শীর্ষ খবর
শীতলক্ষ্যায় লঞ্চডুবি

কার্গো জাহাজের বেপরোয়া গতি, চালকের উদাসীনতায় লঞ্চডুবি: তদন্ত প্রতিবেদন

নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যায় কার্গো জাহাজের ধাক্কায় যাত্রীবাহী লঞ্চ ডুবিতে ৩৪ জন নিহতের ঘটনায় গঠিত দুই তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।
বিআইডব্লিউটিএর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘প্রত্যয়’ ডুবে যাওয়া লঞ্চটি উদ্ধার করে। ছবি: স্টার

নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যায় কার্গো জাহাজের ধাক্কায় যাত্রীবাহী লঞ্চ ডুবিতে ৩৪ জন নিহতের ঘটনায় গঠিত দুই তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।

আরও একটি কমিটির তদন্তের কাজ শেষ হলেও লকডাউনের কারণে জমা দেওয়া হয়নি বলে জানায় কমিটি।

দুই প্রতিবেদনে কার্গো জাহাজের বেপরোয়া গতি, চালকের উদাসীনতা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে, কমিটির কেউ কার্গো জাহাজটির মালিকের নাম বলতে রাজি হয়নি।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খাদিজা তাহেরা ববি জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহর কাছে প্রতিবেদন জমা দেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ দ্য ডেইলি স্টারকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘লঞ্চ ডুবির ঘটনায় তদন্ত কমিটি আজ বিকেলে ২৬ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। এতে ২১টি সুপারিশ দেওয়া হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা পুনরায় না ঘটে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে- কার্গো জাহাজটির বেপরোয়া গতি, সিগনাল না মানা, চালকের উদাসীনতা, সরু নদী পথসহ তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের স্থাপনার ত্রুটি।’

জাহাজের মালিকানা এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদন পুরোপুরি দেখা হয়নি। তাই বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না। তবে কার্গোর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অবশ্যই তার বিরুদ্ধে শাস্তি হবে। এর মালিক যিনি হবেন তিনি তো কোনোভাবে দায় এড়াতে পারেন না।’

এমভি-এসকেএল-৩ জাহাজের মালিক কে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘নৌ পুলিশ ও কোস্ট গার্ড থেকে বলা হয়েছে এটির মালিকের বাড়ি বাগেরহাটে। কিন্তু নাম বলেনি। এখনো কোনো লিখিত রিপোর্ট পাইনি। তারা সেটা তদন্ত করছেন। তারা রিপোর্ট দিলে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’

এ দিকে, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি গত ১২ এপ্রিল তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে বলে বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের সহকারী পরিচালক বাবু লাল বৈদ্য দ্য ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন।

বাবু লাল বৈদ্য দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে সেই কমিটি গত ১২ এপ্রিল তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। জানা গেছে, এতে এমভি-এসকেএল-৩ কার্গো জাহাজটির বেপরোয়া গতি দুর্ঘটনার প্রধান কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। চালকের বেপরোয়া গতি, অদক্ষতা ও অবহেলার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও প্রতিবেদনে ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা রোধে ২৩টি সুপারিশ করা হয়েছে।’

নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব বিআইডব্লিউটি-এর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক রফিকুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘১২ এপ্রিল নৌ সচিব মেজবাহ উদ্দীন চৌধুরীর কাছে ২৭ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বিআইডব্লিউটি এর তদন্ত কমিটির তদন্তের কাজ চূড়ান্ত ভাবে শেষ হয়েছে। লকডাউনের জন্য জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি। খুব শিগগির জমা দেয়া হবে।’

প্রতিবেদনে এমভি-এসএকেএল-৩ কার্গো জাহাজের মালিকের নাম বলা হয়েছে কীনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রতিবেদনের বিষয়ে ঊর্ধ্বতনরা বলবেন আমরা কেউ বলতে পারব না।’

এ বিষয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘মিটিংয়ে আছি। কয়েক ঘণ্টা ব্যস্ত থাকব, কথা বলা সম্ভব না।’

নারায়ণগঞ্জ নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘কার্গো জাহাজের পাঁচ জনকে রিমান্ড শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

তদন্তে জাহাজের মালিকের নাম পাওয়া গেছে কিনা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তদন্তের স্বার্থে কোনো তথ্য দেওয়া যাবে না।’

গত ৪ এপ্রিল বিকেল ৬টায় নারায়ণগঞ্জের লঞ্চ টার্মিনাল থেকে অর্ধশতাধিক যাত্রীবাহী ‘এমভি সাবিত আল হাসান’ নামে লঞ্চটি মুন্সিগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। ২০ মিনিট যাওয়ার পর সদর উপজেলার সৈয়দপুর কয়লাঘাট এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে পিছন থেকে এসে ‘এমভি-এসকেএল-৩’ নামে একটি কার্গো জাহাজ ধাক্কা দিয়ে লঞ্চটিকে ডুবিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ৩৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় অজ্ঞাত আসামি করে বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের সহকারী পরিচালক বাবু লাল বৈদ্য বন্দর থানায় মামলা করেন।

ঘটনার রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন সাত সদস্য ও বিআইডব্লিউটিএ পাঁচ সদস্যের দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। ৫ এপ্রিল নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে আরও একটি সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

পরে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া এলাকার মেঘনা নদী থেকে এমভি-এসকেএল-৩ কার্গো জাহাজ ও জাহাজের মাস্টার, সুকানীসহ ১৪ জনকে আটক করে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে কোস্টগার্ড।

আরও পড়ুন:

লঞ্চ ডুবিয়ে দেওয়া কার্গো শনাক্তে নৌ-পুলিশ নিশ্চিত, কোস্টগার্ড বলছে সন্দেহভাজন

নারায়ণগঞ্জে লঞ্চডুবি: ধাক্কা দেওয়া কার্গো জাহাজ আটক

শীতলক্ষ্যায় লঞ্চডুবিতে ৩৪ জন নিহতের ঘটনায় মামলা

অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে শীতলক্ষ্যায় লঞ্চডুবি

শীতলক্ষ্যায় লঞ্চডুবি: ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার

নারায়ণগঞ্জ: ডুবে যাওয়া লঞ্চ এখনো তোলা যায়নি

শীতলক্ষ্যায় লঞ্চডুবি: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৯, এখনো নিখোঁজ ৭

শীতলক্ষ্যায় লঞ্চডুবি: আরও ২২ জনের মরদেহ উদ্ধার, মোট ২৭

শীতলক্ষ্যায় লঞ্চডুবি: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪, এখনো নিখোঁজ ২

শীতলক্ষ্যায় লঞ্চডুবির ঘটনায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি

Comments