শ্রদ্ধাঞ্জলি

মাহবুব আনাম স্মরণে

মার্চ বাঙালি জাতির জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাস। বিশেষ করে ২০২১ এর এই মার্চ মাসের তাৎপর্য রাষ্ট্রীয়, জাতীয় এবং ঐতিহাসিক দিক থেকে অনন্য সাধারণ। তাই অনেক ঘটনা স্মরণযোগ্য হলেও দৃষ্টি এড়িয়ে যায়- গুরুত্বের ক্রমে যায় পিছিয়ে। তবুও এরই মাঝে এবার একজনের কথা খুব মনে পড়ছে, সঙ্গত কারণেই এবং তারই জন্যে হচ্ছে এই লেখনী চালনা। সেই স্মরণীয় ব্যক্তি হচ্ছেন মরহুম মাহবুব আনাম। তাকে আমি সব সময় মাহবুব ভাই বলেই ডেকেছি।
মাহবুব আনাম (২৮ মার্চ ১৯৩১–৯ জুলাই ২০০১)

মার্চ বাঙালি জাতির জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাস। বিশেষ করে ২০২১ এর এই মার্চ মাসের তাৎপর্য রাষ্ট্রীয়, জাতীয় এবং ঐতিহাসিক দিক থেকে অনন্য সাধারণ। তাই অনেক ঘটনা স্মরণযোগ্য হলেও দৃষ্টি এড়িয়ে যায়- গুরুত্বের ক্রমে যায় পিছিয়ে। তবুও এরই মাঝে এবার একজনের কথা খুব মনে পড়ছে, সঙ্গত কারণেই এবং তারই জন্যে হচ্ছে এই লেখনী চালনা। সেই স্মরণীয় ব্যক্তি হচ্ছেন মরহুম মাহবুব আনাম। তাকে আমি সব সময় মাহবুব ভাই বলেই ডেকেছি।

রাষ্ট্রভাষা সংগ্রামেই রোপিত হয়েছিল আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তি সংগ্রামের বীজ, সেটাই ছিল আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সূচনা। আর এই রাষ্ট্রভাষা সংগ্রামে মাহবুব ভাই এর প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, এবং কোন কোন সীমিত ক্ষেত্রে নেতৃত্ব প্রদান তখনকার ছাত্রনেতাদের মধ্যে ব্যতিক্রমী ছিল। এরই জন্যে বলেছি, এই মার্চ মাসে সঙ্গত কারণেই তাকে মনে পড়ল- জীবন সায়াহ্নে ফেলে আসা দিনগুলোর কথা স্মরণ করতে গিয়ে।

মাহবুব আনাম ভাই জন্মেছিলেন ময়মনসিংহের এক সম্ভ্রান্ত, শিক্ষিত, আলোকিত পরিবারে, ১৯৩১ সালের ২৮ মার্চ। তখনও ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সরকারের পাকাপোক্ত অবস্থান—ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে তখনও সূর্য অস্ত যায় না। অসহযোগ আন্দোলনের মাধ্যমে এবং কিছু বিপ্লবী ঘটনার ভেতর দিয়ে ভারতবর্ষের স্বাধীনতা-সংগ্রাম শুরু হয়ে গেলেও ক্ষমতার কেন্দ্র লন্ডনে তখন মৃদুকণ্ঠে গোলটেবিলে আলোচিত হচ্ছে ভারতবর্ষের স্বাধিকারের সম্ভাব্যতা। সারাবিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দার কালো-ছায়া।

করাচীর সরকারি বাসভবনে সপরিবারে আবুল মনসুর আহমদ, পুত্র মাহবুব আনাম, মতলুব আনাম, মনজুর আনাম ও মাহফুজ আনাম। জ্যেষ্ঠ পুত্র মনসুর আনাম ছবিতে অনুপস্থিত।

দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক ওই পরিবেশেই মাহবুব ভাই এর শিক্ষা জীবনের শুরু, তদানীন্তন বাংলার রাজধানী কলকাতায়। তার পিতা (মরহুম) আবুল মনসুর আহমদ ছিলেন একজন সুবিখ্যাত সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ। কলকাতা থেকে প্রকাশিত প্রভাবশালী পত্রিকা দৈনিক ইত্তেহাদ এর তিনি ছিলেন সম্পাদক। ‘ফুড-কনফারেন্স’ এর রচয়িতা আবুল মনসুর আহমদকে বলা যায় বাংলাতে ব্যঙ্গাত্মক সাহিত্য-সৃষ্টির পথিকৃৎ। অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী, তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের উঁচু পর্যায়ের একজন নেতা- এককালে পাকিস্তানের প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। মাতা আকিকুন্নেছা আহমদ ছিলেন একজন সুশিক্ষিতা সাহিত্যিক। তার লিখা ‘আধুনিকা স্ত্রী’ এবং ‘আধুনিক স্বামী’ বাংলার পাঠক সমাজে আলোড়ন তৈরি করে। আলোকিত এই পারিবারিক পরিবেশেই মাহবুব ভাই এর বেড়ে উঠা। রত্নগর্ভা এই মাতার আরেক সন্তান দ্য ডেইলি স্টার-এর সম্পাদক প্রখ্যাত সাংবাদিক মাহফুজ আনাম। স্কুল জীবন শেষে তিনি ময়মনসিংহ আনন্দমোহন কলেজে অধ্যয়ন করেন এবং ১৯৫২-৫৩ সালে কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক এবং ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৫০ সালে বাবা সরকারি কর্মসূত্রে ময়মনসিংহে বদলী হন এবং আমি ঢাকার সেন্ট গ্রেগরীজ স্কুল থেকে ময়মনসিংহ জিলা স্কুলে ভর্তি হই। সেখান থেকেই ১৯৫২ সালে ম্যাট্রিক পাস করি। মনে আছে পরীক্ষার ফলাফল প্রথম দশ জনের মধ্যে থাকায় (তখনকার প্রচলিত ভাষায় ‘স্ট্যান্ড’ করায়) মাহবুব ভাই বলেছিলেন ‘জিলা স্কুলের অনেক যুগের বন্ধ্যত্ব তুমি ঘোচালে। তোমাকে অভিনন্দন।’ মাহবুব ভাই আমার বড় ভাই লেখক ও কূটনীতিক মরহুম ফারুক চৌধুরীর সমকালীন ছিলেন এবং তাদের মধ্যে প্রগাঢ় বন্ধুত্বও ছিল। তিনি তার আত্মজীবন কথা ‘জীবনের বালুকা বেলায়’ উল্লেখ করেছেন কি করে তারা চার বন্ধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকা অবস্থায় কলকাতা গিয়েছিলেন দল বেঁধে ‘পাকিস্তান-ভারত সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টার’ অংশ হিসেবে। ফারুক চৌধুরীর স্বভাব-সুন্দর কৌতুক মিশ্রিত ভাষায় সেই ‘মিশন’ এর বর্ণনা বইটিতে রয়েছে (পৃ: ৫৫, ৫৬)। দলনেতা ছিলেন মাহবুব আনাম। ফারুক চৌধুরী লিখেছেন, একটি কলেজের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আমাদের উপস্থিতির মাধ্যমে পাকিস্তান-ভারত সম্পর্কের উন্নয়নে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করলাম। ...মাহবুব বলল যে তার পিতৃবন্ধু ‘সত্যযুগ’ পত্রিকার সম্পাদক তার পরিচিত। চার বন্ধু গিয়ে হাজির হলাম ‘সত্যযুগ’ অফিসে। সেখানে আমাদের স্বঘোষিত নেতা মাহবুব আনাম একটি ছোটখাটো সাক্ষাৎকার দিয়ে বসল আমাদের এই গুরুত্বপূর্ণ কলকাতা সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে, তখন ১৯৫৪ সাল। তদানীন্তন পূর্ব-পাকিস্তানে নির্বাচনের তোড়জোড় চলছে। এসই অবস্থায় সত্যযুগ-এ ছাপা হলো, ‘পূর্ব-পাকিস্তানে নির্বাচন সম্বন্ধে প্রশ্নের উত্তরে দলনেতা মাহবুব আনাম বলেন, মুসলিম লীগবিরোধী যুক্তফ্রন্ট ক্রমে ক্রমে শক্তি সঞ্চয় করছে।’ বস্তুত মাহবুব ভাই ১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে যুক্তফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত প্রচার সম্পাদক নিযুক্ত হন। ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচন হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সঙ্গেই দর্শনশাস্ত্রে তিনি এম.এ পাশ করেন।

