অলিম্পিক বাতিলে জাপানের ক্ষতি হতে পারে ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার

টোকিওতে অনুষ্ঠিতব্য গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক ও প্যারাঅলিম্পিক গেমস বাতিল হলে জাপানের প্রায় এক দশমিক ৮১ ট্রিলিয়ন ইয়েন (১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) ক্ষতি হবে।
Tokyo Olympics
টোকিওতে জাপান অলিম্পিক জাদুঘরের সামনে দিয়ে মাস্ক পড়ে হেঁটে যাচ্ছেন এক নারী। ছবি: রয়টার্স ফাইল ফটো

টোকিওতে অনুষ্ঠিতব্য গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক ও প্যারাঅলিম্পিক গেমস বাতিল হলে জাপানের প্রায় এক দশমিক ৮১ ট্রিলিয়ন ইয়েন (১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) ক্ষতি হবে।

নমুরা রিসার্চ ইন্সটিটিউটের (এনআরআই) এই পূর্বাভাষের বরাত দিয়ে জাপান টাইমস গতকাল মঙ্গলবার জানিয়েছে, দুমাসেরও কম সময় পর (২৩ জুলাই) অলিম্পিক গেমস শুরু হওয়ার কথা থাকলেও জাপানের জন্য এখন বড় দুশ্চিন্তার কারণ বাড়তে থাকা করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার।

গবেষণা সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে অলিম্পিক গেমসের কারণে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আবারও বেড়ে গেলে এর থেকে অর্থনীতিতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বেশি হতে পারে।

এনআরআই-এর নির্বাহী অর্থনীতিবিদ টাকাহিদে কিউচি বলেন, ‘অলিম্পিক বাতিল হলেও তাতে দেশব্যাপী জরুরি অবস্থা ঘোষণার চেয়ে অর্থনৈতিক ক্ষতি কম হবে।’

এনআরআই-এর হিসাব অনুযায়ী, দর্শকবিহীন অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হলে এক দশমিক ৬৬ ট্রিলিয়ন ইয়েন আয় হবে। আর স্থানীয় দর্শকদের এ আয়োজনে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হলে এর সঙ্গে আরও ১৪৬ দশমিক আট বিলিয়ন ইয়েন যোগ হতে পারে।

বিভিন্ন সমীক্ষায় জাপানের জনমানুষের মনে মহামারির সময়ে অলিম্পিক আয়োজন নিয়ে শঙ্কার ব্যাপারটি উঠে এসেছে। মে মাসের মাঝামাঝিতে পরিচালিত কিয়োডো নিউজের সমীক্ষায় জানা গেছে, ৬০ শতাংশ মানুষ মনে করেন অলিম্পিক ও প্যারাঅলিম্পিক বাতিল করা উচিৎ।

জাপানের কিছু অংশে, বিশেষ করে জনবসতি পূর্ণ টোকিও ও ওসাকা শহরে আবারও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে গেছে। এসব এলাকায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।

দেশটির টিকাদান কর্মসূচী বেশ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। তবে তা এখনও উন্নত বিশ্বের দেশগুলো, যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য থেকে অনেক পিছিয়ে রয়েছে।

সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের নাগরিকদের জাপান ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে। সেই সঙ্গে ট্র্যাভেল এলার্ট সর্বোচ্চ লেভেল চার এ উন্নীত করেছে।

ব্যাঙ্ক অব জাপানের নীতিমালা সংক্রান্ত বোর্ডের সাবেক সদস্য কিউচি বলেন, ‘বিভিন্ন পূর্বাভাষ বলছে অলিম্পিকের আয়োজন করা আর না করার ব্যাপারটি। আর আয়োজন করলেও সেখানে দর্শক থাকবে কি থাকবে না, তা সংক্রমণের ঝুঁকির ভিত্তিতেই নির্ধারণ করা উচিৎ। অর্থনৈতিক ক্ষতির হিসাবের ভিত্তিতে নয়।’

২০২১ সালের প্রথম তিন মাসে জাপানের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পাঁচ দশমিক এক শতাংশ কমে গেছে। আর বিশেষজ্ঞদের মতে, এপ্রিল থেকে জুন মাসে তা আরও সংকুচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জন কোটস বলেন, টোকিওতে জরুরি অবস্থা বজায় থাকলেও ২৩ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত অলিম্পিক গেমস অনুষ্ঠিত হবে।

Comments

The Daily Star  | English

Loan default now part of business model

Defaulting on loans is progressively becoming part of the business model to stay competitive, said Rehman Sobhan, chairman of the Centre for Policy Dialogue.

5h ago