ঝুলে আছে কলকাতা-চট্টগ্রাম সরাসরি বাসের ভবিষ্যৎ তবে এগিয়ে বরিশাল

বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় যাওয়া যাত্রীদের সংখ্যা বিবেচনায় ঢাকার পরই রয়েছে চট্টগ্রাম। তবে সীমান্তে বাস বদলানোর মাধ্যমে কলকাতা-চট্টগ্রাম রুটে মাত্র ১০টি বাস যাত্রী পরিবহন করছে।
কলকাতা-চট্টগ্রাম
স্টার ফাইল ছবি

কলকাতা-চট্টগ্রাম রুটে বাস চলাচলের জন্য ২০১৫ সালের ১৫ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার দরপত্র আহ্বান করে। কলকাতার চারটি বড় পরিবহন সংস্থা সেখানে অংশও নেয়। দরপত্র বাছাই শেষে শ্যামলী পরিবহন কলকাতা-চট্টগ্রাম রুটে সরাসরি বাস চালানোর জন্য নিযুক্ত হয়। পশ্চিমবঙ্গ ভূতল পরিবহন নিগম নিযুক্ত স্থানীয় অপারেটর শ্যামলী এই রুটে ব্যবহারের জন্য আধুনিক সুবিধা সংযুক্ত দুটি বাসও ক্রয় করে। কিন্তু দিল্লি-ঢাকার অনুমোদন না পাওয়ায় সরাসরি বাস চলছে না চট্টগ্রামের সঙ্গে কলকাতার। দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এই তথ্য পাওয়া গিয়েছে।

কলকাতা থেকে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা, খুলনা এবং ঢাকা হয়ে আগরতলা-শিলং রুটে ১০টি সরাসরি বাস চলে। অন্যদিকে সীমান্তে বাস বলদ করে কলকাতা-ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-খুলনা-চট্টগ্রামের মধ্যে ৪০টি সার্ভিস চালু রয়েছে।

পরিবহন সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্য বলছে, বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় যাওয়া যাত্রীদের সংখ্যা বিবেচনায় ঢাকার পরই রয়েছে চট্টগ্রাম। তবে সীমান্তে বাস বদলানোর মাধ্যমে কলকাতা-চট্টগ্রাম রুটে মাত্র ১০টি বাস যাত্রী পরিবহন করছে।

কলকাতা-চট্টগ্রাম রুটের যাত্রী সংখ্যা এবং তাদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে এই রুটের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু বাস্তবতা বলছে অন্য কথা।

তবে এই ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে শ্যামলী যাত্রী পরিবহনের কর্ণধার অবনী ঘোষ এই খবরের সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, প্রায় তিন কোটি রুপি নিয়ে বাস কিনে ডিপোতে রেখে দিয়েছি। বাসটাও পড়ে নষ্ট হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে ইতিবাচক থাকলেও দিল্লি-ঢাকার সবুজ সংকেত নেই। তাই চট্টগ্রাম রুটে সরাসরি বাস চালানো যাচ্ছে না।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অতিরিক্ত মুখ্য-সচিব ও পরিবহন দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টা নিয়ে কথা হচ্ছে। বাংলাদেশের সঙ্গে আরও নতুন রুট বাড়ানো যায় কিনা সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, সম্প্রতি কলকাতায় দুই দেশের সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেও এই বিষয়গুলো নিয়ে কথা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২১ মার্চ দুই দেশের পরিবহন ব্যবস্থার মূল্যায়ন বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন বাংলাদেশের বিআরটিসির চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া, পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব এহসান ই এলাহি, ভারতের কেন্দ্রীয় পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব এ ডি জেমস্, পশ্চিমবঙ্গ পরিবহন দফতরের কমিশনার বিশ্বজিৎ দত্ত, ভরতের কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রকের পরিচালক কাজরি বিশ্বাসসহ সবপক্ষের প্রায় ২১ জন প্রতিনিধি।

ওই বৈঠকে কলকাতা-চট্টগ্রাম ঝুলে থাকা রুটের বিষয়ে যেমন কথা হয়, তেমনই কলকাতা-বরিশাল রুটের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠক সূত্রের খবর, অক্টোবর-নভেম্বর মাসে ঢাকায় এই ব্যাপারে চূড়ান্ত বৈঠকে মিলিত হবেন সংশ্লিষ্টরা। তখনই বরিশাল-কলকাতা রুটের সরকারি বাস পরিষেবার সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে।

তবে বৈঠকে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ফেরি সংকট নিয়ে পরিবহন সংস্থার কাছে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিদের তোপের মুখে পড়তে হয়। একইভাবে কলকাতা থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে আলমপুরে বিজিবির তল্লাশির নামে যাত্রী হয়রানি বন্ধেরও দাবি জানানো হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা বিষয়টি দ্রুত দেখার আশ্বাস দেন।

যাত্রীদের অভিযোগ, একজন যাত্রী বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন-কাস্টমস পার হওয়ার পর পথে তার ব্যাগ তল্লাশির নামে হয়রানী করা হচ্ছে। ভারতের দিকে কাস্টমস-ইমিগ্রেশন করার পর আর কোনও তল্লাশি হয় না। বৈঠকে সন্ধ্যা ৬টার জায়গায় সরাসরি বাস যাতায়াতের জন্য রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুরোধও বিবেচনা করা হয়।

সম্প্রতি বাংলাদেশ-ভারতের মধ্য পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে সারা রাত যাতায়াতের সুযোগ দেওয়া হয়। যেহেতু সীমান্তে তখন অতিরিক্ত ব্যবস্থায় পণ্য পরিবহন করে সেই ব্যবস্থার মধ্যেই সরাসরি বাসের যাত্রী পরিবহনের সুবিধা দেওয়ার দাবিকেও যৌক্তিক বলে মনে করছেন দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

শ্যামলী পরিবহনের কর্ণধার অবনী ঘোষ এই বিষয়ে জানান, সর্বশেষ গত ২১ মার্চের বৈঠকে যাত্রীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বাকিটা দুই সরকার করবে। তবে এ ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গে পরিবহন সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, বৈঠকে অনেক কিছুই আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট সবটাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গত কয়েকদিন কলকাতার মার্কুইস স্ট্রিট এলাকার ঢাকা-কলকাতার মধ্যে চলাচলকারী শীর্ষস্থানীয় পরিবহন সংস্থার অফিসগুলোতে ঘুরে দেখা গিয়েছে চট্টগ্রাম থেকে অসংখ্য পর্যটক আসছেন। সীমান্তে বাস বদল করে কলকাতায় পৌঁছানোর দুর্ভোগের কথাও শোনা যায় তাদের কাছ থেকে। কলকাতা থেকে ঢাকা, কলকাতা থেকে খুলনা সরাসরি বাস চললে চট্টগ্রাম থেকে সরকারি কলকাতায় বাস কেন চলবে না- এই প্রশ্নও তুলেছেন কলকাতায় আসা চট্টগ্রামের পর্যটকরা।

Comments

The Daily Star  | English

The bond behind the fried chicken stall in front of Charukala

For close to a quarter-century, a business built on mutual trust and respect between two people from different faiths has thrived in front of Dhaka University's Faculty of Fine Arts

1h ago