পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় ফেরি বন্ধ, নৌকায় পারাপার

করোনাভাইরাসের সংক্রমণে রাশ টানতে চলমান ‘লকডাউনে’ পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে সাধারণ যাত্রীবাহী ফেরি বন্ধ থাকলেও চলছে ইঞ্চিনচালিত নৌকা। স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে চলছে নৌকাগুলো।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণে রাশ টানতে চলমান ‘লকডাউনে’ পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে সাধারণ যাত্রীবাহী ফেরি বন্ধ থাকলেও চলছে ইঞ্চিনচালিত নৌকা। ছবি: স্টার

করোনাভাইরাসের সংক্রমণে রাশ টানতে চলমান ‘লকডাউনে’ পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে সাধারণ যাত্রীবাহী ফেরি বন্ধ থাকলেও চলছে ইঞ্চিনচালিত নৌকা। স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে চলছে নৌকাগুলো।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে নদী পারের আশায় পাটুরিয়া ঘাটে অপেক্ষা করছিলেন নারায়ণ সাহা। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে যাবেন মাগুরা। তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘প্রয়োজন ছাড়া কি কেউ এই প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে ঘর থেকে বের হয়? কিন্তু ফেরি বন্ধ, তাই নৌকায় না উঠে উপায় নেই। সকাল থেকে বসে আছি। ঢাকা থেকে ভেঙে ভেঙে অনেক কষ্টে ঘাট পর্যন্ত এসেছি। ভাড়াও দিতে হয়েছে অতিরিক্ত।’

মেজবাহ উদ্দিন নামে আরেক যাত্রী বলেন, ‘ফেরিতে যাত্রী পরিবহন নিষেধ হলেও অনেককে যেতে দেখলাম।’

স্বজনের মরদেহ নিয়ে ফ্রিজিং ভ্যানে নদী পারের অপেক্ষায় বসে আছেন সাব্বির আহাম্মেদ। তিনি বলেন, ‘এই বিশেষ পরিস্থিতিতে কীভাবে ফেরি চলবে সেই নিয়ম দাঁড়ায়নি। সাধারণত কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স আর একটি মরদেহবাহী গাড়ি হলে ফেরি ছেড়ে যায়। আমি দুই ঘণ্টা ধরে ঘাটে অপেক্ষা করছি, কিন্তু ফেরি ছাড়ছে না। এই ভোগান্তি বন্ধে কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ নেওয়া দরকার।’

সকাল সাড়ে ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরি টার্মিনালের ৩ নম্বর পন্টুন এলাকা থেকে যাত্রী নিয়ে অন্তত ১৫টি ইঞ্জিনচালিত নৌকা রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে যেতে দেখা গেছে। মাঝারি আকারের নৌকায় যাত্রী পার হচ্ছেন ৩৫ থেকে ৪০ জন। ছোট নৌকায় পার হচ্ছেন ১৫ থেকে ২০ জন। নদী পারাপারে একজনকে ভাড়া দিতে হচ্ছে ১০০ টাকা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) জিল্লুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়ে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজীরহাট নৌরুটে ২০টি ফেরি চলে। বর্তমানে জরুরি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী যানবাহন পারাপারে তিনটি ফেরি চালু রয়েছে। তার মধ্যে দিনে দুটি ছোট ফেরির মাধ্যমে লাশবাহী ও জরুরি যানবাহন পার করা হয়।’

ফেরিতে সাধারণ যাত্রী পরিবহন নিষেধ হলেও অনেকেই পার হচ্ছেন এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কিছু কিছু ছোট গাড়ি, মোটরসাইকেল ও যাত্রীরা উঠে যাচ্ছে এ কথা ঠিক। তাদের আটকানো যাচ্ছে না।’

শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বি এম রুহুল আমিন রিমন বলেন, ‘নৌকায় যাত্রী পারাপার বন্ধে নির্দেশনা রয়েছে। যাত্রী পার করায় আজ সকালেও দুই মাঝিকে দুই হাজার টাকার জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া, লকডাউনের নিষেধাজ্ঞা ভাঙায় আরিচা-পাটুরিয়া মহাসড়কে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫৫টি মামলায় ১৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।’

Comments