‘কোহলি শুরু করে করোলার মতো, শেষ করে ফেরারির মতো’

শুরুতে চাপ সামাল দিয়ে শেষে তেড়েফুঁড়ে ব্যাটিং- কোহলির ইনিংসের এমন গিয়ার বদলানো আরও একবার বিস্মিত করেছে ভক্ত-সমর্থক থেকে শুরু করে খেলোয়াড়-বিশ্লেষকদের।
kohli king
ছবি: বিসিসিআই

ইনিংসের ১৫তম ওভার শেষ। বিরাট কোহলির সংগ্রহ তখন ২৯ বলে ২৮ রান। ২০ ওভারের কোটা যখন পূর্ণ হলো, তখন ভারতীয় দলনেতা অপরাজিত ৪৬ বলে ৭৭ রানে! শুরুতে চাপ সামাল দিয়ে শেষে তেড়েফুঁড়ে ব্যাটিং- কোহলির ইনিংসের এমন গিয়ার বদলানো আরও একবার বিস্মিত করেছে ভক্ত-সমর্থক থেকে শুরু করে খেলোয়াড়-বিশ্লেষকদের।

মঙ্গলবার আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে চমৎকার সব শটের পসরা সাজিয়ে দৃষ্টিনন্দন ব্যাটিং উপহার দেন কোহলি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচ সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে তুলে নেন ক্যারিয়ারের ২৭তম হাফসেঞ্চুরি। সিরিজে এটি তার টানা দ্বিতীয় ফিফটি। অথচ সব সংস্করণ মিলিয়ে আগের পাঁচ ইনিংসে দুবার শূন্য রানে আউট হওয়া কী সমালোচনাই না শুরু হয়েছিল তাকে নিয়ে!

সেসব যেন এক ফুঁয়ে উড়িয়ে দিয়েছেন সময়ের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান কোহলি। তার ইনিংসের দুরকম গতি বর্ণনা করতে গিয়ে ভিন্নধর্মী উদাহরণ টেনেছেন দীনেশ কার্তিক। ব্রিটিশ গণমাধ্যম স্কাই স্পোর্টসকে বলার পর তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারেও লিখেছেন তিনি, ‘সে (কোহলি) শুরু করে করোলার মতো এবং শেষ করে ফেরারির মতো।’

কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলা এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যানের কথার সঙ্গে দ্বিমত করার উপায় কোথায়! যদিও জস বাটলারের তাণ্ডবে ভারত ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরেছে, তবে  কোহলি জ্বলে না উঠলে সম্মানজনক পুঁজি পাওয়া হতো না তাদের। স্বাগতিকদের তোলা ১৫৬ রানের ৪৯ শতাংশের বেশি এসেছে তার ব্যাট থেকে।

কোহলির ইনিংসের দিকে নজর দেওয়া যাক। দলীয় ২০ রানে তিনি উইকেটে গিয়েছিলেন। ততক্ষণে হয়ে গেছে ৪.৪ ওভার। উইকেট পড়ে গেছে ২টি। এরপর রিশভ পান্ত, হার্দিক পান্ডিয়াদের অন্যপ্রান্তে রেখে তিনিই নেন মুখ্য ভূমিকা।

শেষ ৫ ওভারে কোহলি তোলেন ১৭ বলে ৪৯ রান। টি-টোয়েন্টিতে ভারতের হয়ে যা তৃতীয় সর্বোচ্চ। শেষ ৫ ওভারে এই সংখ্যক বা এর চেয়ে বেশি রান সংগ্রহের নজির আছে কেবল দুটি। ২০১৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২০ বলে ৪৯ আদায় করেছিলেন কোহলিই। সবার উপরে আছেন সাবেক তারকা যুবরাজ সিং। ২০০৭ বিশ্বকাপে ইংলিশদের নাকানিচোবানি খাইয়ে ১৬ বলে ৫৮ রান এনেছিলেন তিনি।

মুখোমুখি হওয়া প্রথম ১৫ বলে কোহলির স্ট্রাইক রেট ছিল ৯৩.৩৩। পরের ১৫ বলে ১২০। এরপর করোলা ছেড়ে ফেরারিতে চেপে বসেন তিনি! শেষ ১৬ বলে তার স্ট্রাইক রেট গিয়ে পৌঁছায় তিনশর কাছাকাছি, ২৮১.২৫! সবমিলিয়ে ৮ ছক্কা ও ৪ চারে নিজের ইনিংসটি সাজান তিনি।

কোহলির বন্দনায় কার্তিক আরও যোগ করেছেন, ‘(ইনিংসের) শেষের অংশটা ছিল অবিশ্বাস্য। একারণেই সে বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যান। তার ম্যাচের পরিস্থিতি নিয়ে সচেতনতা, ক্রিজের চারিদিকে ঘুরে শট খেলা এবং বোলার ডেলিভারির আগে কী করতে যাচ্ছে তা আগেই অনুমান করার যে ক্ষমতা, এগুলোই হলো তার শক্তির অন্যতম দিক।’

উল্লেখ্য, সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে আছে সফরকারী ইংল্যান্ড। একই ভেন্যুতে চতুর্থ টি-টোয়েন্টি মাঠে গড়াবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। খেলা শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়।

Comments

The Daily Star  | English

New School Curriculum: Implementation limps along

One and a half years after it was launched, implementation of the new curriculum at schools is still in a shambles as the authorities are yet to finalise a method of evaluating the students.

30m ago