বন্য পাখির মাংসে সিলেটের পাঁচ কাউন্সিলরের ভোজ

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুরের একটি রেস্টুরেন্টে নৈশ ভোজে বন্য পাখির মাংস খাওয়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন সিটি করপোরেশনের পাঁচ কাউন্সিলর।
Sylhet_City_Councillor.jpg
সিলেট সিটি প্যানেল মেয়র ও ২৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ তৌফিক বকস, ১১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রকিবুল ইসলাম ঝলক, ৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইলিয়াছুর রহমান, ১৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল মুহিত জাবেদ ও ১০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তারেক উদ্দিন তাজ। ছবি: ফেসবুক থেকে সংগৃহীত

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুরের একটি রেস্টুরেন্টে নৈশ ভোজে বন্য পাখির মাংস খাওয়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন সিটি করপোরেশনের পাঁচ কাউন্সিলর।

গতকাল রাত ১১টা ১০ মিনিটে আপলোডকৃত দুই মিনিট নয় সেকেন্ডের ফেসবুক লাইভ ভিডিওতে দেখা যায়, তারা সবাই ডাহুক পাখির মাংস দিয়ে রাতের খাবার খেয়েছেন। সিলেট সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ও ২৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ তৌফিক বকস, ১১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রকিবুল ইসলাম ঝলক, ৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইলিয়াছুর রহমান, ১৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল মুহিত জাবেদ ও ১০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তারেক উদ্দিন তাজের সঙ্গে পারভেজ মাহমুদ অপু নামে সিলেটের এক ব্যবসায়ী এবং ভিডিও আপলোডকারী ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী রায়হান আহমদ নৈশ ভোজে অংশ নেন।

বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২ অনুযায়ী, কোনো পাখি বা পরিযায়ী পাখি বা মাংস ক্রয়-বিক্রয় অপরাধ। আইনে ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। আইনের তফসিল অনুযায়ী, দেশের স্থানীয় বন্য পাখি ধলাবুক ডাহুক নিষিদ্ধের তালিকার অন্তর্ভুক্ত।

অথচ জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর বাজার সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে অবস্থিত তারু মিয়া হোটেল, পুরাতন ড্রাইভার হোটেল, বিসমিল্লাহ হোটেলসহ বেশ কটি রেস্টুরেন্টে অবাধে বিক্রি হয় বন্য ও অতিথি পাখি।

ভিডিওতে পাখি খাওয়ার দৃশ্য পরিষ্কার দেখা গেলেও পাঁচ কাউন্সিলর বিষয় অস্বীকার করেছেন। এ ব্যাপারে তাদের কাছে জানতে চাইলে দুই জন হাসের মাংস, একজন রাজহাসের মাংস, একজন খাসির মাংস, একজন মাছ এবং একজন মুরগির মাংস খাওয়ার কথা জানান।

এদের মধ্যে কাউন্সিলর তারেক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘তারা হরিপুরের পুরান ড্রাইভার রেস্টুরেন্টে খেয়েছেন এবং সেখানে পাখি বিক্রি হতে দেখেছেন। তবে পাখির মাংস খাননি।’

রায়হান আহমদের কাছে মোবাইল ফোনে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোনের লাইন কেটে দেন এবং পরে আর তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। আজ শনিবার দুপুর ১২টার দিকে তিনি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি মুছে ফেলেন। তবে দ্য ডেইলি স্টার’র কাছে ভিডিওর কপি এবং ফেসবুকে আপলোড করার স্ক্রিনশট সংরক্ষিত রয়েছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘কেন হরিপুরের রেস্টুরেন্টগুলোতে পাখি বিক্রি বন্ধ হয় না, তার উত্তর এই ভিডিওতেই খুঁজে পাওয়া যায়। যারা আইনের সঙ্গে জড়িত তারাই যদি এদের নিয়মিত ক্রেতা হন তাহলে রেস্টুরেন্ট মালিকদের সচেতনতা কোনো কাজে দেবে না।’

তিনি বলেন, ‘এটি কেবল আইনের প্রতি অশ্রদ্ধা না, বরং অসংবেদনশীলতা। বনবিভাগের উচিত এই ভিডিওর ওপর ভিত্তি করে অনতিবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া। আর কাউন্সিলরদের উচিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে ক্ষমতা চাওয়া, যেন অন্য কেউ আর সেখানে যেতে উদ্বুদ্ধ না হন।’

বনবিভাগের বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিচালক এএসএম জহির উদ্দিন আকন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমরা সুনির্দ্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করি। হরিপুরে পাখি বিক্রির বিষয়টি আমাদের জানা নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘কাউন্সিলররা জনপ্রতিনিধি, তাদের অবশ্যই আইন মেনে চলা উচিত। তবে কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন। তারা যদি আইন অমান্য করে থাকেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Comments

The Daily Star  | English

Consumers brace for price shocks

Consumers are bracing for multiple price shocks ahead of Ramadan that usually marks a period of high household spending.

12h ago