কিশোরগঞ্জে বিএনপি নেতাকর্মী-পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ৪০

কিশোরগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে শহরের পুরাতন থানা ও একরামপুর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
কিশোরগঞ্জ শহরের পুরাতন থানা ও একরামপুর মোড় এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ছবি: স্টার

কিশোরগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে শহরের পুরাতন থানা ও একরামপুর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুবকর সিদ্দিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, করোনার কারণে জমায়েত নিষেধ থাকার পরও অনুমতি ছাড়াই বিএনপির নেতা-কর্মীরা মিছিল বের করার চেষ্টা করে। ব্যস্ততম সড়ক দিয়ে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে বিএনপি কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোঁড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ টিয়ারশেল ও ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে।

ওসি জানান, এ সময় সংঘর্ষে পুলিশের অন্তত ছয় সদস্য আহত হন।

এ ঘটনায় দোষী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ওসি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত চার-পাঁচদিন ধরে দেশব্যাপী সংঘর্ষ ও নিহতের ঘটনার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবং রবিবার হেফাজতের হরতালের পর সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের বিএনপির দুটি কার্যালয়ে ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার প্রতিবাদে শহরের রথখোলা ময়দানে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেয় বিএনপি। এ কর্মসূচিতে অংশ নিতে দুপুর ১২টার দিকে পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম ও জেলা ছাত্রদল সভাপতি মারুফ মিয়ার নেতৃত্বে শহরের শোলাকিয়া এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করার চেষ্টা করে বিএনপি নেতা-কর্মীরা। অপরদিকে শহরতলির সতাল থেকে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইসরাইল মিয়ার নেতৃত্বে আরেকটি মিছিল রথখোলা ময়দানের প্রতিবাদ সমাবেশে আসার চেষ্টা করে।

এ সময় শহরের পুরাতন থানা ও একরামপুর এলাকায় উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষে শহরের একরামপুর, পুরাতন থানা, গৌরাঙ্গ বাজার ও রথখোলাসহ শহরের দোকানপাট বন্ধের পাশাপাশি যান চলাচল বন্ধ থাকে।

তবে, জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে শহরের ইশাখা সড়কে একটি বিক্ষোভ মিছিল শেষে রথখোলা ময়দানে এসে প্রতিবাদ সমাবেশ করে। এতে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও যুগ্ম সম্পাদক খালেদ সাইফুল্লাহসহ অন্যান্য বিএনপি নেতারা বক্তব্য রাখেন।

জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে আসার সময় পুরাতন থানা ও একরামপুর এলাকায় কোনো কারণ ছাড়াই পুলিশ বিএনপির নেতা-কর্মীদের ধাওয়া ও নির্বিচারে টিয়ার শেল, রাবার বুলেট ও গুলি ছোঁড়ে।'

এতে জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক তারেকুজ্জামান পার্নেল, পৌর যুবদলের আহবায়ক আলমগীর হোসেন, যুগ্ম-আহবায়ক মো. এমদাদ, ছাত্রদলের সভাপতি মারুফ মিয়া, সহসভাপতি সায়েদ সুমন, ছাত্রদল নেতা রুবেল মিয়া, জাবেদ মিয়া, নিশাদ ও নাঈমসহ অন্তত ৩০-৩৫ জন বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।

এদিকে, রবিবার হেফাজতের ডাকা হরতালের সময় কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের স্টেশন রোড জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর, আগুন ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ২৫০০ ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শহরের ১নং পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক সোহরাব মিয়া সোমবার সন্ধ্যায় সদর মডেল থানায় এ মামলা করেন। মামলায় ২৭ জনের নাম উল্লেখসহ দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় এখন পর্যন্ত সাত জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অপরদিকে দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মামলা হয়নি। জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আহমাদুল্লাহ বলেন, 'দলীয় সিদ্ধান্তে তিনি বাদি হয়ে এ বিষয়ে একটি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।'

Comments