মেসির ব্যক্তিগত দিক: তার স্মৃতি, আবেগ, অনুশোচনা ...

মাত্র ১৩ বছর বয়সে আর্জেন্টিনার রোজারিও থেকে বার্সেলোনায় আসেন লিওনেল মেসি। প্রথম দিকে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে বেশ কষ্ট হয়েছিল তার। ধীরে ধীরে স্পেনে মানিয়ে নেওয়ার পর পেছনে তাকাতে হয়নি তাকে। পেয়েছেন আকাশচুম্বী তারকাখ্যাতি। তিনি বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় তো বটেই। কারো কারো দৃষ্টিতে মেসি সর্বকালের সেরাও।
ছবি: সংগৃহীত

মাত্র ১৩ বছর বয়সে আর্জেন্টিনার রোজারিও থেকে বার্সেলোনায় আসেন লিওনেল মেসি। প্রথম দিকে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে বেশ কষ্ট হয়েছিল তার। ধীরে ধীরে স্পেনে মানিয়ে নেওয়ার পর পেছনে তাকাতে হয়নি তাকে। পেয়েছেন আকাশচুম্বী তারকাখ্যাতি। তিনি বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় তো বটেই। কারো কারো দৃষ্টিতে মেসি সর্বকালের সেরাও।

কিন্তু কেমন ছিল তার শৈশব? অন্য সবার মতোই কি? বন্ধুদের সঙ্গে কি কথা হয় তার? কি খেতে পছন্দ করেন? কীভাবে ফুটবলে এলেন? অনুপ্রেরণা কে দিয়েছেন? এমন অনেক প্রশ্নের উত্তর মেসি দিয়েছেন আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম দিয়ারিও ওলের কাছে এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে। তার উল্লেখযোগ্য অংশ তুলে ধরা হলো দ্য ডেইলি স্টারের পাঠকদের জন্য।

ফুটবলে আসার শুরুর গল্প

'আমাদের এক কাজিন (ফুটবল) খেলত। ভিন্ন বয়সের হওয়ায় আমরা প্রায় প্রতিদিনই সেখানে যেতাম। একবার ৮৬ সালে জন্ম নেওয়া কিছু ছেলে খেলছিল। অর্থাৎ আমার চেয়ে এক বছরের বড় আরকি। তাদের একজন খেলোয়াড়ের প্রয়োজন ছিল —আমার দাদি কোচকে বললেন 'ওকে নিয়ে নিন।' না, আমি কীভাবে তাকে দলে নেব, সে কত ছোট দেখেছেন! আঘাত পাবে—কোচ বলেছিলেন। কিন্তু দাদি অনড়—অনবরত বলছিলেন 'নিয়ে নিন, নিয়ে নিন।'

'ওকে ফুটবল বুট কিনে দাও। আগামী সপ্তাহ থেকে ওকে অনুশীলনে নিয়ে যাব। এরপরই সব শুরু হলো। সময়টা অসাধারণ ছিল।'

'৪-৫ বছর বয়সের আগেও আমি বল নিয়ে খেলতাম। ঠিক যখন থেকে হাঁটতে শিখেছি। মনে আছে প্রথম ম্যাচটা ছিল গ্রান্দোল্লিতে (রোজারিও)। আমার চেয়ে বয়সে বড় কাজিনরা ছিল। সবাই একত্র হলেই খেলতে নামতাম। প্রথম কবে বল নিয়ে খেলেছি, তা মনে পড়ছে না। তবে এটা ঠিক খুব অল্প বয়স থেকেই খেলা শুরু করি। ৪ বছর বয়সে খেলা শুরু করেছি ক্লাবে, রাস্তায়—সব সময় শুধু খেলেছি।'

প্রিয় খাবার

'মা একটা বিশেষ সস দেয় ওটার ওপরে। আমি প্রচুর মিলানেসা (ভাজা মাংস ও আলুর তৈরি দক্ষিণ আমেরিকান খাবার) খেয়েছি। কিন্তু বাড়িতে মা বিশেষ ওই সস দিয়ে যেটা রান্না করেন, ওটার তুলনা নেই। অন্যরাও মায়ের হাতেরটা খেয়েছে আর বলেছে তারটাই সেরা।'

