মিয়ানমারে ২ বিমান ঘাঁটিতে রকেট হামলা

মিয়ানমারের দুটি বিমান ঘাঁটিতে রকেট হামলা চালিয়েছে অজ্ঞাত হামলাকারীরা। কারা এ হামলায় জড়িত সেটি এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ হামলার ঘটনায় তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবরও পাওয়া যায়নি।
আজ বৃহস্পতিবার বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানায়, কয়েক দশক ধরে মিয়ানমারের প্রত্যন্ত সীমান্ত অঞ্চলে সশস্ত্র বিদ্রোহী দলগুলো সামরিক বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালালেও দেশটির কেন্দ্রীয় অঞ্চলে উচ্চ পর্যায়ের সামরিক কাঠামোতে এই ধরনের হামলার ঘটনা খুবই কম।
দেশটির সেনাবাহিনী এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানায়, এখন পর্যন্ত কেউ এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। প্রথম হামলাটি আজ ভোরে সেন্ট্রাল শহর ম্যাগওয়ের কাছে একটি বিমান ঘাঁটিতে হয়েছিল। ওই বিমান ঘাঁটিতে চারটি রকেট নিক্ষেপ করা হয়। এর মধ্যে তিনটি রকেট একটি খামারে আঘাত করেছিল ও একটি রাস্তায় পড়েছিল। এ হামলায় একটি ভবন সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কেউ আহত হয়নি।
এরপরেই মিয়ানমারের অন্যতম প্রধান বিমান ঘাঁটি মেইকতিলার উত্তর দিকের একটি খামার থেকে পাঁচটি রকেট নিক্ষেপ করা হয়। তবে এ হামলায়ও কোনও ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
সেনাবাহিনী জানায়, হামলাকারীদের গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া চলছে।
হামলার সময় মেইকতিলা ঘাঁটির কাছে ছিলেন সাংবাদিক থান উয়িন হ্লাইং। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ করেন তিনি। ভিডিওতে তার মাথার ওপর দিয়ে রকেট উড়ে যাওয়ার মতো আওয়াজ ও এরপর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
গত ১ ফেব্রুয়ারি সেনা অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশটি অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। গণতন্ত্রপন্থি বিক্ষোভকারীরা মিয়ানমারের ছোট-বড় শহরগুলোতে লাগাতার বিক্ষোভ করছে। তাদের দমনে সামরিক বাহিনী সামরিক শক্তি ব্যবহার করছে।
দেশটিতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর হাতে এ পর্যন্ত ৭৫৬ জনেরও বেশি লোক নিহত হয়েছেন বলে দেশটির মানবাধিকার আন্দোলনকারী একটি গোষ্ঠী জানিয়েছে।
অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশটির সীমান্ত অঞ্চলগুলোতে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংখ্যালঘু জাতিগুলোর বিদ্রোহীদের আবারও নতুন করে লড়াই শুরু হয়েছে।
মিয়ানমারের স্থানীয় গণমাধ্যম বাগো ওয়াচ নিউজ এজেন্সি বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় শহর বাগোর কাছে অস্ত্র সংগ্রহশালায় একাধিক বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে জানিয়েছে। এ ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর বা বিস্ফোরণের কারণও জানা যায়নি।
সেনাবাহিনীর ব্রিফিংয়ে বাগোর ঘটনা উল্লেখ করা হয়নি। সম্প্রতি মিয়ানমারজুড়ে কয়েকটি ছোট ছোট বিস্ফোরণ ঘটানোর গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারীদের দায়ী করেছে সেনাবাহিনী।
Comments