮০৫ কোটি টাকার বাজেট দেবে একনেকে।

গতকাল সোমবার দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর জানান, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে আজ মঙ্গলবার এই প্রস্তাব উত্থাপন করা হতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, একনেক এই প্রস্তাবকে অগ্রাধিকার দেবে।

তিনি বলেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে সব নাগরিকের কাছে পরিচয়পত্র হস্তান্তর করার আমাদের যে লক্ষ্য তার একটি অংশ এই প্রকল্পটি।’

আইডিইএ প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম জানান, তারা এনআইডি সার্ভার এবং ডেটা সেন্টারের আধুনিকীকরণের পরিকল্পনা করছে। তাদের লক্ষ্য, দেশে একটি সুরক্ষিত, নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য জাতীয় পরিচয় ব্যবস্থা রাখা। যা দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য এবং আরও দক্ষ সেবা সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী নাগরিকদের স্মার্ট এনআইডি কার্ড দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

আইডিইএ প্রকল্পের অপারেশন, পরিকল্পনা ও যোগাযোগের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্কোয়াড্রন লিডার কাজী আসিকুজ্জামান জানান, সার্ভারে ১০ কোটি ৯৮ লাখ ভোটারের তথ্য রয়েছে। ২০১৫ সালের মধ্যে আনুমানিক আরও প্রায় তিন কোটি ৯৩ লাখ নাগরিক ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হবে এবং ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী হবে প্রায় দুই কোটি ৮৪ লাখ নাগরিক।

কমিশনের এই লক্ষ্য অর্জনে ২০২৫ সাল পর্যন্ত আরও প্রায় ১০ কোটি এনআইডি স্মার্ট কার্ড তৈরি করতে হবে।

প্রকল্পে দেরি কেন?

পাঁচ বছর ধরে চলা আইডিইএ প্রকল্পের প্রথম পর্বটি শুরু হয় ২০১১ সালে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশে একটি সুরক্ষিত, নির্ভুল ও নির্ভরযোগ্য জাতীয় পরিচয় ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। ভোটার তালিকায় নিবন্ধিত প্রায় নয় কোটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে স্মার্ট এনআইডি কার্ড সরবরাহের কাজও চলছে এই প্রকল্প থেকে।

নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর জানান, তারা ২০১৭ সালে একটি নতুন প্রকল্পের প্রস্তুতি শুরু করেন, যা বিভিন্ন কারণে বিলম্বিত হয়। শেষ পর্যন্ত এর কারণেই প্রকল্পের প্রথম পর্যায় বাস্তবায়নে দেরি হয়।

দেরি হওয়ার কারণ জানাতে গিয়ে আইডিইএ প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, সময় মতো সব স্মার্ট এনআইডি কার্ড উত্পাদন ও সরবরাহের কাজ শেষ করতে না পারায় ফরাসি প্রতিষ্ঠান ওবার্থার টেকনোলজিসের সঙ্গে তাদের চুক্তি বাতিল করতে হয়েছে।

Comments

The Daily Star  | English

Lifting curfew depends on this Friday

The government may decide to reopen the educational institutions and lift the curfew in most places after Friday as the last weekend saw large-scale violence over the quota-reform protest.

12h ago