বাণিজ্যিক যানবাহনের মেয়াদ নির্ধারণ করে দিচ্ছে সরকার

উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটির সুপারিশের দুই বছরেরও বেশি সময় পর, বাস ও ট্রাকসহ সব ধরনের বাণিজ্যিক যানবাহনের সার্ভিস চালিয়ে যাওয়ার মেয়াদ নির্ধারণ করে দিতে যাচ্ছে সরকার। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) আজ সোমবার বিশেষজ্ঞ, পরিবহন নেতা, যানবাহন প্রস্তুতকারক ও আমদানিকারকসহ সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠকে বসবে।

উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটির সুপারিশের দুই বছরেরও বেশি সময় পর, বাস ও ট্রাকসহ সব ধরনের বাণিজ্যিক যানবাহনের সার্ভিস চালিয়ে যাওয়ার মেয়াদ নির্ধারণ করে দিতে যাচ্ছে সরকার। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) আজ সোমবার বিশেষজ্ঞ, পরিবহন নেতা, যানবাহন প্রস্তুতকারক ও আমদানিকারকসহ সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠকে বসবে।

বর্তমানে দেশে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত বাহনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো মেয়াদ নির্ধারণ করে দেওয়া নেই। এ সুযোগে সড়কে  কয়েক দশকের পুরনো বাস ও ট্রাকও চলছে।

২০১০ সালে পরিবহন কর্তৃপক্ষ রাজধানীতে ২০ বছরের বেশি পুরনো বাস এবং ২৫ বছরের বেশি পুরনো পণ্যবাহী পরিবহন চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। কিন্তু, এমন অনেক পুরনো যানবাহনই জেলা পর্যায়ে চলাচল করছে। ফলে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। পরিবেশ দূষণও ঘটছে।

বিআরটিএর চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার গতকাল রোববার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমরা কমিটির সুপারিশের সঙ্গে মিল রেখে বাণিজ্যিক যানবাহনের আর্থিক সেবার মেয়াদ নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু করেছি। এর অংশ হিসাবে আমরা আগামীকাল (আজ) একটি বৈঠক আহ্বান করেছি। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আমাদের আরও একাধিক বৈঠক করতে হতে পারে।’

২০১৯ সালের মার্চে পরিবহন খাতের নেতা শাজাহান খানের নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিটি সড়ক দুর্ঘটনা রোধ এবং পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ১১১টি সুপারিশ করে। পরে এসব সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি টাস্কফোর্স গঠন করে সরকার।

কমিটির প্রতিবেদনে বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও হিউম্যান হলার চলাচলের মেয়াদ নির্ধারণ এবং ২০ বছরের বেশি পুরনো বাস ও ২৫ বছরের বেশি পুরনো ট্রাক চলাচল নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানানো হয়। এ কমিটিতে পরিবহন বিশেষজ্ঞরাও ছিলেন।

পুরনো যানবাহনকে সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, একদিকে এ জাতীয় যানবাহন, বিশেষ করে পুরনো বাস ও ট্রাক, রাস্তায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। ফলে যানজটের সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে, এগুলো দুর্ঘটনা ও প্রাণহানিরও কারণ।

প্রতিবেশী দেশ ভারত ইতোমধ্যে বাণিজ্যিক যানবাহন চলাচলের মেযাদ নির্ধারণ করে দিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

নাম গোপন রাখার শর্তে বিআরটিএর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকার ২০১০ সালে রাজধানীতে ২০ বছরের বেশি পুরনো বাস এবং ২৫ বছরের বেশি পুরনো পণ্যবাহী পরিবহন চলাচল নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এরপর ঢাকার সড়ক থেকে এ ধরনের বেশিরভাগ যানবাহন সরিয়েও নেওয়া হয়। কিন্তু,পরে এগুলো জেলা ও আন্তজেলা পর্যায়ে চলাচল করতে শুরু করে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহর দাবি, রাজধানীতে ২০ বছরের বেশি পুরনো কোনো বাস চলছে না।   

‘কিন্তু, ট্রাক (২৫ বছরের বেশি পুরনো) চলছে কি না সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই। বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে এবং আশা করছি যে বাণিজ্যিক যানবাহনের মেয়াদ নির্ধারণ করা হবে’, গতকাল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি যানবাহনের সার্ভিসের একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকা উচিত। এ ব্যাপারে পরিবহন মালিকদের কখনো কোনো আপত্তিও ছিল না। বিষয়টি আগে সামনে আসেনি।’

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যায়ের (বুয়েট) অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান জানান, মেয়াদের ওপর নির্ভর করে এসব যানবাহনের চেসিস, ব্রেক সিস্টেম ও অ্যাক্সেল দুর্বল হয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। পাশাপাশি, এসব যানবাহন থেকে কার্বন ডাই অক্সাইডসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর গ্যাস বেশি নির্গত হওয়ায় পরিবেশ দূষিত হয়।

সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তিনি জানান, পুরানো গাড়ি থেকে নির্গত ক্ষতিকর গ্যাস রাজধানীর ১৫ শতাংশ বায়ু দূষণের জন্য দায়ী।

শুধুমাত্র বছরের হিসেবে যানবাহনের মেয়াদ নির্ধারণের বিরোধিতা করে হাদিউজ্জামান বলেন, ‘কয় বছর সার্ভিস দিলো- শুধুমাত্র তার ওপর নির্ভর করে যানবাহনের মেয়াদ নির্ধারণ করা উচিত হবে না। কারণ, প্রস্তুতকারকের ওপর নির্ভর করে যানবাহনের সার্ভিসের মেয়াদ বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। এ ছাড়া, গাড়ি কত কিলোমিটার চলাচল করেছে—তাও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।’

বাসের মেয়াদ ২০ বছর নির্ধারণ করার বিষয়টিরও বিরোধিতা করেন অধ্যাপক হাদিউজ্জামান। ভালো রাস্তায় চললেও নামকরা কোম্পানিগুলোর তৈরি করা বাসের মেয়াদ সাধারণত ১০ থেকে ১২ বছর হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিআরটিএতে মোট ৪৬ দশমিক ৪৯ লাখ যানবাহন নিবন্ধন করেছে। এগুলোর মধ্যে ১৬ দশমিক ৫২ লাখ নিবন্ধিত হয়েছে রাজধানীতে।

তবে, সারা দেশে প্রচুর অনিবন্ধিত যানবাহন চলছে বলে পরিবহন খাতে যুক্ত লোকজন জানিয়েছেন।

প্রতিবেদনটি ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন জারীন তাসনিম

Comments

The Daily Star  | English

Dhaka footpaths, a money-spinner for extortionists

On the footpath next to the General Post Office in the capital, Sohel Howlader sells children’s clothes from a small table.

8h ago