শিবচরে নৌ দুর্ঘটনা

নিবন্ধন ছাড়াই চলছিল স্পিডবোটটি

মাদারীপুরের শিবচরে পদ্মায় বালুবাহী বাল্কহেডের সঙ্গে ধাক্কা লেগে উল্টে যাওয়া স্পিডবোটটির কোনো নিবন্ধন ছিল না। এর চালকের দক্ষতার সার্টিফিকেটও ছিল না। স্পিডবোটের আহত চালক শাহ আলম আটক হওয়ার পর এসব কথা জানিয়েছে শিমুলিয়া নৌ-বন্দর কর্তৃপক্ষ।
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বাংলাবাজার ঘাটে স্পিডবোট দুর্ঘটনায় নিখোঁজ যাত্রীদের উদ্ধার কাজে ডুবুরিরা। ছবি: সংগৃহীত

মাদারীপুরের শিবচরে পদ্মায় বালুবাহী বাল্কহেডের সঙ্গে ধাক্কা লেগে উল্টে যাওয়া স্পিডবোটটির কোনো নিবন্ধন ছিল না। এর চালকের দক্ষতার সার্টিফিকেটও ছিল না। স্পিডবোটের আহত চালক শাহ আলম আটক হওয়ার পর এসব কথা জানিয়েছে শিমুলিয়া নৌ-বন্দর কর্তৃপক্ষ।

এই দুর্ঘটনার জন্য চালকের অদক্ষতাকে দায়ী করেছে মাদারীপুর জেলা প্রশাসন ও পুলিশ।

আজ বিকেলে শিমুলিয়ার নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. শাহাদাত হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘উল্টে যাওয়া স্পিডবোটটির নিবন্ধন ছিল না। চালকের যোগ্যতা সনদও নেই। এ নৌ রুটের সব বোটের একই অবস্থা।’

তিনি জানান, স্পিডবোটটি কোথা থেকে যাত্রী নিয়ে রওনা হয়েছিল, নৌ-পুলিশ তা নিশ্চিত করতে পারেনি। চলমান বিধি-নিষেধের মধ্যে গত এক মাসে শিমুলিয়া ঘাটে স্থানীয় প্রশাসন কোনো অভিযান পরিচালনা করেনি।

শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে যেসব স্পিডবোট চলাচল করে সেগুলো নিবন্ধিত নয় বলে জানান তিনি।

মো. শাহাদাত হোসেন আরও জানান, তাদের পর্যাপ্ত জনবল না থাকায়, স্পিডবোট সংক্রান্ত নির্দেশনা নৌ-পুলিশ ও কোস্ট গার্ডের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়।

শিমুলিয়া স্পিডবোট ঘাটের ইজারাদার আশরাফ হোসেন জানান, স্পিডবোটটির মালিক লৌহজং উপজেলার চান্দু মিয়াঁ।

স্পিডবোট উল্টে নিহত ২৬ জনের মধ্যে ১৯ জনের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন পুলিশ। শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিরাজ হোসেন জানান, এখন পর্যন্ত ১৯ জনের মরদেহ শনাক্ত করেছেন তাদের আত্মীয়রা।

তারা হলেন--ফরিদপুরের আরজু সরদার ও তার ছেলে ইয়ামিন, মাদারীপুরের তাহের মীর, কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার কাওছার হোসেন ও রুহুল আমিন, তিতাস উপজেলার জিয়াউর রহমান, মুন্সিগঞ্জের সাগর শেখ, চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তরের দেলোয়ার হোসেন, মাদারীপুরের শিবচরের শাহদত হোসেন, বরিশালের আনোয়ার চৌকিদার, নড়াইলের লোহাগড়া থানার জোবায়ের মোল্লা, মাদারীপুর সদরের মাওলানা আ. আহাদ, খুলনার তেরখাদার হিনা বেগম, মনির মিয়া, তাদের সন্তান রুমি আক্তার, সুমি আক্তার, মাদারীপুরের হাসান মোল্লা, ঝালকাঠির নলছিটির এস এম নাসিরউদ্দিন, পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার এলাকার জনি অধিকারী।

মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক রহিমা খাতুন বলেন, ‘লকডাউনের নির্দেশনা অমান্য করে স্পিডবোটটি শিমুলিয়া ঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে বাংলাবাজার ঘাটে আসে। সকালে আলো কম থাকায় চালকের অদক্ষতায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।’

আরও পড়ুন:

শিবচরে পদ্মায় স্পিডবোট উল্টে নিহত ২৬

Comments

The Daily Star  | English
fire incident in dhaka bailey road

Fire Safety in High-Rise: Owners exploit legal loopholes

Many building owners do not comply with fire safety regulations, taking advantage of conflicting legal definitions of high-rise buildings, said urban experts after a deadly fire on Bailey Road claimed 46 lives.

2h ago