অগ্রজ-প্রতিম মাহবুব ভাইয়ের কাছ থেকে ময়মনসিংহ থাকাকালীন বিভিন্ন বিষয়ে যথেষ্ট উৎসাহ এবং প্রেরণা পেয়েছি। আমার একজন বন্ধু ডি এ রশীদ এবং আমি একটি কিশোর ছোটগল্প সংকলন প্রকাশ করি, নাম ‘নতুন ছবি’। বাধ্যতামূলকভাবেই প্রায় যে কজন নিকটাত্মীয় দাম দিয়ে বইটি কেনেন, তাদের ছাড়া যে দু’তিনজন মাত্র বইটি কিনেছিলেন, তার মধ্যে দু’জনের নাম আমার ডায়েরিতে আছে। একজন ছিলেন তরুণ আইনজীবী সুলতান সাহেব (যিনি পরবর্তীকালে ছিলেন যুক্তরাজ্যে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম হাইকমিশনার) এবং আরেকজন ছিলেন মাহবুব ভাই। রশীদ এবং আমার সম্পাদনায় ময়মনসিংহ থেকেই (আমার স্কুল ছাত্রাবস্থায়) ‘প্রভাতী’ নামে একটি কিশোর মাসিক বের করি। দু’টি সংখ্যা বের করার পর এর প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়। সেখানেও পৃষ্ঠপোষকতার জন্যে ‘সৌজন্যে প্রদত্ত’ গ্রাহক তালিকায় মাত্র কয়েকজনের নাম ছিল- তার মধ্যে ছিলেন বন্ধু রশীদের বাড়ি ধনবাড়ীর নবাবজাদা হাসান আলি চৌধুরী এবং ময়মনসিংহ ‘চাঁদের হাট’ এর (মাসিক মিনার প্রবর্তিত) সম্ভবত একজন পৃষ্ঠপোষক মাহবুব ভাই। মনে পড়ে তখন ময়মনসিংহে সাংস্কৃতিক জীবন যথেষ্ট প্রাণবন্ত ছিল। এবং সেখানে ছিল মাহবুব ভাই এর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। ১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের ছাত্রসংসদ নির্বাচনে মাহবুব ভাই নির্বাচিত হন জেনারেল সেক্রেটারি, একজন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী খোরশেদ আলমকে পরাজিত করে। খোরশেদ আলম ভাই (পরবর্তী জীবনে সিএমপি অফিসার, অর্থসচিব, গভর্নর বাংলাদেশ ব্যাংক) ছিলেন ম্যাট্রিক-আইএ তে ‘স্ট্যান্ড’ করা অর্থনীতি বিভাগের একজন মেধাবী ছাত্র এবং প্রাবন্ধিক। মাহবুব ভাই ছিলেন ছাত্রলীগ সমর্থিত ‘ঐক্যদূত’ এর একমাত্র বিজয়ী প্রার্থী। ছাত্র ইউনিয়ন সমর্থিত গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের মনোনীত ভাইস প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী এ এম এ মুহিত, পরবর্তী জীবনে সিএ.এস.পি- সুলেখক- অর্থমন্ত্রী, রাজনীতিবিদ এবং জয়েন্ট সেক্রেটারি পদে আমি।

