কুলাউড়ায় অনুমোদন আছে ৪৩ অটোরিকশার, অবৈধভাবে চলছে ৫ শতাধিক

উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও মৌলভীবাজা‌রের কুলাউড়া পৌর এলাকায় পুরোদমে চলছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। পৌরসভা এ পর্যন্ত মোট ৪৩টি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অনুমোদন দিলেও পাঁচ শতাধিক অটোরিকশা অবৈধভাবে চলাচল করছে পৌর এলাকায়।
ছবি: সংগৃহীত

উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও মৌলভীবাজা‌রের কুলাউড়া পৌর এলাকায় পুরোদমে চলছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। পৌরসভা এ পর্যন্ত মোট ৪৩টি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অনুমোদন দিলেও পাঁচ শতাধিক অটোরিকশা অবৈধভাবে চলাচল করছে পৌর এলাকায়।

পৌর শহরের একাধিক অটোরিকশা চালকের সঙ্গে কথা বলা হলে তারা অভিযোগ করেন, সমিতির নাম করে কয়েকটি চক্র রিকশাচালকদের থেকে চাঁদা আদায় করে।

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক কুদ্দুস মিয়া তিন হাজার টাকা দিয়ে পৌরসভায় নিবন্ধন করেছেন।

তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘অবৈধ অটোরিকশার সংখ্যা এতোই বেশি যে মাঝে মাঝে নিজেকেও অবৈধ মনে হয়। আমার চাচার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা আমি চালাই। পরিবহন শ্রমিক সমিতির সদস্য হওয়ার জন্য আমার কাছ থেকে ৩০০ টাকা এবং পরিবহন কার্ডের জন্য ১০০ টাকা নেওয়া হয়েছে।’

এদিকে নিবন্ধনহীন একাধিক অটোরিকশা চালক জানান, পৌরসভা এখন নিবন্ধন দিচ্ছে না। সমিতিকে টাকা দিয়ে কার্ড নিয়ে তারা অটোরিকশা নিয়ে বের হচ্ছেন।

কুলাউড়া পৌরসভার সচিব শরদিন্দু চক্রবর্তী দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, এ পর্যন্ত মোট ৪৩টি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কেন অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জনস্বার্থে এটি করা হচ্ছে।’

অনুমোদন ছাড়া পৌর এলাকায় পাচশ’রও বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলে উল্লেখ করে ট্রাফিক পুলিশ কুলাউড়া কার্যালয়ের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আজাদ মিয়া দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমরা আটক করলেও অনেকের ফোন পেয়ে ছেড়ে দিতে হয়। কিছু করার থাকে না।’

কুলাউড়া পৌরসভার নবাগত মেয়র অধ্যক্ষ সিপার উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা জুলাই মাসে ২০০ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অনুমোদন দেব। পরে যানজট নিরসনে নিবন্ধনহীন রিকশার উচ্ছেদে অভিযানে নামবে পৌর কর্তৃপক্ষ।’

উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞার কথা জানিয়ে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম ফরহাদ চৌধুরী বলেন, ‘যানজট নিরসনে ঈদের পরেই অভিযান পরিচালনা করা হবে।’

Comments