ভূমি অধিগ্রহণে অভিনব জালিয়াতি: ২৯ কোটি টাকা ১৫ ভুয়া মালিকের পকেটে

২০১৮ সালের ডিসেম্বরের ২৩ তারিখ। কক্সবাজার শহরের এক রেস্টুরেন্টে এক আত্মীয়ের বিয়েতে অংশ নিচ্ছিলেন নিজাম উদ্দিন (৫৫)। বিয়ের আনন্দঘন পরিবেশে উৎফুল্ল নিজাম একটা ফোন রিসিভ করেই বিমর্ষ হয়ে পড়েন। ফোনটি এসেছিল তার এক শুভাকাঙ্ক্ষীর কাছ থেকে। তিনি জানান একটি চক্র ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে মালিক সেজে সরকারি একটা প্রকল্পে নিজামের জমি বিক্রি করে দিয়েছে।

২০১৮ সালের ডিসেম্বরের ২৩ তারিখ। কক্সবাজার শহরের এক রেস্টুরেন্টে এক আত্মীয়ের বিয়েতে অংশ নিচ্ছিলেন নিজাম উদ্দিন (৫৫)। বিয়ের আনন্দঘন পরিবেশে উৎফুল্ল নিজাম একটা ফোন রিসিভ করেই বিমর্ষ হয়ে পড়েন। ফোনটি এসেছিল তার এক শুভাকাঙ্ক্ষীর কাছ থেকে। তিনি জানান একটি চক্র ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে মালিক সেজে সরকারি একটা প্রকল্পে নিজামের জমি বিক্রি করে দিয়েছে।

কিংকর্তব্যবিমূঢ় নিজাম তার দুই শতক জমির ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আশায় পরদিন জমির কাগজপত্র নিয়ে জেলা ভূমি অধিগ্রহণ অফিসে যান।

তার পর থেকে তিনি বহুবার ভূমি অধিগ্রহণ অফিসে গেছেন যা তার মতে– একশ বার। কিন্তু সরকারি কর্মকর্তারা তার প্রতি শুধু উদাসীনতা ও অবহেলা দেখিয়েছেন। ক্ষতিপূরণ পেতে তাকে কোনো সহযোগিতা করা হয়নি।

তিনি দাবি করেছেন, যার তার সম্পত্তির ভুয়া মালিক সেজে অধিগ্রহণের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এখন তিনি তাদের হুমকির মুখে আছেন।

নিজাম ১৪ মার্চ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘এটি অবিশ্বাস্য। আমার জমির সমস্ত বৈধ কাগজপত্র আছে, তবুও ওই চক্রটি ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা, সার্ভেয়ার এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের লোকেদের সহযোগিতায় জমির অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।’

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার হাইওয়ে সংলগ্ন কোলাতলী বাইপাস রোড এলাকায় পুলিশ ব্যুরো অব ইন্টেলিজেন্স (পিবিআই) অফিস তৈরির জন্য এক একর (১০০ শতক) জমি অধিগ্রহণে যে ব্যাপক জালিয়াতি হয়েছিল নিজামের ঘটনাটি এর একটি অংশমাত্র।

এই প্রতিবেদক ২৫ মার্চ অধিগ্রহণের জায়গাটি পরিদর্শনে গেলে সেখানে জমির প্রবেশের মুখে একটি সাইনবোর্ড দেখতে পান। সাইনবোর্ডে লিখা আছে জমিটি পিবিআই এর জন্য অধিগ্রহণ করা হয়েছে। জমির চারপাশে দেয়াল দেওয়া হয়েছে। ভেতরে একটি টিনশেড ঘর দেখা যায়।

পিবিআই নথি অনুসারে, জমিতে একটি প্রশাসনিক ভবন, ব্যারাক এবং অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।

দুদকের নথি থেকে জানা যায়, তাদের তদন্ত অনুযায়ী জমির প্রকৃত মালিকদের আড়াল করে, ভূমি কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় একটি চক্র জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে ৮০ শতক জমির বিপরীতে প্রায় ২৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে।

ডেইলি স্টার’র হাতে আসা নথি অনুসারে, অধিগ্রহণের জন্য সরকার প্রায় ৩১ কোটি ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দ করেছিল।