যতদূর মনে পড়ে সেবার নির্বাচনে শুধু মাহবুব ভাই ছাড়া অন্য সব পদেই গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থীরা জয়ী হয়েছিলেন। এটা মহাবুব ভাইয়ের ব্যক্তিগত গুণাবলী ও জনপ্রিয়তারই পরিচায়ক। আমাদের ‘ক্যাবিনেট’ এর কার্যক্রমে একটি পরম সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ ছিল, আমরা একটি ‘টিম’ হিসেবেই কাজ করেছিলাম। মনে পড়ে আমাদের মেয়াদের শেষের দিকে একবার আমরা স্থির করলাম, ডাইনিং রুমে দুপুর ও রাতের খাবারের মানোন্নয়ন অবশ্য করণীয় হয়ে পড়েছে। কিন্তু তার জন্যে আবাসিক ছাত্র প্রতি ‘মেস-চার্জ’ মাসিক ৩০ টাকা বা ৩৫ টাকা থেকে আরও পাঁচ টাকা বাড়ানো অনিবার্যভাবেই প্রয়োজন। স্থির হলো- প্রস্তাবটিকে আমরা ‘মানি-বিল’ হিসেবে বিবেচনা করে হলের আবাসিক সাধারণ ছাত্রদের আহূত সমাবেশে পেশ করব। তা করা হলো এবং সামান্য ভোটেই প্রস্তাবটি নাকচ হলো। ‘গণতান্ত্রিক বিধি-নীতিতে গভীর বিশ্বাসী’ আমরা স্থির করলাম ‘মুহিত-আনাম’ ক্যাবিনেট, সহকর্মীসহ পদত্যাগ করবে। এ ব্যাপারে মাহবুব ভাইয়েরই উদ্যোগ ছিল প্রচুর। মনে পড়ে, মুহিত ভাই, মাহবুব ভাই ও আমি ছাত্র সংসদ-সভাপতি প্রভোস্ট ড. এম.এ. গণি সকালে উপস্থিত হয়ে আমাদের পদত্যাগপত্র পেশ করলাম। অবাক বিস্ময়ে রাশভারী ড. এম ও গণি আমাদের দিকে কিছুক্ষণ তাকালেন। তারপর পদত্যাগপত্রটি হাতে নিয়ে বললেন, ‘আপাতত গৃহীত হলো না। তোমরা তোমাদের কাজ চালিয়ে যাও।’ বলা বাহুল্য, আমাদের ‘টার্ম’ এর সম্ভবতর বাকি মাস দেড়েক আমরা কাজ চালিয়েই গিয়েছিলাম। ঘটনাটি আমি মুহিত ভাই এর অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন গণতান্ত্রিক পদ্ধতি অনুসরণের একটি নমুনা দেখিয়ে মনে করিয়ে দিয়েছিলাম। ঘটনাটির বর্ণনা তখন কিছুটা কৌতুকেরই সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু পদত্যাগপত্র দাখিলের সময়, মনে পড়ে, আমরা যথেষ্ট সিরিয়াস ছিলাম।

