নির্বাচন কমিশনের ইতিহাসে এমন ঘোরতর দুর্দিন আর আসেনি: মাহবুব তালুকদার

সম্প্রতি জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি অনুবিভাগ জনবলসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্থানান্তরের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ যে নির্দেশ দিয়েছে, তা নির্বাচনের কফিনে সর্বশেষ পেরেক বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।
Mahbub Talukder
মাহবুব তালুকদার। ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি অনুবিভাগ জনবলসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্থানান্তরের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ যে নির্দেশ দিয়েছে, তা নির্বাচনের কফিনে সর্বশেষ পেরেক বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।

আজ বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো লিখিত বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘সম্প্রতি জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি অনুবিভাগ জনবলসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্থানান্তরের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ যে নির্দেশ দিয়েছে, তা নির্বাচনের কফিনে সর্বশেষ পেরেক। কী উদ্দেশ্যে এই আত্মঘাতি ও অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তা আমার বোধগম্য নয়। এটি সংবিধানের ১১৯ ধারার পরিপন্থি। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আমি তাদের সঙ্গে একাত্মাতা ঘোষণা করছি।’

‘মন্ত্রিপরিষদের যুগ্মসচিব স্মাক্ষরিত ২৪ মের পত্রে এনআইডি হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় “নির্বাচন কমিশন”র বদলে “সরকার” শব্দটি প্রতিস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে এনআইডির বিদ্যমান অবকাঠামো ও জনবল সুরক্ষা সেবা বিভাগে হস্তান্তর করার ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে এ ধরনের নির্দেশ প্রদান কতটা যৌক্তিক, তা বিবেচ্য। ভোটার তালিকা ও জাতীয় পরিচয়পত্র অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। এর ফলে নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ডাটাবেজ নির্ভর ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণে জটিলতার সৃষ্টি হবে। এ ছাড়া এতে নির্বাচন ব্যবস্থা ও কাঙ্ক্ষিত গণতন্ত্র ভূলণ্ঠিত হবে। এটি করা হলে সংবিধানের ১১৯ ধারা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালন সম্ভব হবে না বলে মনে করি, বলেন তিনি।

এই নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে এনআইডি স্থানান্তরের নির্দেশ কমিশনের অঙ্গচ্ছেদের নামান্তর। এ বিষয়ে কমিশনকে না জানানো নির্বাচন কমিশনের প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশের সামিল। নির্বাচন কমিশনের ইতিহাসে এ যাবৎকালে এমন ঘোরতর দুর্দিন আর আসেনি। সংবিধানের ১০৮ (৪) ধারায় বলা হয়েছে, “নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকিবেন এবং কেবল এই সংবিধান ও আইনের অধীন হইবেন”। এটি কমিশনের জন্য রক্ষাকবচ হলেও নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা এখন কোথায়?’

‘আমি আশঙ্কা করি জাতীয় পরিচয়পত্র অনুবিভাগ অন্যত্র স্থানান্তর সামগ্রিক নির্বাচনি ব্যবস্থাপনার অন্তিমযাত্রার আয়োজন’, বলেন তিনি।

আরও পড়ুন:

ইসি থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাচ্ছে এনআইডি সেবার দায়িত্ব

Comments

The Daily Star  | English
Student protests against quota system 2024

Quota system in govt jobs: Reforms must be well thought out

Any disproportionate quota system usually hurts a merit-based civil service, and any kind of decision to reform the system, in place since independence, should be well thought out, experts say.

12h ago