জালিয়াতির তদন্তে থাকা দুদকের এক কর্মকর্তা ডেইলি স্টারকে জানান, মাত্র একজন প্রকৃত জমির মালিক অধিগ্রহণের অর্থ পেয়েছেন। যেখানে অন্য ১৫ জন ভুয়া কাগজপত্র এবং অন্যান্য অবৈধ উপায়ে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

দুদকের নথিতে বলা হয়েছে, ১০০ শতক জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রত্যেক ধাপে ভূমি অধিগ্রহণ আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে।

উদাহরণস্বরূপ, নিজাম স্থানীয় ভূমি অফিস থেকে অধিগ্রহণের কোনো নোটিশ পাননি কিন্তু অভিযুক্ত সিন্ডিকেটের সদস্য নুরুল হক ২০১৯ সালের ২৩ জানুয়ারি এই নোটিশ পান। ডেইলি স্টারের কাছে এই নোটিশের একটি কপি আছে।

ভূমি অধিগ্রহণ আইন- ২০১৭ অনুযায়ী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এর নেতৃত্বে ভূমি অধিগ্রহণ অফিস, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অবশ্যই অধিগ্রহণের জন্য নির্বাচিত জমিতে মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শনে যাবেন। তারপর তারা জমিতে, ‘এই জমি অধিগ্রহণের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে’ এমন একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিবেন।

অধিগ্রহণের বিষয়ে যদি কারও কোনো আপত্তি না আসে তবে জমি অধিগ্রহণ অফিস জমি অধিগ্রহণ আইনের চার নম্বর ধারা অনুযায়ী জমির মালিককে নোটিশ জারি করবে এবং সাত নম্বর ধারা অনুসারে একটি মাঠ বই প্রস্তুত করবে, যেখানে জমির ক্ষতিপূরণ, গাছপালা এবং জমির ওপরে বিভিন্ন কাঠামোর মূল্য নির্ধারণ করা থাকবে। অফিস তারপর জমির মালিককে অর্থ প্রদান করবে।

সিন্ডিকেট জমির জাল কাগজপত্র তৈরি করেছে

গত বছরের ডিসেম্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে এই জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত আট জন অভিযোগ করেন যে, মো. ইদ্রিস সিআইপি, নুরুল হক এবং বেলায়েত হোসেনের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট পিবিআই এর জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করেছেন।

সিন্ডিকেট জমি দখলের জন্য কেবল ভুয়া কাগজপত্রই তৈরি করেননি বরং জমির প্রকৃত মালিকদের অবৈধ অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে আওয়াজ না তুলতে হুমকিও দিয়েছিলেন।

ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে নুরুল আলম অভিযোগ করেন,একাধিক আবেদন এবং জাল দলিল সংক্রান্ত মামলা সত্ত্বেও ভূমি অধিগ্রহণ অফিস সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

ডেইলি স্টার’র প্রাপ্ত নথিতে দেখায় যায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কক্সবাজারে পিবিআই অফিসের জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রশাসনিক অনুমোদন দেয় ২০১৮ সালের ১ অক্টোবর।

জেলা প্রশাসন কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা মৌজার অধীনে ২০৩০৭, ২০৩০৬, ১৭০৫০ এবং ২০১৬৩ নম্বর প্লট নির্বাচন করে ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে একশ শতক জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করে।

চারটির প্লটের মধ্যে ২০৩০৭ প্লটে সবচেয়ে বেশি ৭৫ শতাংশ জমি রয়েছে এবং বাকী জমি তিনটি প্লট রয়েছে। এই প্লটগুলোকে কেন্দ্র করে ১০ জনের একটি চক্র ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করে।

ইদ্রিস সিআইপি ও নুরুল হকের নেতৃত্বে চক্রটি অধিগ্রহণ করা প্লটগুলোর মধ্যে ৫৪ শতাংশ তাদের নিজের জমি বলে দাবি করে যা তারা চারটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মাধ্যমে ২০১৮ এবং ২০১৯ সালে দুটি ধাপে চন্দ্রিমা আবাসিক অঞ্চল থেকে কিনেছে। জমি অধিগ্রহণ অফিস থেকে প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী পিবিআই এর জন্য অধিগ্রহণ করা প্লটগুলো থেকে এই জমি আধা কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

