নারায়ণগঞ্জে পুলিশ বক্সে আইইডি নিষ্ক্রিয় করা হলো রোবট দিয়ে

নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে একটি বস্তায় পাওয়া গেল ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি)। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের একটি দল রোবট ব্যবহার করে এটি নিষ্ক্রিয় করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, বোমাটি কীভাবে সেখানে এলো তা ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ বক্সের বাইরে পাওয়া যাওয়া একটি আইইডি রোবট দিয়ে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। ছবি: স্টার

নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে একটি বস্তায় পাওয়া গেল ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি)। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের একটি দল রোবট ব্যবহার করে এটি নিষ্ক্রিয় করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, বোমাটি কীভাবে সেখানে এলো তা ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আজ বিকেলে ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে বোমাটি পাওয়ার পরই জায়গাটি ঘিরে রাখেন র‌্যাব ও পুলিশ সদস্যরা। খবর পাঠানো হয় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটকে। বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট আসিফ হোসেন বোমা সদৃশ বস্তুটি দেখে অন্যান্য পুলিশ সদস্যদের নিয়ে সেখান থেকে সরে যান। পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতনদের জানানো হয়।’

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইমরান মেহেদী সিদ্দিকী বলেন, ‘ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে জানালে দ্রুত তারা এখানে চলে আসে। প্রাথমিকভাবে তারা নিশ্চিত করে এটি দূর নিয়ন্ত্রিত বোমা। এর পরই তাদের পূর্ণাঙ্গ ইউনিট বোমা নিষ্ক্রিয়করণ রোবট নিয়ে এখানে চলে আসে। কিছু সময়ের জন্য আমরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলাচল বন্ধ করে দেই। প্রায় আধা ঘণ্টা পর রোবটের সাহায্যে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করা হয়।’

বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘এটা শক্তিশালী আইইডি ছিল। তারা দূর থেকে এটা নিষ্ক্রিয় করেছে। এখানে একটিই বোমা ছিল। নিষ্ক্রিয় করার পরপরই যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করে দেওয়া হয়।’

এটি জনবহুল এলাকায় বিস্ফোরিত হলে কতটা ক্ষতি হতে পারত, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘২৫ মিটারের মধ্যে যারা থাকত তাদের গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কা ছিল।’

তিনি বলেন, ‘বোমাটি এখানে কীভাবে এলো আমরা ক্ষতিয়ে দেখব। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ দেখা হবে। বিস্তারিত তদন্তের পর বলা যাবে।’

ট্রাফিক সার্জেন্ট মো. আসিফ হোসেন বলেন, ‘বক্সের বাইরে একটি ব্যাগ দেখে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি বিষয়টা আমাদের জানান। ব্যাগটির কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল। কাপড় সরিয়ে দেখতে পাই গ্যাস লাইটারের রিফিলের মতো বোতল। বোতলটির মাথায় লাল তার ও টেপ দিয়ে পেঁচানো ছিল। তখন ভয় পেয়ে যাই। সঙ্গে সঙ্গে বক্সে থাকা পুলিশের অন্য সদস্যদের ডেকে বাইরে নিয়ে আসি এবং ঊর্ধ্বতনদের জানাই। পরে তারা বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটকে জানায়।’

তিনি বলেন, ‘কে বা কারা এখানে বোমাটি রেখে গেছে জানি না। কারণ ব্যাগ রাখতে কাউকে দেখিনি।’

আরও পড়ুন:

নারায়ণগঞ্জে পুলিশ বক্সে বোমা সাদৃশ্য বস্তু

Comments