আইসল্যান্ডে ১ সপ্তাহে ১৭ হাজার ভূমিকম্প

‘পৃথিবীটা যেন ২৪ ঘণ্টাই কাঁপছে’

একটি অস্বাভাবিক সপ্তাহ কেটেছে উত্তরমেরুর দ্বীপরাষ্ট্র আইসল্যান্ডে। গত এক সপ্তাহে দেশটিতে ভূমিকম্প হয়েছে প্রায় ১৭ হাজার বার।
Iceland
আইসল্যান্ডের রাজধানী রেইকইয়াভিক। ছবি: রয়টার্স ফাইল ফটো

একটি অস্বাভাবিক সপ্তাহ কেটেছে উত্তরমেরুর দ্বীপরাষ্ট্র আইসল্যান্ডে। গত এক সপ্তাহে দেশটিতে ভূমিকম্প হয়েছে প্রায় ১৭ হাজার বার।

গতকাল বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।

সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসল্যান্ডে জীবন্ত অগ্নিগিরি থাকায় সেখানে ভূমিকম্প নিত্তনৈমিত্তিক ঘটনা। তবে এক সপ্তাহে এতো সংখ্যক ভূমিকম্পের ঘটনা খুবই অস্বাভাবিক।

দেশটির আবহাওয়া দপ্তর বলেছেন, আইসল্যান্ডের দক্ষিণপশ্চিমের রেইকইয়াভিক অঞ্চলে গত সপ্তাহে প্রায় ১৭ হাজার বার ভূমিকম্প হয়েছে।

সেখানে সবচেয়ে ভূমিকম্প হয়েছিল গত ২৪ ফেব্রুয়ারি। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৬। রাজধানী শহর রেইকইয়াভিক ও এর আশপাশের শহরগুলো ভীষণভাবে কেঁপে উঠেছিল। দেশটির মোট জনসংখ্যার তিনভাগের দুইভাগই এখানে বসবাস করেন।

এরপর, ৫ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ও ১ মার্চ।

ভূমিকম্পের ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি না হলেও আইসল্যান্ডের সড়ক ও উপকূলীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের আশপাশের এলাকার সড়কগুলোয় ছোট ছোট ফাটল দেখা দিয়েছে এবং পাহাড়ি এলাকায় পাথরধস হয়েছে।

রেইকইয়াভিকের বাসিন্দা অদুর আলফা ওলাফসদতির সিএনএন’কে বলেছেন, ‘আমি এর আগেও অনেক ভূমিকম্পে পড়েছি, তবে এমন টানা ভূমিকম্পে কখনো পড়িনি।’

‘পৃথিবীটা যেন ২৪ ঘণ্টাই কাঁপছে,’ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘এটি খুবই অস্বাভাবিক ঘটনা। পুরো সপ্তাহটাই এমনভাবে কেটেছে। প্রকৃতির কাছে নিজেকে খুবই অসহায় লেগেছ।’

উপকূলীয় গ্রিন্দাভিক শহরের শিক্ষক ও পার্লামেন্টের ডিপুটি মেম্বর পল ভ্যালুর জরনসন গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘এমন অভিজ্ঞতা আগে কখনই হয়নি। আমি ভয় পাইনি তবে বেশ অস্বস্তি লেগেছে। ভূমিকম্পের কারণে রাতে দুইবার ঘুম থেকে জেগে গেছি।’

আইসল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভলকানোলজির অধ্যাপক পরভালদুর পোরোয়ারসন বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘ভূমিকম্প হতেই পারে, বড় ভূমিকম্পও হতে পারে, কিন্তু এতো দীর্ঘ সময় ভূমিকম্প হওয়া খুবই অস্বাভাবিক। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ভূমিকম্প হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কেন এমনটি হচ্ছে তা জানার চেষ্টা করছি।’

এমন অস্বাভাবিক ঘটনায় সেখানে অগ্ন্যুৎপাতের আশঙ্কা করেছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।

Comments