আন্তর্জাতিক

৫০ অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্প-সমর্থকদের ‘সশস্ত্র বিক্ষোভ’র সম্ভাবনা

আগামী ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের নব নিবার্চিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শপথ নেওয়ার আগে ৫০টি অঙ্গরাজ্যেই ‘সশস্ত্র বিক্ষোভ’র পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটলে হামলা চালিয়েছিলেন ট্রাম্পের উগ্র সমর্থকরা। ছবি: সংগৃহীত

আগামী ২০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের নব নিবার্চিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শপথ নেওয়ার আগে ৫০টি অঙ্গরাজ্যেই ‘সশস্ত্র বিক্ষোভ’র পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই।

আজ মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায়, ৫০টি অঙ্গরাজ্যের ক্যাপিটল ও ওয়াশিংটন ডিসির ক্যাপিটলে ট্রাম্প-সমর্থকরা সশস্ত্র বিক্ষোভের পরিকল্পনা করছেন।

এফবিআইয়ের বুলেটিনে বলা হয়েছে, ‘আগামী ১৭ থেকে ২০ জানুয়ারির মধ্যে ৫০টি অঙ্গরাজ্যের ক্যাপিটলে সশস্ত্র প্রতিবাদের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।’

এ ছাড়াও, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে ট্রাম্পকে অপসারণ করা হলে ‘অভ্যুত্থান’ ঘটানো হবে— এমন হুমকিরও ইঙ্গিত পেয়েছে এফবিআই।

গত সপ্তাহে কংগ্রেসে নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জয়ের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি অনুষ্ঠান শুরু হলে একদল ট্রাম্প-সমর্থক ক্যাপিটল ভবনে হামলা চালায়। এ ঘটনায় এক ক্যাপিটল পুলিশ কর্মকর্তাসহ পাঁচ জন নিহত হয়েছেন।

জানা গেছে, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো আরও সহিংসতার সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করে প্রস্তুতি নিচ্ছে। জো বাইডেনের শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে নিরাপত্তা বাড়ানো হচ্ছে।

এফবিআইয়ের বুলেটিনে জানানো হয়েছে, গত সপ্তাহে ক্যাপিটলে সহিংসতার ঘটনায় সূচনা মাত্র। ট্রাম্পের সমর্থকরা আরও বড় ধরনের নাশকতা চালাতে পারেন।

বলা হয়েছে, ‘গত ৮ জানুয়ারি একটি চিহ্নিত গোষ্ঠীর তথ্য এফবিআইয়ের কাছে পৌঁছেছিল, যাতে বলা হয়েছে ট্রাম্প ক্ষমতা হারালে স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল সরকারের আদালত ও প্রশাসনিক ভবনে “ঝড়” তোলা হবে। এতে অংশ নিতে সবাইকে আহ্বান জানানো হয়। ওই গ্রুপটিই আগামী ২০ জানুয়ারি কলম্বিয়াসহ প্রতিটি রাজ্যে সরকারি অফিসগুলোতে আবারও নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা করছে।’

এফবিআই আরও জানিয়েছে, শপথ নেওয়ার আগে বাইডেনের ওপর হামলার হুমকিও সংস্থাটি পর্যবেক্ষণ করছে। অন্যদিকে নির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস ও স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির বিরুদ্ধেও হুমকি এসেছে।

আরেকটি বিবৃতিতে এফবিআই জানায়, ‘সহিংসতার প্ররোচণা ও অপরাধমূলক ক্রিয়াকলাপে জড়িতদের শনাক্ত, তদন্ত ও নাশকতা ঠেকাতে সবরকম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারী না, যারা নিজের ও অন্যের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও নাশকতার হুমকি দিয়েছে তাদের ঠেকাতেই এফবিআই প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

নির্বাচনের কয়েক মাস আগে থেকেই ভোট জালিয়াতি ও ষড়যন্ত্রের কথা বলে আসছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। একাধিকবার তিনি শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন না বলেও জানিয়েছিলেন। তার আইনি লড়াইয়ের প্রতিটি চেষ্টাই ব্যর্থ হওয়ার পরেও তিনি নির্বাচনে জালিয়াতির দাবি করে আসছেন।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণেই গত সপ্তাহে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

জানা গেছে, গত সপ্তাহে ক্যাপিটলে হামলাকারীদের শনাক্ত করা হচ্ছে।

সিএনএন জানায়, ওয়াশিংটন ও দেশজুড়ে সব রাজ্যে সহিংসতার আশঙ্কায় আইন প্রয়োগকারী ও স্থানীয় কর্মকর্তারা কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন।

সোমবার ওয়াশিংটন ডিসির মেয়র মুরিয়েল বাউসার আগামী সপ্তাহে বাইডেনের শপথের সময় নগরী এড়িয়ে চলার জন্য লোকজনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সবাইকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানটিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

Comments

The Daily Star  | English
Bangladesh economy

Can Bangladesh be a semiconductor hub?

The semiconductor manufacturing sector is well-known for its complexity, high stakes and intense corporate competition. Demand has always been driven by innovation, with every new technology changing the game.

2d ago