শীর্ষ খবর

নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সাইকেল মার্চ

‘ধর্ষণ, যৌন নির্যাতনসহ সকল সহিংসতার বিরুদ্ধে জেগে ওঠো বাংলাদেশ’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে নোয়াখালীতে নারীর প্রতি সহিংসতাবিরোধী সাইকেল মার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নোয়াখালীতে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সাইকেল মার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

‘ধর্ষণ, যৌন নির্যাতনসহ সকল সহিংসতার বিরুদ্ধে জেগে ওঠো বাংলাদেশ’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে নোয়াখালীতে নারীর প্রতি সহিংসতাবিরোধী সাইকেল মার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা ধর্ষণ ও যৌন হয়রানি বন্ধ, নারীদের ঘরে-বাইরে-কর্মস্থলে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা, ধর্মীয়সহ সব ধরনের সভা-সমাবেশে নারীবিরোধী বক্তব্য বন্ধ করা, যৌন হয়রানি সংক্রান্ত মামলার তদন্তে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চালুর দাবি জানান।

আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষব্যাপী প্রচারণার অংশ হিসেবে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের সহায়তায় পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যাকশন নেটওয়ার্ক-প্রান, নোয়াখালী জেলা স্কাউট এবং একশনএইড বাংলাদেশ যৌথভাবে এই সাইকেল মার্চের আয়োজন করে।

বুধবার সকাল ১১ টায় নোয়াখালী জেলা শহরের বঙ্গবন্ধু স্কয়ারের সামনে থেকে সাইকেল মার্চের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান। 

সাইকেল মার্চে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে দেড় শতাধিক তরুণ-তরুণী অংশ নেন। বঙ্গবন্ধু স্কয়ার থেকে শুরু করে নোয়াখালী শিল্পকলা একাডেমিতে এটি শেষ হয়।

জেলা প্রশাসক বলেন, মানুষকে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সচেতন করার এটি একটি যুগোপযোগী পদক্ষেপ। দেশের সাধারণ মানুষ, ছাত্র যুবা এবং কৃষকেরা যখন জেগে উঠবে নারী এবং শিশু নির্যাতন তখনই বন্ধ করা সম্ভব হবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা-আইসিটি) নোমান হোসেনি প্রিন্স।

আয়োজকরা জানান, সম্প্রতি নোয়াখালী জেলায় নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে। শুধুমাত্র অক্টোবর মাসেই নোয়াখালী জেলায় ১৯টি ধর্ষণসহ নারীর প্রতি ৪১টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।

নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে বক্তারা উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে নারী নির্যাতনবিরোধী সেল কার্যকর করা, সিডো সনদে সই ও তার পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক সব আইন ও প্রথা বিলোপ, তদন্তকালে ভুক্তভোগীকে মানসিক নিপীড়ন-হয়রানি বন্ধ করা এবং আইনগত ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধবিজ্ঞান ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞদের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অন্তর্ভুক্ত করা এবং ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়িয়ে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানান।

Comments

The Daily Star  | English