জাপানে জরুরি অবস্থার মেয়াদ বাড়ল

করোনাভাইরাসের সংক্রমণে প্রতিরোধে জাপানের টোকিওসহ ২১টি অঞ্চলে চলমান জরুরি অবস্থার মেয়াদ ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে, শর্ত সাপেক্ষে দুইটি অঞ্চলের জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা। ফলে আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে মিয়াগি ও ওকায়ামা অঞ্চলে জরুরি অবস্থা থাকছে না।
আজ বৃহস্পতিবার জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা তার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে এ ঘোষণা কার্যকর হবে বলে জানান তিনি।
সুগা বলেন, সরকার নভেম্বর থেকে ভ্রমণ, বড় পরিসরের ইভেন্ট ও বারগুলোর ওপর কোভিড-১৯ এর বিধিনিষেধ শিথিল করার পরিকল্পনা করেছে। বেশিরভাগ মানুষকে টিকা দেওয়া হলেও এখনো কিছুসংখ্যক মানুষ টিকাদানের বাইরে রয়েছেন। তাদের দ্রুত টিকাদানের আওতায় আনা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার শর্তে জরুরি অবস্থার অধীনে এলাকায় ঘোষিত বিধিনিষেধ শিথিল করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ৬০ শতাংশ মানুষকে করোনা ভ্যাকসিনের আওতায় আনা হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যে আরও ১০ শতাংশ মানুষকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনার কাজ চলছে। প্রতিদিন ১০ লাখ মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। করোনা নামের অদৃশ্য শক্তির সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকা সত্যিই কঠিন একটি চ্যালেঞ্জ। তবে, আমরা এর থেকে অনেক কিছুই শিখতে পেরেছি।
জাপানি জনগণ ধৈর্য ধারণ করেছে উল্লেখ করে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে তিনি জনগণের সহযোগিতা কামনা করে তাদেরকে যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন, 'সরকার আগামী মাসের প্রথম দিকে বিধিনিষেধ শিথিল করার একটি পরিকল্পনা নিয়ে পরীক্ষা করবে। এর মাধ্যমে সংক্রমণের পরিস্থিতি মূল্যায়ন করার সঙ্গে সঙ্গে রেস্তোরাঁ ও বারগুলোকে বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরানো হবে।'
উল্লেখ্য, জাপানে বর্তমানে রাজধানী টোকিওসহ মোট ২১টি অঞ্চলে জরুরি অবস্থা চলছে। যার মেয়াদ রয়েছে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। অন্যান্য অঞ্চলগুলো হচ্ছে—চিবা, কানাগাওয়া, ওকিনাওয়া, ওসাকা, সাইতামা, ইবারাকি, তোচিগি, গুন্মা, শিযুওকা, কিয়োতো, হিয়োগো ফুকুওকা, হোক্কাইদো, মিয়াগি, গিফু, আইচি, মিএ, শিগা, ওকায়ামা ও হিরোশিমা।
আজ টোকিওতে এক হাজার ৬৭৫ জনসহ জাপানে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত মোট ১০ হাজার ৪০০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে এখন পর্যন্ত শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ২৩ হাজার ৮১১ জনে এবং মৃত্যু হয়েছে ১৬ হাজার ৭৫৬ জনের।
Comments