প্রকৃত ভূমি মালিকদের একাধিক আবেদনের পরও অধিগ্রহণ অফিস পুরো প্রক্রিয়া জুড়ে এই ভুয়া মালিকদেরকেই প্রকৃত মালিক হিসেবে বিবেচনা করেছে।

ভূমি অধিগ্রহণ অফিস নেজামুল হককে ২০৩০৬ নং প্লটের ১৮ শতাংশ জমির মূল্য পরিশোধ করে। তবে খতিয়ান এবং জমির ম্যাপ অনুযায়ী দেখা যায় ওই প্লটে মাত্র সাত শতাংশ জমি রয়েছে।

করোনা মহামারির কারণে দেশব্যাপী সাধারণ ছুটির ঠিক একদিন আগে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ নেজামুল ভূমি অধিগ্রহণ অফিস থেকে ৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা তুলে নিয়েছেন।

ইদ্রিস সিআইপির স্ত্রী জিন্নাত রেহানা একটি বিক্রয় দলিল (নম্বর-১০২০) ব্যবহার করে দুবার টাকা উত্তোলন করেন। প্রথমে ৪ দশমিক ৪১ শতাংশ জমির জন্য এবং তারপর নয় শতাংশ জমির জন্য টাকা উত্তোলন করেন তিনি।

যদিও তিনি জাল বিক্রয় দলিল অনুযায়ী ১০ শতাংশ জমির মালিক। ২০২০ সালের মার্চ মাসে ১৩ দশমিক ৪১ শতাংশ জমির জন্য চারটি চেকের মাধ্যমে তিনি প্রায় তিন কোটি ৫০ লাখ টাকা উত্তোলন করেন।

নির্দিষ্ট সময়ে টাকা ছাড়

ডেইলি স্টার’র প্রাপ্ত নথি থেকে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে যে, তদানীন্তন ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা অজিত দেব তার পেমেন্ট অ্যাসেসমেন্টে (অর্থ প্রদানের আগে জমির দলিলগুলোর একটি বিস্তারিত মূল্যায়ন) - ৮০ শতক জমির জন্য কক্সবাজারের যুগ্ম দায়রা জজ আদালতে ১০টি মামলা অনিষ্পন্ন অবস্থায় আছে উল্লেখ করে ২০১৯ সালের ৯ অক্টোবর চেক হস্তান্তর স্থগিত করে দেন।

আইন অনুযায়ী, জমি সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তি না করা পর্যন্ত চেক ছাড় দেওয়া যাবে না।

অজিত দেব আরও বলেন, মালিকানা দাবি করা ৮০ শতক জমির দলিলটি চন্দ্রিমা আবাসিক অঞ্চলের জমির জন্য ছিল যা অধিগ্রহণের জন্য নির্বাচিত অঞ্চলের বাইরে।

অজিত দেব অর্থ ছাড়ের বিষয়টি আটকে দেয়ায়, নুরুল হক মামলার ভুয়া বাদী সেজে নতুন ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা শামীম হোসেনের কাছে ১০ নভেম্বর, ২০১৮ চুক্তির একটি জাল স্মারকলিপি জমা দিয়ে বলেছিলেন যে অভিযোগকারীরা আদালত থেকে মামলাগুলো তুলে নিতে রাজি হয়েছে এবং টাকা ছাড়ের জন্য অধিগ্রহণ অফিসের প্রতি আহ্বান জানান।

সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আশরাফুল আফসার, এবং ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা শামীম হোসেনের নেতৃত্বে ভূমি অধিগ্রহণ অফিস ভুয়া আপোসনামা গ্রহণ করে অর্থ ছাড় দেয় যদিও নুরুল হক বিতর্কিত জমি নিয়ে দায়ের করা কোনো মামলায় বাদী ছিলেন না।

শামীম হোসেন ১ ডিসেম্বর ২০১৯ সালে তার পর্যালোচনা প্রতিবেদনে অজিত দেবের আপত্তির বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে বলেন যে, আপত্তি এবং মামলা সম্পর্কিত বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছে এবং অর্থ প্রদানের প্রক্রিয়াটি সহজ করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

