এখনো ফল পাল্টানোর কল্পনায় ট্রাম্প, হোয়াইট হাউস ছাড়তে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন

নির্বাচনের ফল পাল্টে চেষ্টায় এখনো মরিয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প। নানাবিধ কৌশলের চেষ্টা করছেন। তার কয়েকজন উপদেষ্টাসহ ঘনিষ্ঠদের আশঙ্কা ক্ষমতার শেষ দিনগুলোতে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারেন ট্রাম্প।
Donald Trump
ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স ফাইল ফটো

নির্বাচনের ফল পাল্টে চেষ্টায় এখনো মরিয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প। নানাবিধ কৌশলের চেষ্টা করছেন। তার কয়েকজন উপদেষ্টাসহ ঘনিষ্ঠদের আশঙ্কা ক্ষমতার শেষ দিনগুলোতে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারেন ট্রাম্প।

আজ মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যম সিএনএনর এক প্রতিবেদনে এমন আশঙ্কার কথা তুলে ধরেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা গতকাল সংবাদমাধ্যমটিকে বলেছেন, ‘কেউই জানেন না সামনের দিনগুলোতে কী ঘটতে যাচ্ছে। কেননা, নিয়ম অনুযায়ী ট্রাম্প আরও প্রায় একমাস ক্ষমতায় রয়েছেন।’

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইনজীবী সিডনি পওয়েল, সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মিশেল ফ্লিন, এক সময়ের কৌশলপ্রণেতা স্টিভ ব্যানন ও বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার ন্যাভারোর মতো ‘ধুরন্ধর’ ব্যক্তিদের সম্প্রতি ওভাল অফিসে যাতায়াত করতে দেখা গেছে।

এছাড়াও, গতকাল ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী রুডি জুলিয়ানি ও সিডনি পওয়েলকে এক সঙ্গে আবারও দেখা গেছে হোয়াইট হাউসে।

অনেকের আশঙ্কা, ট্রাম্পকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে তারা হয়তো নতুন কোনো ষড়যন্ত্র করছেন।

ট্রাম্প তার প্রতিদিনের রাষ্ট্রীয় কাজ করছেন না বললেই চলে। গত সপ্তাহে মন্ত্রিসভার বৈঠকেও তিনি ‘ভোট কারচুপির’ বিষয় নিয়েই বেশি কথা বলেছিলেন। সেদিন বৈঠকের প্রকৃত বিষয় কী ছিল তা নিয়ে অনেকেই বিভ্রান্ত হয়েছিলেন।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠজনরা বলেছেন, তিনি এখনো নির্বাচনের ফল নিয়ে কথা বলেই দিনের বেশিরভাগ সময় কাটাচ্ছেন।

গতকাল চার্লি কিরক নামের এক কর্মীকে ট্রাম্প টেলিফোনে  বলেছেন, ‘আমরাই নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছি।’ চার্লি সেই কথা ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে ট্রাম্পের তরুণ সমর্থকদের শুনিয়েছেন।

চার্লিকে তিনি আরও বলেছিলেন, ‘আমাদের এখন এমন একটি দলের প্রয়োজন যারা লড়াই করতে পারবে। আমাদের সঙ্গে বেশ কয়েকজন কংগ্রেসম্যান রয়েছেন যারা এই কাজটি করছেন। এছাড়াও, এ কাজে আমাদের আরও অনেক মহান যোদ্ধা রয়েছেন।’

ট্রাম্প মনে করেন, তার সহযোদ্ধারা জানেন যে নির্বাচনে তারাই বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। তাদের এখন দেশটির বিচার বিভাগের মতো আরও কয়েকটি সংস্থার সমর্থন প্রয়োজন।

ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এমন আচরণে উদ্বিগ্ন তার কয়েকজন উপদেষ্টা। তারা মনে করছেন, কয়েকদিন আগে যে সিডনি পওয়েলকে ট্রাম্প তার অফিসিয়াল লিগ্যাল টিম থেকে অপমান করে বের করে দিয়েছিলেন তিনিই এখন ট্রাম্পের কাছে এসে হয়তো তাকে ‘লড়াই’ করতে প্ররোচিত করছেন।

ট্রাম্পের এক ঘনিষ্ঠজন সংবাদমাধ্যমটিকে বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্টের এমন উত্তেজনাপূর্ণ আচরণের সঙ্গে পওয়েলের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে।’

এ ঘটনায় ট্রাম্পের অন্য আইনজীবীরাও উদ্বিগ্ন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

ট্রাম্পের এক কর্মকর্তা বলেছেন, মার-অ্যা-লাগো রিসোর্টে প্রেসিডেন্টের বার্ষিক ছুটিতে তার সঙ্গে থাকবেন এমন সব ব্যক্তি যারা ট্রাম্পকে লড়াই চালিয়ে যেতে উৎসাহ যুগিয়ে থাকেন। এবং তার কাল্পনিক ‘ভোট জালিয়াতি’র ভাবনায় বাড়তি রসদ যোগান।

ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেছেন, নির্বাচনের ফল পাল্টে দেওয়ার ভাবনা ট্রাম্পকে ‘আবিষ্ট’ করে রেখেছে। এটিকে খুবই ‘ভয়ঙ্কার’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

আগামী ৬ জানুয়ারি যখন ইলেকটোরাল কলেজ ঘোষিত বাইডেনের বিজয় নিয়ে কংগ্রেস অধিবেশনে আলোচনা হবে তখন আলাবামার রিপাবলিকান সদস্য মো ব্রুকস তা চ্যালেঞ্জ করবেন।

গতকাল হোয়াইট হাউসে ব্রুকসসহ সমমনা কয়েকজন কংগ্রেস সদস্যের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ট্রাম্প। সেখানে বাইডেন কিভাবে নির্বাচনের ফল ‘চুরি’ করেছেন তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের কয়েকজন গণমাধ্যমকে বলেছেন।

বৈঠক শেষে ব্রুকস গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমার বিশ্বাস আমাদের সঙ্গে বেশ কয়েকজন সিনেটর রয়েছেন। তারা সংখ্যায় কতো তা কোনো প্রশ্ন নয়।’

ট্রাম্প তার কয়েকজন উপদেষ্টাকে বলেছেন, তিনি ‘ক্ষমতা হস্তান্তর’ দিনে হোয়াইট হাউস ছাড়তে অস্বীকৃতি জানাবেন।

ট্রাম্পের এমন যখন মানসিক অবস্থা তখন তার ক্ষমতার শেষ দিনগুলোতে আসলে কী ঘটতে যাচ্ছে তা নিয়ে নিজেদের উদ্বেগের কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন তার কয়েকজন উপদেষ্টা।

Comments