রামেক হাসপাতালে করোনায় একদিনে সর্বোচ্চ ১৬ জনের মৃত্যু

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ১০ জন করোনায় আক্রান্ত ছিলেন। বাকি ছয় জনের করোনা উপসর্গ ছিল। গত দেড় বছরে করোনা একদিনে এটি সর্বোচ্চ মৃত্যু।
Corona Dead Body
স্টার অনলাইন গ্রাফিক্স

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ১০ জন করোনায় আক্রান্ত ছিলেন। বাকি ছয় জনের করোনা উপসর্গ ছিল। গত দেড় বছরে করোনা একদিনে এটি সর্বোচ্চ মৃত্যু।

আজ শুক্রবার সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক সাইফুল ফেরদৌস দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি আরও বলেছেন, ‘১৬ জনের মধ্যে নয় জনের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে, রাজশাহীর ছয় জন ও একজনের বাড়ি নওগাঁ জেলায়।’

হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, ‘রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে আজ সকাল পর্যন্ত ২২৫ জন চিকিৎসাধীন। গত ২৪ ঘণ্টায় ২৮৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৭৪ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। সংক্রমণের হার ২৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। এদের মধ্যে ৩২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।’

নাটোরে সংক্রমণের হার বেড়ে ৩৪ দশমিক ৪০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৩২ জনের করোনা শনাক্ত করা হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৫২টি নমুনা পরীক্ষা করে ৮২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। সংক্রমণের হার ৫৪ শতাংশ। এই তিন জেলায় ৫২৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে মোট ১৮৮ জনের করোনা শানাক্ত করা হয়েছে। মোট সংক্রমণের হার ৩৫ দশমিক ৫৪।

গত ২৪ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত গত ১২ দিনে রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিট ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিউ) ৯৩ জন মারা গেছেন। এদের মধ্যে ৫৬ জন করোনায় আক্রান্ত ছিলেন। বাকিরা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানীসহ স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের অনেক কর্মকর্তারা গত এক সপ্তাহ ধরে আভাস দিয়েছিলেন করোনা সংক্রমণ বাড়বে এবং সংক্রমণ রোধে তিন জেলায় পূর্ণ লকডাউনের প্রস্তাব করে আসছিলেন। তবে আম ও অন্যান্য বড় ব্যবসায়িক ক্ষতির কারণ দেখিয়ে প্রশাসন সেই প্রস্তাবে আগ্রহ দেখাননি। তবে গত পরশু থেকে রাজশাহী রাত্রিকালীন এবং নওগাঁ পৌর এলাকা ও নিয়ামতপুর উপজেলা স্থানীয়ভাবে বিধি-নিষেধের আওতায় আনা হয়। গতকাল থেকে এই নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে।

বিধি-নিষেধ অনুযায়ী, নওগাঁয় দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত এবং রাজশাহীতে সন্ধ্যা ৭টার পর্যন্ত বাইরে থাকা যাবে। দুই জেলায় বড় গাড়ি না চললেও মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার ও অটোরিকশা চলতে দেখা যাচ্ছে। এগুলোতেই এক জেলা থেকে মানুষ অন্য জেলায় যাচ্ছেন।

Comments

The Daily Star  | English