বিফলে গেল মাহমুদুলের ঝলমলে ৮৫

মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে ডিওএইচএসকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে গাজী
Mahmudul Hasan Joy
ছবি: ফিরোজ আহমেদ

ওল্ড ডিওএইচএসের প্রথম ছয় ব্যাটসম্যানের পাঁচজনই ফিরলেন এক অঙ্ক। স্রোতের বিপরিতে দাঁড়িয়ে আবারও মাহমুদুল হাসান জয়কে পাওয়া গেল সেরা ছন্দে। তিনে নেমে খেললেন একদম শেষ অবধি। খাদের কিনার থেকে দলকে এনে দিলেন কিছুটা লড়াইয়ের পুঁজি। কিন্তু শেখ মেহেদী হাসান, সৌম্য সরকার, ইয়াসির আলি রাব্বিদের মাঝারি ইনিংসে তা টপকে অনায়াসে জিতেছে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স।

মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে টি-টোয়েন্টিতে ডিওএইচএসকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে গাজী । বৃহস্পতিবার সকালে আগে ব্যাট করে জয়ের ৫৫ বলে ৮৫ রানে ১৩৬ রান করেছিল ডিওএইচএস। ৫ বল আগেই তা পেরিয়েছে শিরোপা প্রত্যাশী গাজী । ৬ষ্ঠ ম্যাচে গাজির এটি তৃতীয় জয়।

১৩৭ রান তাড়ায় নেমে গাজীকে ঝড়ো শুরু পাইয়ে দেন শেখ মেহেদী। মাত্র ১০ বলে ১ ছক্কা, ৪ বাউন্ডারিতে ২২ করে আউট হয়ে ফেরেন তিনি। এরপর সৌম্য শুরু করেন তার ঝলক। দ্রুত রান আনতে থাকেন তিনিও।

প্রথম ১৮ বলে পৌঁছে যান ৩০ রানে। মুমিনুল হকের সঙ্গে গড়ে উঠে তার জম্পেশ জুটি। কিন্তু ৩০ পেরিয়ে যাওয়ার পরই অনেকটাই মন্থর হয়ে পড়ে তার ইনিংস। মুমিনুলও ছিলেন কিছুটা ধীর। তবে লক্ষ্যটা নাগালে থাকায় তা দলের জন্য বিশেষ চিন্তার কারণ ছিল না।

এই দুজনকেই ফিরিয়েছেন বাঁহাতি স্পিনার রাকিবুল হাসান। রান বাড়ানোর তাড়াতেই ক্যাচ দিয়ে ৩৪ বলে ২৭ করে ফিরে যান মুমিনুল। টুর্নামেন্টে এখনো পর্যন্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান করা সৌম্য ডাউন দ্য উইকেটে এসে উড়াতে গিয়ে স্টাম্পিং হন রাকিবুলের বলে। আগের দুই ম্যাচে ফিফটি করা সৌম্য এবার করেছেন ৩৫ বলে ৩৭ রান।

জেতার একদম কিনারে গিয়ে পরে আউট  ১৮ বলে ১৯ করা অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহও। তবে ১৮ বলে অপরাজিত ২৪ রানের ইনিংস খেলে বাকি কাজ অনায়াসে সেরেছেন ইয়াসির।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে গিয়ে চরম বিপাকে পড়ে ওল্ড ডিওএইচএস। ৫৪ রানেই তারা হারিয়ে ফেলে ৫ উইকেট। উইকেট পতনের সঙ্গে রানও আসছিল ধীর গতিতে। ৫৪ রান তোলার সময় পেরিয়ে গেছে ১২ ওভার। তিনে নামা মাহমুদুল এক প্রান্তে আগলে ছিলেন। খেলে গেছেন তিনি একাই।

কিপার ব্যাটসম্যান প্রিতম কুমারকে নিয়ে ৬ষ্ঠ ২৮ রানের জুটির পর আলিস আল ইসলামকে নিয়ে ৮ম উইকেটে আনেন ৫৪ রান। শেষ দুই ওভারেই অভিষিক্ত মহিউদ্দিন তারেক ও শেখ মেহেদী হাসানকে পিটিয়ে ৪০ রান আনেন মাহমুদুল। তাতেই ভদ্রস্থ একটা পুঁজি আসে তার দলের।

দ্বিতীয় ফিফটি তোলে নেওয়ার পাশাপাশি খেলেন টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় ইনিংস। দেশের সেরা সব তারকার মাঝে এখনো পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রানও তার।  কিন্তু এত কিছুর পরও তার একক প্রয়াস থেকেছে বিফলে। 

Comments