আসামের সরকারি মাদ্রাসা বন্ধে বিধানসভায় বিল পাস

ভারতের আসামে ৬০০টিরও বেশি সরকারি মাদ্রাসা বন্ধ করে আগামী বছর থেকে এগুলোকে সাধারণ বিদ্যালয় হিসেবে চালু করতে রাজ্যের বিধানসভায় একটি বিল পাস হয়েছে।
রয়টার্স ফাইল ছবি

ভারতের আসামে ৬০০টিরও বেশি সরকারি মাদ্রাসা বন্ধ করে আগামী বছর থেকে এগুলোকে সাধারণ বিদ্যালয় হিসেবে চালু করতে রাজ্যের বিধানসভায় একটি বিল পাস হয়েছে।

বুধবার রাতে বিধানসভার অধিবেশনে বিরোধী দল কংগ্রেস ও অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এআইইউডিএফ) ওয়াকআউট করলেও বিলটি পাশ হয়েছে বলে দ্য ডেইলি স্টার নয়াদিল্লি সংবাদদাতা জানিয়েছেন।

বিলে বলা হয়, আগামী বছর ১ এপ্রিল থেকে রাজ্যের ৬০০টিরও বেশি সরকারি মাদ্রাসাকে উচ্চ বিদ্যালয় ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করা হবে। তবে, সেখানকার শিক্ষক ও কর্মীদের পদ, বেতন, ভাতা ও চাকরির অবস্থার কোনো পরিবর্তন হবে না।

কংগ্রেসসহ বিরোধী দল বিজেপি-নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের এ সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে। আগামী বছরের মার্চ-এপ্রিলে রাজ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

বিলটি নিয়ে কংগ্রেস ও এআইইউডিএফ এর আলোচনার প্রস্তাব শিক্ষামন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা প্রত্যাখ্যান করার পরে, রাজ্যসভার স্পিকার সেটির জন্য ভোটের আহ্বান করেন। ভোটে বিজেপি জোটের আসাম গণ পরিষদ (এজিপি) ও বোড়োভূমি পিপলস ফ্রন্ট (বিপিএফ) সমর্থন দেওয়ায় বিলটি পাস হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বিরোধী দলের সদস্যদের আপত্তি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘আমি মনে করি এটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য একটি উপহার। ওইসব মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা ১০ বছর পর এ সিদ্ধান্তের প্রশংসা করবে।’

তিনি বলেন, ‘ভারতের মতো ধর্মনিরপেক্ষ দেশে সরকার কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের শিক্ষা সমর্থন করতে পারে না।’

‘সরকার মুসলিমদের বিরুদ্ধে এটি করছে, এমন ভাবা ভুল। ইসলামি মৌলবাদের বিরোধিতা করা মানে ইসলাম ধর্মের বিরোধিতা করা না। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উন্নয়নে আমাদের সরকার অনেক কিছু করেছে,’ বলেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী এর আগে জানান, আসাম রাজ্যে ৬১০টি সরকারি মাদ্রাসা আছে, যেগুলোর জন্য সরকার প্রতি বছর ২৬০ কোটি টাকা ব্যয় করে।

চলতি বছরের ১৩ ডিসেম্বর আসাম মন্ত্রিসভা সব মাদ্রাসা ও সংস্কৃত বিদ্যালয় বন্ধ করার প্রস্তাব অনুমোদন করেছিল।

তবে, এ অনুমোদিত বিলে সংস্কৃত বিদ্যালয় সম্পর্কিত কোনো কথা উল্লেখ নেই।

Comments

The Daily Star  | English

Peacekeepers can face non-deployment for rights abuse: UN

The UN peacekeepers can face non-deployment and even repatriation if the allegations of human rights against them are substantiated

34m ago