লালমনিরহাট-কুড়িগ্রামে অনুমোদন ছাড়াই চলছে ১০৬টি ইটভাটা

লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের ১৪৪টি ইটভাটার মধ্যে মাত্র ৩৮টির বৈধ অনুমোদন আছে। বাকি ১০৬টি চলছে অনুমোদন ছাড়াই। আর ইট তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে ফসলি জমির মাটি।
Lalmonirhat_Brick_Field_18D.jpg
লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের ১৪৪টি ইটভাটার মধ্যে মাত্র ৩৮টির বৈধ অনুমোদন আছে। বাকি ১০৬টি চলছে অনুমোদন ছাড়াই। ছবি: স্টার

লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের ১৪৪টি ইটভাটার মধ্যে মাত্র ৩৮টির বৈধ অনুমোদন আছে। বাকি ১০৬টি চলছে অনুমোদন ছাড়াই। আর ইট তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে ফসলি জমির মাটি।

রংপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মেজবা-উল আলম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘লালমনিরহাট জেলার ৪৮টি ইটভাটার মধ্যে ২১টির বৈধ অনুমোদন রয়েছে। বাকি ২৭টি অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে। কুড়িগ্রামের ৯৬টি ইটভাটার মধ্যে মাত্র ১৭টির বৈধ অনুমোদন আছে। পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে কৃষি জমির ওপর গড়ে তোলায় ইটভাটাগুলোকে অনুমোদন দেওয়া হয়নি।’

কুড়িগ্রামের পরিবেশ কর্মী নাহিদ হাসান বলেন, ‘অবৈধ ইটভাটাগুলোর কারণে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। প্রতিটি ভাটায় ফসলি জমির উর্বর উপরিভাগের মাটি ব্যবহার করে ইট তৈরি হচ্ছে। প্রতিটি ইটভাটা বছরে ১০ থেকে ১৫ বিঘা জমির উর্বর উপরি অংশ তুলে নিয়ে ইট তৈরির কাজে ব্যবহার করছে।’

Lalmonirhat_Brick_Field1_18.jpg
মাটির উপরিভাগ থেকে আট ইঞ্চি গভীর পযর্ন্ত উর্বর অংশ, যাকে মাটির প্রাণ বলা হয়। ইটভাটার মালিকরা ফসলি জমির উপরিভাগ থেকে পাঁচ ফুট পর্যন্ত মাটি কেটে নিয়ে যায়। ছবি: স্টার

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শামিম আশরাফ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘মাটির উপরিভাগ থেকে আট ইঞ্চি গভীর পযর্ন্ত উর্বর অংশ, যাকে মাটির প্রাণ বলা হয়। ইটভাটার মালিকরা ফসলি জমির উপরিভাগ থেকে পাঁচ ফুট পর্যন্ত মাটি কেটে নিয়ে যায়। ফলে এসব মাটি ১২ থেকে ১৫ বছরের জন্য প্রত্যাশিত ফসল উৎপাদনে অক্ষম হয়ে যায়। আইন অনুযায়ী, ইটভাটা তৈরির আগে কৃষি বিভাগের অনুমতি নিতে হবে। কিন্তু বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না।’

লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের ধাইরখাতা গ্রামের কৃষক আবদুল মজিদ বলেন, ‘কৃষকরা ইটভাটার মালিকের কাছে জিম্মি হয়ে গেছে। নামমাত্র দামে মাটি বিক্রি করতে হয়। ইটভাটার মালিকরা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় আমরা তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারি না।’

কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলার চর রাজীবপুরের কৃষক সহিদার রহমান অভিযোগ করেন, ‘বছর বছর ধরে অবৈধভাবে ইটভাটা পরিচালিত হয়ে এলেও এগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ইটভাটার জন্য ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষিকে বাঁচাতে হলে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ইটভাটাগুলো অপসারণ করতে হবে।’

মেজবা-উল আলম আরও বলেন, ‘স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে পরিবেশ অধিদপ্তর। মালিকরা নিজেরাই অবৈধ ইটভাটা অপসারণ না করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Comments