পি কে হালদারসহ ৬৪ জনের ব্যাংক হিসাব আরও ১ মাস স্থগিত

দশ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদার এবং তার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৬৩ জনের ব্যাংক হিসাব তৃতীয় দফায় আরও এক মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। এসব অ্যাকাউন্ট থেকে কোনো ধরনের লেনদেন করা যাবে না।
গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত তদারকি সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সব ব্যাংকে এ সংক্রান্ত আদেশ পাঠিয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, ৬৪ জনের নিজের নামে বা তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নামে পরিচালিত হিসাবগুলোর (শেয়ার বাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানি ছাড়া) লেনদেন আরও ৩০ দিনের জন্য অবরুদ্ধ থাকবে।
বাকিদের মধ্যে রয়েছেন— পি কে হালদারের ভাই প্রিতিশ কুমার হালদার, রেজাউর রহমান, মিজানুর রহমান, মো. নওশের-উল ইসলাম, মমতাজ বেগম, বসুদেব ভট্টাচার্য, পাপিয়া ভট্টাচার্য, কাজী মমরেজ মাহমুদ ও তার স্ত্রী আফরোজা সুরাইয়া মজুমদার, প্রশান্ত দেউরি, মো. মোস্তাফিজুর রহমান, স্বপন কুমার মিস্ত্রি ও তার স্ত্রী পূর্ণিমা রানী হালদার, অমিতাভ অধিকারীসহ ৪৮ জন।
মানি লল্ডারিং সংক্রান্ত মামলার তদন্তে গত বছরের ১২ আগস্ট ৮৩ জনের হিসাব স্থগিত রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে ওই তালিকা থেকে ১৯ জনের হিসাব অবমুক্ত করে দেওয়া হয়।
অবৈধ ক্যাসিনো মালিকদের সম্পদের তদন্ত শুরুর পরে পিকে হালদারের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২৭৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং বিদেশে পাচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে দুদক মামলা দায়ের করে।
পিকে হালদার ২০০৮ সালে আইআইডিএফসির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। ২০০৯ সালে তিনি রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগ দেন। ২০১৫ সালের জুলাই মাসে তিনি এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হন।
গত ৫ জানুয়ারি বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত রুলের শুনানি শেষে পিকে হালদারের মা লীলাবতী হালদারসহ ২৫ জনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেন। অপর ২৪ জন হলেন— এসকে সুর, হারুনুর রশিদ, উজ্জ্বল কুমার নন্দী, সামি হুদা, অমিতাভ অধিকারী, অবন্তিকা বড়াল, শামীমা, রুনাই, এনআই খান, সুকুমার মৃধা, অনিন্দিতা মৃধা, তপন দে, স্বপন কুমার মিস্ত্রি, অভিজিৎ চৌধুরী, রাজিব সোম, এরফান উদ্দিন আহমেদ, অঙ্গন মোহন রায়, নঙ্গো চৌ মং, নিজামুল আহসান, মানিক লাল সমাদদার, সোহেল শামস, মাহবুব মুসা, এ কিউ সিদ্দিক ও মোয়াজ্জেম হোসেন।
তাকে গ্রেপ্তার করতে রেড অ্যালার্ট ঘোষণা করেছে পুলিশের আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারপোল। কানাডার সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, পি কে হালদার এখন টরেন্টোতে অবস্থান করছেন। তিনি কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান পি অ্যান্ড এল হাল হোল্ডিংয়ের পরিচালক।
আরও পড়ুন:
Comments