২০২০ সালের ২৪ শে মার্চ কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ভূমি অধিগ্রহণ অফিসে দায়িত্বে রদবদলের পর, পিবিআই জমি অধিগ্রহণ সম্পর্কিত ফাইলটি গ্রুপ-৩ এর কাছে থেকে গ্রুপ-১ এর কাছে স্থানান্তর করে।

জালিয়াতি তদন্তকারী দুদকের এক কর্মকর্তা ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘এক গ্রুপ থেকে অন্য গ্রুপে ফাইলগুলো স্থানান্তর করতে কমপক্ষে এক সপ্তাহ সময় লাগে। তবে গ্রুপ-৩ তাৎক্ষণিক ফাইলগুলো স্থানান্তর করে এবং গ্রুপ-১ পরের দিন ১৪ জনকে ১৭ কোটি টাকার ১৭টি চেক প্রদান করে।’

জমি অধিগ্রহণের ইতিহাসে এত দ্রুত অর্থ ছাড়ের এটাই প্রথম ঘটনা ছিল, যোগ করেন তিনি।

এই কর্মকর্তা জানান, লকডাউন বাড়ার কারণে চক্রটি অনুমান করেছিল যে, অফিস অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে বিলম্ব করতে পারে তাই তারা যত দ্রুত সম্ভব চেকগুলো ছাড়িয়ে নিয়েছে।

জমি অধিগ্রহণের জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকায় গত বছরের ১০ মার্চ দুদক দুজন মধ্যস্বত্বভোগী ও এক সার্ভেয়ারকে ৯৯ লাখ টাকাসহ গ্রেপ্তার করে একটি মামলা দায়ের করে।

একজন অভিযুক্তসহ জেলা প্রশাসকের তদন্ত কমিটি

পিবিআই’র জমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে দুই শতাংশ জমি হারানো নুরুল আলম ২০২০ সালের ২০ আগস্ট আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আশরাফুল আফসার, ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা শামীম হোসেন এবং আবু হাসনাত মো. শহিদুল হকসহ ১৪ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

পরদিন আদালত আদেশে নুরুল আলমের উত্থাপিত অভিযোগের ভিত্তিতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসককে বিষয়টি তদন্ত করে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেন।

কক্সবাজারের তৎকালীন জেলা প্রশাসক ২০২০ সালের ১৭ মে অভিযুক্ত আশরাফুল আফসারকে অন্তর্ভুক্ত করে তদন্ত কমিটি গঠন করে।

কমিটি তদন্তে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় কোনো সমস্যা খুঁজে পায়নি উল্লেখ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে।

সম্প্রতি অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যাওয়া নুরুল আলম এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলতে পারেননি। তিনি শুধু ডেইলি স্টারকে বলেন যে, তিনি আদালতে দায়ের করা মামলার তেমন অগ্রগতি দেখেননি।

তবে জালিয়াতির মামলার তদন্তকারী চট্টগ্রাম দুদকের সমন্বিত অফিস-২ এর এক কর্মকর্তা বলেন, একজন অভিযুক্তকে নিয়ে গঠিত কমিটির কাছ থেকে যথাযথ তদন্ত আশা করা যায় না। ক্ষতিপূরণ বঞ্চিত জমির মালিকদের অভিযোগের দিকে নজর দেয়নি কমিটি।

তিনি বলেন যে, ইদ্রিস সিআইপি, বেলায়েত হোসেন এবং নুরুল হকের নেতৃত্বে চক্রটি জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াটির প্রতিটি পর্যায়ে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে বলে তারা প্রমাণ পেয়েছেন।

ইদ্রিস সিআইপি, নুরুল হক, নাসির উদ্দিন, টিপু সুলতান, গোলাম মাওলা, ও শামীমুর রহমান – এই ছয়জন প্রতারক ১৮ জুন, ২০১৯ ঘুষের টাকা কে পরিশোধ করবে এবং ভূমি অধিগ্রহণ অফিস থেকে টাকা পাওয়ার পর কার অংশ কত হবে এরকম একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

