নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন প্রাইমই যখন একমাত্র ভরসা

২৪ ফেব্রুয়ারি নিউজিল্যান্ডে পৌঁছেই বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের যেতে হয় লিংকন ইউনিভার্সিটি হাই-পারফরম্যান্স সেন্টারে। সেখানেই দু’সপ্তাহের কোয়ারেন্টিন।
Tamim Iqbal

প্রথম তিনদিন এক মুহূর্তের জন্যও দরজার বাইরে যাওয়া যায়নি। তিনদিন পর থেকে প্রতিদিন ৩০ মিনিটের জন্য মুক্ত বাতাসে যাওয়ার ফুরসত মিলছে তামিম ইকবালদের। কিন্তু তা হলেও সাড়ে ২৩ ঘণ্টা তো থাকতে হচ্ছে চার দেয়ালেই বন্দি। নিউজিল্যান্ডে কোয়ারেন্টিনে থাকা বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক জানালেন, এই সময়টায় নেটফ্লিক্স, অ্যামাইজ প্রাইমের মতো ওয়েব কন্টেন্টের বিনোদনই তার বড় ভরসার জায়গা।

২৪ ফেব্রুয়ারি নিউজিল্যান্ডে পৌঁছেই বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের যেতে হয় লিংকন ইউনিভার্সিটি হাই-পারফরম্যান্স সেন্টারে। সেখানেই দু’সপ্তাহের কোয়ারেন্টিন।

সেই কোয়ারেন্টিনেরও আছে নানান ধাপ। প্রথম তিন দিন পর একবার করোনা পরীক্ষায় নেগেটিভ আসায় মিলেছে মুক্ত বাতাসে আধঘণ্টা কাটানোর ছাড়পত্র। ৭ দিন পর আরেক দফা পরীক্ষায় নেগেটিভ এলে মিলবে ছোট গ্রুপের সঙ্গে জিমে যাওয়ার সুযোগ। এরপর সীমিত অনুশীলন। ১৪ দিন পর সব ঠিক থাকলে পুরোপুরি মুক্তি।

আপাতত বন্দি সময়টা একদমই অন্যরকম ঠেকছে সব ক্রিকেটারের কাছেই। তামিম জানালেন, ঘুম আর ওয়েব সিরিজের বিনোদন নিয়েই সময় পার করে নিচ্ছেন তিনি, সেদিক থেকে তার সময়টা মন্দ কাটছে না,  ‘রুমের মধ্যে আমাদের তো সাড়ে ২৩ ঘণ্টা থাকতে হয়। আধাঘণ্টা বাইরে যেতে পারি। রুমের মধ্যে সাইক্লিং দিয়েছে। আর বাংলাদেশ থেকে কিছু উপকরণ দিয়ে দিয়েছিল। ফ্রি হ্যান্ড ব্যায়াম করতে পারি। তাছাড়া আমার সময় কাটছে নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন প্রাইম এসব দেখেই। আর ঘুমাই। এছাড়া তো আর কিছু করার নেই। কারো সঙ্গে দেখাও করতে পারবেন না, অন্য কোন রুমেও যেতে পারবেন না।’

‘সেলফ আইসোলেশন চলছে এখনো। কিন্তু সত্যিকথা আমাকে যদি জিজ্ঞেস করেন আমি ভেবেছিলাম আরও কঠিন হবে।’

১৯ জন ক্রিকেটারসহ ৩৫ জনের বিশাল বহর বাংলাদেশের। তিনদিন পর সবাই একসঙ্গে বের হতে পারছেন না। আলাদা আলাদা গ্রুপ করে দেওয়া হয়েছে। ভাগ করে দেওয়া হয়েছে নির্দিষ্ট সময়। একসঙ্গে সফরে গেলেও তামিম জানান অনেকের সঙ্গে তাই এখনো দেখাই হয়নি, ‘প্রথমবার যখন মুক্ত বাতাসে গেলাম তখন একটু আজবই লাগছিল। কারণ প্রথম দুই-তিনদিন রুমের মধ্যেই ছিলাম। সবার সঙ্গে দেখা হয়ে ভাল লাগল। মনে হলো অনেক বছর পর পর দেখছি আরকি। নিচে মুক্ত বাতাসে যাওয়ার জন্য আমাদের যেহেতু গ্রুপ নির্ধারণ করা থাকে ৫-৬ জনের। এখনো অনেক টিমমেটের সঙ্গে দেখাই হয়নি। যেটা বললাম ভিন্নরকম, চ্যালেঞ্জিং কিন্তু সময় কেটে যাচ্ছে আরকি।’

তবে এসবের মধ্যেও মাঠের খেলার দিকে ধীরে ধীরে নজর আনছেন তামিম। স্থায়ী ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে এটাই তার প্রথম বিদেশ সফর। তিনি নিজে এবং দলের বাকিরা ভালো কিছু করতে আছেন মুখিয়ে, ‘এটা অধিনায়ক আমার প্রথম সফর। প্রথম ওয়ানডের আগে যত অনুশীলন সেশন আছে সেখানে দল হিসেবে প্রস্তুত হতে হবে। আমি নিজে যা মনে করছি, এবং সবার সঙ্গে কথা বলে যেটা মনে হয়েছে প্রত্যেকে ভাল করতে মরিয়া বাংলাদেশ দলের জন্য।’

‘সব সময় যেটা বলি আমরা যদি পরিকল্পনা কাজে লাগাই, সবাই যদি একসঙ্গে ভাল খেলি, পারফর্ম করি তাহলে আমরা যেকোনো দলকে হারাতে পারি।’

২০ মার্চ ওয়ানডে দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ডের সিরিজ।

Comments