চাপ কাটাতে পারবেন দেশম?

স্কোয়াড ঘোষণার পর থেকেই সমালোচনা যেন তাঁর পিছু ছাড়ছে না। যেসব খেলোয়াড়দের দেশে রেখে তিনি রাশিয়ার বিমানে চেপেছেন, তাঁরা অনায়াসেই যেকোনো দলের একাদশে সুযোগ পেয়ে যাবেন। করিম বেনজেমা, অ্যান্থনি মার্শিয়াল, আদ্রিয়েন রাবিয়ট, কিংসলে কোমান, আলেজান্দ্রে লাকাজাত্তেদের মতো খেলোয়াড়দের স্কোয়াডে না নিয়ে ভুল করলেন কি না, সেরকম প্রশ্নও উঠেছিল। তবুও বিশ্বকাপ শুরু হয়নি বলে অনেকে চুপচাপ ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের পর সেই সমালোচনা এখন আরও তীব্র হয়েছে।
Didier Deschamps
দল নিয়ে অনুশীলনে ব্যস্ত দিদিয়ের দেশম। ছবিঃ রয়টার্স

স্কোয়াড ঘোষণার পর থেকেই সমালোচনা যেন তাঁর পিছু ছাড়ছে না। যেসব খেলোয়াড়দের দেশে রেখে তিনি রাশিয়ার বিমানে চেপেছেন, তাঁরা অনায়াসেই যেকোনো দলের একাদশে সুযোগ পেয়ে যাবেন। করিম বেনজেমা, অ্যান্থনি মার্শিয়াল, আদ্রিয়েন রাবিয়ট, কিংসলে কোমান, আলেজান্দ্রে লাকাজাত্তেদের মতো খেলোয়াড়দের স্কোয়াডে না নিয়ে ভুল করলেন কি না, সেরকম প্রশ্নও উঠেছিল। তবুও বিশ্বকাপ শুরু হয়নি বলে অনেকে চুপচাপ ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের পর সেই সমালোচনা এখন আরও তীব্র হয়েছে।

এমন না যে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় পায়নি ফ্রান্স। বেশিরভাগ ফেভারিটেরা যেখানে প্রথম ম্যাচে হোঁচট খেয়েছে, ফ্রান্স সেখানে জয় দিয়েই শুরু করেছে। কিন্তু জয় পেলেও ফ্রান্সের খেলা মন ভরাতে পারেনি সমর্থকদের। দলকে যেভাবে খেলাচ্ছেন কোচ দিদিয়ের দেশম, সেখানেই সমালোচিত হতে হচ্ছে তাঁকে।

বাছাইপর্বের ১০ ম্যাচ খেলে ফ্রান্স গোল করেছে মোটে ১৮ টি। শুধু বাছাইপর্বে নয়, এর আগে থেকেই দেশমের খেলানোর ধরন নিয়ে নাখোশ সমর্থকেরা। ইউরো ফাইনালে রোনালদোবিহীন পর্তুগালকে পেয়েও তাঁর ডিফেন্সিভভাবে খেলানোর ধরন নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল অনেক।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে জিততেও ঘাম ছুটে গেছে ফরাসিদের। ভিএআরের সহায়তা না পেলে হয়তো জিতেও ফিরতো না তাঁরা। কোচ দিদিয়ের দেশমের উপর তাই এখন সীমাহীন চাপ।

এমন না যে ফ্রান্স বাজে স্কোয়াড নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছে। কাগজে কলমে তাদেরকে ধরা হচ্ছে অন্যতম ফেভারিট হিসেবেই। কিন্তু তাও কেন পর্যাপ্ত গোল করতে পারছে না ফ্রান্স? এর কারণ হিসেবে বারবারই বলা হচ্ছে দেশমের রক্ষণাত্মক ট্যাকটিকস। এই যেমন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের পরে ফ্রেঞ্চ ফুটবল বিশেষজ্ঞ জুলিয়েন লরেন্স স্পষ্টভাবেই বলেছেন, ‘ফ্রান্স হয়তো অস্ট্রেলিয়ার সাথে জিতেছে, কিন্তু দেশম হেরেছেন। আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় দেশমের উপর এখন অনেক বেশি চাপ।’

গত বছরেই জাতীয় দলের সাথে চুক্তি বর্ধিত করেছেন ২০২০ সাল পর্যন্ত। কিন্তু এমন প্রতিভাবান স্কোয়াড নিয়েও ছয় বছর দায়িত্বে থাকার পর তেমন কিছু অর্জন করতে না পারার খেসারত দিতে হতে পারে দেশমকে, যদি না এবারের বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে কিছু এনে দিতে পারেন। তার উপর রিয়াল মাদ্রিদ থেকে সরে দাঁড়ানো জিনেদিন জিদানকে সম্ভাব্য ফ্রান্স কোচ হিসেবে ধরে রেখেছেন অনেকেই। সব মিলিয়ে দেশমের উপর চাপ এখন বহুমুখী। চাপ কাটাতে পারবেন ফ্রান্সের একমাত্র বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক দেশম?

 

 

Comments