ডেইলি স্টার সেই চুক্তির একটি অনুলিপি পেয়েছে, যেখানে প্রতারকেরা দুটি পক্ষে বিভক্ত ছিল। প্রথম পক্ষে ইদ্রিস সিআইপি একাই এবং দ্বিতীয় পক্ষে ছিল বাকী পাঁচ জন।

চুক্তি অনুসারে, ছয় জন একটি যৌথ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে সম্মত হয়েছেন। এই অ্যাকাউন্ট থেকে দ্বিতীয় পক্ষ মাত্র এক কোটি টাকা পাবে এবং ইদ্রিস অবৈধ জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত যাবতীয় ব্যয় বহন করায় বাকি সব টাকা পাবেন।

পিবিআই’র ভূমিকা

পিবিআই প্রশ্নবিদ্ধ এই জমিটি নির্বাচিত করেছিল এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরের বছর এটির জন্য প্রশাসনিক অনুমোদন দিবে এর ভিত্তিতে ২০১৭ সালে জেলা ভূমি অধিগ্রহণ কমিটি এটির অনুমোদন দিয়েছিল।

কক্সবাজার পিবিআই’র তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান ২৬ এপ্রিল ডেইলি স্টারকে জানান যে, প্রত্যাশিত সংস্থা হিসেবে জমি অধিগ্রহণে তাদের বড় কোনো ভূমিকা ছিল না। ‘কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ অফিস এটি করেছে।’

কোনো প্রত্যাশিত সংস্থা কেন বিতর্কিত জমি বেছে নিবে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনি ২০১৮ সালের ২৫ মার্চ অবধি কক্সবাজার পিবিআই এর দায়িত্বে ছিলেন এবং ওই সময়ে প্রক্রিয়াটি শুরুর পর্যায়ে ছিল।

খাগড়াছড়িতে বদলি হওয়া মনিরুজ্জামান বলেন, ‘সুতরাং তখন আমরা জানতাম না যে কে কতটুকু জমির মালিক, সবকিছু যাচাই করার বিষয়টি ভূমি অধিগ্রহণ অফিসের হাতে ছিল।’

অভিযুক্তকদের বর্তমান অবস্থা

সম্প্রতি দুদক ইদ্রিস সিআইপি ও নুরুল হককে গ্রেপ্তার করেছে।

কাগজপত্রে মাত্র সাত শতাংশ জমির মালিক হলেও ১৮ শতাংশ জমির বিপরীতে ৫২ কোটি ২৫ লাখ টাকা উত্তোলনকারী নেজামুল হক ডেইলি স্টারের কাছে দাবি করেছেন যে, তার ১৮ শতাংশ জমির মালিকানা প্রমাণ করার নথি সহজেই পাওয়া যাবে।

তবে কক্সবাজার ভূমি অফিসের ই-মিউটেশন ওয়েবসাইটে অনুসন্ধানে নেজামুলের মালিকানাধীন জমিটি যার খতিয়ান নম্বর ৭৫৪৫ স্থগিত অবস্থায় পাওয়া গেছে।

অপর অভিযুক্ত বেলায়েত হোসেনকে একাধিকবার ফোনে কল করলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

আদালতে কয়েক ডজন মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও কীভাবে জমির ভুয়া মালিকদের কাছে অর্থ ছাড় দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা শামীম হোসেন ডেইলি স্টারকে জানান যে তার সুপারভাইজারদের অনুমতি ছাড়া এই বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে পারবেন না।

কক্সবাজারের সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আশরাফুল আফসার যিনি এখন বদলি হয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে আছেন তিনি ডেইলি স্টারকে জানান, কিছু জটিলতার কারণে একটি চেক ঝুলে ছিল এমন একটি ঘটনা তিনি স্মরণ করতে পারছেন। তিন সদস্যের কমিটি গঠনের পর তারা চেকটি পরে ছেড়ে দেয়।

‘এ ছাড়াও সবকিছু যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করে করা হয়েছিল,’ তিনি দাবি করেন।

প্রতিবেদনটি ইংরেজি থেকে বাংলায় অনুবাদ করেছেন সুমন আলী

Comments

The Daily Star  | English

Explosions in Iran, US media reports Israeli strikes

Iran's state media reported explosions in central Isfahan Friday, as US media quoted officials saying Israel had carried out retaliatory strikes on its arch-rival

3h ago