ছাত্রাবস্থায় সবসময়ই মাহবুব ভাই নেতৃত্বসুলভ সক্রিয়তা বজায় রেখেছিলেন, ১৯৫০-৫১ সালে তিনি কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ (বর্তমানে মওলানা আজাদ কলেজ) ছাত্র ইউনিয়ন সম্পাদক ও ম্যাগাজিন এডিটর ছিলেন। স্কুলে পড়ার সময় ক্যালকাটা আলিয়া মাদ্রাসা ইংরেজি বিভাগে তিনি সংসদ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। কলকাতায় ‘রশীদ আলী’ দিবসে ক্যাপ্টেন রশীদ আলী মুক্তির দাবিতে তিনি জীবনের সর্বপ্রথম কারাবরণ করেন। মাহবুব ভাই ভাষা-আন্দোলনের একজন অতি সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ১৯৫২ সালে ময়মনসিংহ জেলা তমুদ্দন মজলিসের সাধারণ সম্পাদক ও রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম-সম্পাদক হিসেবে কারাবরণ করেন। এস.এম. হলের জি.এস থাকাকালীনও তিনি ভাষা সংগ্রামে অংশগ্রহণের জন্যে কারারুদ্ধ হন। ১৯৮০ সনে সরকার তাকে ‘ভাষা আন্দোলনের বীর সৈনিক’ পদক প্রদান করে। তমদ্দুন মজলিস তাকে মরণোত্তর মাতৃভাষা পদকেও ভূষিত করেন।

জনাব মাহবুব আনাম একজন সুখ্যাত সাংবাদিক, রাজনৈতিক ভাষ্যকার, কলামিস্ট ও প্রাবন্ধিক ছিলেন। দেশের অন্যতম প্রাচীন ও প্রধান ইংরেজি দৈনিক পত্রিকা বাংলাদেশ টাইমস এর সম্পাদক ছিলেন। তিনি সাবেক পাকিস্তান অবজারভারেও সিনিয়র এক্সিকিউটিভ হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন, বাংলাদেশ সংবাদপত্র পরিষদ, প্রেস কাউন্সিল, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা পরিচালনা বোর্ড, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড, বাংলাদেশ পাবলিক লাইব্রেরি বিশেষ কমিটি, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রকাশনা কমিটি এবং বাংলাদেশ এডিটরস কাউন্সিলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও এক্সিকিউটিভ সদস্য হিসেবে তিনি দীর্ঘকাল সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।

সাহিত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে ছিল তার দৃপ্ত পদচারণা। তার রচিত পুস্তকের মধ্যে ‘আমরা বাংলাদেশী, আমরা বাঙ্গালী, ইতিহাসের স্বীকৃতি বনাম বিকৃতি, অন্যতম। তিনি নাট্যমঞ্চ বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ সাহিত্য-সংস্কৃতি কেন্দ্রেও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পেশাগত ও সাংস্কৃতিক জগতে অনন্য ভূমিকার জন্য তিনি পেয়েছেন স্বাধীনতা পদক, শেরে বাংলা স্বর্ণপদক, মওলানা আকরাম খাঁ স্বর্ণপদক, কলধ্বনি ও ত্রিভুজ স্বর্ণপদকসহ বিভিন্ন পুরস্কার ও পদকে ভূষিত হয়েছেন।

পরবর্তী জীবনে তিনি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের ডিরেক্টর হিসেবেও সুখ্যাতি ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। এক কথায় বলা যায়, বিভিন্নমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন আমাদের প্রিয় মাহবুব আনাম ভাই। তার অকাল প্রয়াণের আগে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। নির্দ্বিধায় বলা যায়, যে ক্ষেত্রই হোক না কেন, তিনি তার মেধা ও দক্ষতার স্বাক্ষর সেখানে রেখে গেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে সদালাপী, নিরহংকার, বন্ধুবৎসল মাহবুব ভাই এর জীবন যাকেই স্পর্শ করেছে, তাকে তিনি সমৃদ্ধ করেছেন। আমার জীবন-স্মৃতিতে তিনি ভাস্কর রয়েছেন একজন প্রাণোচ্ছল সৃষ্টিধর্মী অগ্রমপ্রতিম ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব হিসেবেই।

Comments

The Daily Star  | English

Personal data up for sale online!

Some government employees are selling citizens’ NID card and phone call details through hundreds of Facebook, Telegram, and WhatsApp groups, the National Telecommunication Monitoring Centre has found.

6h ago