গোপন কোনো শখ বা ইচ্ছা

'এমন কিছু আসলে নেই। আমি প্যাডেল খেলতে পছন্দ করি এবং মাঝেমাঝে টেনিস খেলা দেখি'

'প্যাডেল আমার খুব পছন্দ। আমি পেপেকে (বন্ধু) আমার দলে নিই। ও খুব ভালো খেলে। আমি শুধু দৌড়াদৌড়ি করি। খুব বেশি একটা খেলা হয় না, কারণ আমাদের তিন দিন পরপর ম্যাচ থাকে। কিন্তু এটা খেলতে আমার দারুণ লাগে।'

মোবাইল ব্যবহার

'অন্য সবার মতোই, আমি অনেক মোবাইল ব্যবহার করি। সবসময়ই এবং কখনো কখনো অনেক বেশি। কিছু ক্ষেত্রে আপনি বুঝতে পারবেন না যে নিজের ফোনে আপনি নিজেকে বোকা বানাচ্ছেন এবং কিছু করছেন না।একটি জিনিস অন্যটির দিকে পরিচালিত করে। তবে আমাদের বেশিরভাগই এখন এটি করেন।'

নিজের ফ্যাশন নিয়ে

'আন্তোনেলা আমার জন্য বেছে নেয়। আমি খুব বেশি করি না। আমার এসব বিশেষ কিছু নেই এবং কখনোই এ নিয়ে মাথা ঘামাইনি, কেবল স্বাভাবিক থাকি।'

দাড়ি রাখার কারণ

'আমি সব সময় শেভ করতাম। জিলেটের (রেজার কোম্পানি) সঙ্গে যখন আমার চুক্তি ছিল তখন তারা আমাকে সব সময় শেভ করতে বলত। ওদের চুক্তি শেষ হওয়ার পরই আমি ঠিক করি যে শেভ করব না। ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা, যেটা আমেরিকায় হয়েছিল তখন থেকে দাড়ি রাখা শুরু করি। ওখানে অনেককেই দাড়ি রাখতে দেখেছি।'

ছাত্র হিসেবে কেমন ছিলেন

'ছাত্র হিসাবে আমি কেমন ছিলাম? আমি পড়াশোনা পছন্দ করতাম না এবং এটা আমার জন্য কঠিন ছিল, তবে আমি ভাল ব্যবহার করেছিলাম।'

শৈশবে কোনো কিছুর অভাব ছিল কি-না

'আমার কোনো কিছুর অভাব হয়নি কারণ আমার বাবা সারা দিন কাজ করতেন এবং সম্ভবত আমাদের কোনো কিছুর অভাব যাতে না হয় তা নিশ্চিত করার জন্যই তিনি সেখানে ছিলেন না। তিনি অতিরিক্ত সময় কাজ করতেন এবং ওভারটাইমও করতেন। আমার এমন বন্ধু ছিল যারা বস্তির কাছে খাবার, বিদ্যুৎ বা পানির অভাবে থাকত।'

বন্ধুদের সঙ্গে কথোপকথন

'আমরা সবকিছু নিয়েই কথা বলি। অন্য সবার বন্ধুত্বের মতোই স্বাভাবিক। আমরা ফুটবল এবং জীবন সম্পর্কে কথা বলি। ভাইরাসজনিত কারণে দেশের সমস্যা সম্পর্কে, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে কী ঘটে সে সম্পর্কে সাধারণ বিষয় নিয়ে কথা বলি।'

শৈশব

'আর্জেন্টিনায় আমার শৈশব ছিল দুর্দান্ত। এটি কিছুটা আলাদা ছিল, জীবন ছিল আলাদা। ওখানকার বাচ্চারা বিভিন্ন উপায়ে জীবনযাপন করত, আজকের চেয়ে বিষয়গুলো ভিন্ন ছিল এবং আমি সে দিনগুলো সত্যিই খুব উপভোগ করেছি।'

নিজ শহর ছেড়ে বার্সায় আসার অনুভূতি

'আমি কাঁদতাম। আমি যেতে চাইতাম না। একই সঙ্গে বার্সেলোনায় গিয়ে আমি যা করি (ফুটবল খেলা) তা করতে ইচ্ছা করত। আমার বন্ধুদের থেকে দূরে চলে এসেছিলাম। এখন ১৩ বছরের সবার কাছে মোবাইল ফোন আছে। তখন তেমনটা ছিল না। যখন আমাকে ফোনে কথা বলার সুযোগ দেয়া হতো, তখন দেখা যেত আমি ঘণ্টাখানেক কথা বলছি।'

সৌদি আরবের সেই বিব্রতকর ঘটনা

'এটা লোকটি করেছিল, তবে অনিচ্ছাকৃত ছিল। এটা খুব ভীতিজনক ছিল। সে বুঝতেও পারেননি যে সে এটা করছে।'

জার্সি বদল

'এটা অনেকবারই হয়। আমি সবসময় জার্সি বদল করি। এর বাইরে যখন আমি রাগান্বিত থাকি সরাসরি স্টেডিয়ামে ত্যাগ করি'

'আমি যখন বড় হই তখন আমি জার্সি বা স্যুভেনির পছন্দ করতে শুরু করি। এর আগে মনোযোগ দিইনি। রোনালদো (নাজারিও) বা রবার্তো কার্লোসের মতো খেলোয়াড়দের বিপক্ষে আমি যখন ছোট ছিলাম তখনই মুখোমুখি হয়েছিলাম। তাদের থেকে জার্সি না চাওয়ায় এখন আফসোস করি। আমি এই জার্সিগুলো থাকলে খুব খুশি হতাম।'

সতীর্থরা যখন তার সঙ্গে ছবি তুলতে আসেন

'এটা খুবই দারুণ একটি ব্যাপার, এত খেলোয়াড় নীচ থেকে উঠে আসছে। দলের পুরানোদের মতো তাদের সঙ্গেও ছবি তুলতে একই রকম অনুভব করেছি। সব দিক থেকেই এটা দারুণ একটি সুন্দর মুহূর্ত ছিল।'

কোপা আমেরিকা নিয়ে

'পুরো দল এটার অপেক্ষায় রয়েছে, তারা খেলার জন্য রোমাঞ্চিত। এটা একটি বিশেষ কাপ, এটি আলাদা হবে কারণ এখানে কোনও দর্শক থাকবে না। কিন্তু তারপরও ব্যক্তিগতভাবে আমি এর জন্য মুখিয়ে রয়েছি।'

অন্য লিগের ফুটবল খেলা কি দেখেন

'আমি অনেক বেশি দেখি। আমি অন্য লিগগুলোর খেলা দেখতে পছন্দ এবং সবসময় আপডেট থাকতে পছন্দ করি।'

'এটা আমাকে তাদের বিপক্ষে খেলার সময় কীভাবে চাপ বাড়াবো এবং আক্রমণ করবো তা ঠিক করতে সহায়তা করে।'

আর্জেন্টিনার মানুষদের জন্য মেসেজ

'তারা সবসময় আমাকে সমর্থন দিয়ে এসেছে তার জন্য আমি খুবই কৃতজ্ঞ। আমি জানি যে আর্জেন্টিনার লোকেরা আমাকে অনেক বেশি ভালোবাসে, যদিও আমরা অনেক বছর ধরেই কঠিন সময় পার করেছি। আমি জানি ভাইরাসটির কারণে সবকিছুই কঠিন হয়ে গেছে। আশা করি আমরা এগিয়ে যেতে পারব।'

Comments

The Daily Star  | English

Flood situation in Sylhet, Sunamganj worsens

Heavy rains forecast for the next 3 days in region

3h ago