শীর্ষ খবর

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে শঙ্কা

সাংবাদিক, সুশীল সমাজ ও দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পক্ষ থেকে আপত্তির পরও কার্যকর হয়ে গেল ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। শুরু থেকেই বলা হচ্ছিল, এই আইনের কারণে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতা হুমকিতে পড়বে। পুলিশকে ব্যাপক ক্ষমতা দিয়ে বিতর্কিত বেশ কিছু বিধান অপরিবর্তিত রাখায় এই উদ্বেগ এখনো রয়েছে বলে মনে করছেন সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

সাংবাদিক, সুশীল সমাজ ও দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পক্ষ থেকে আপত্তির পরও কার্যকর হয়ে গেল ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। শুরু থেকেই বলা হচ্ছিল, এই আইনের কারণে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতা হুমকিতে পড়বে। পুলিশকে ব্যাপক ক্ষমতা দিয়ে বিতর্কিত বেশ কিছু বিধান অপরিবর্তিত রাখায় এই উদ্বেগ এখনো রয়েছে বলে মনে করছেন সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

 

‘সাংবাদিকদের এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে’

খন্দকার মুনীরুজ্জামান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, দৈনিক সংবাদ

আমাদের গভীর উদ্বেগের পরও ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল আইনে পরিণত হয়ে যাওয়ায় এখন থেকে সাংবাদিকদের এক কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। আমি জানি না আমাদের ভাগ্যে আসলে কী রয়েছে। সাংবাদিকদের তীব্র আপত্তির কারণে প্রস্তাবিত আইনটি সাংবাদিকবান্ধব করে সংশোধনের জন্য বারবার আশ্বাস দিয়েছিল সরকার। কিন্তু রাষ্ট্রপতি এতে স্বাক্ষর করে ফেলায় আমার মনে হয় না তা আর সম্ভব হবে।

 

‘মতপ্রকাশের সাংবিধানিক অধিকারের ভিত্তিতেই আমরা এর বিরোধিতা করে যাব’

ইফতেখারুজ্জামান

নির্বাহী পরিচালক, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ

আমরা অবাক হচ্ছি না, যদিও আমার সরল বিশ্বাস ছিল যে আইনটির ক্ষতিকর ধারাগুলো পুনর্বিবেচনার জন্য রাষ্ট্রপতি তার সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহার করে বিলটিকে সংসদে ফেরত পাঠাবেন। গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের উদ্বেগের ব্যাপারে তিনি যে অবগত ছিলেন না তা নয়। এই আইন যখন কার্যকর হয়ে গেলেও অন্য সব আইনের মতোই এটা চিরস্থায়ী কোনো ব্যাপার নয়। স্বাধীন মতপ্রকাশের সাংবিধানিক অধিকারের ভিত্তিতেই আমরা এর বিরোধিতা করে যাব।

 

‘সরকার জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচনার মুখে পড়েছে’

মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল

প্রধান সম্পাদক, একুশে টেলিভিশন

আমরা আইনের নির্দিষ্ট কয়েকটি ধারা সংশোধনের দাবি করেছি যাতে পরোয়ানা ছাড়া সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা না পায় পুলিশ। যেহেতু রাষ্ট্রপতি এতে স্বাক্ষর করে ফেলেছেন, সেহেতু নিকট ভবিষ্যতে এতে পরিবর্তন আনার সুযোগ নেই। এর মানে হল, আইনটি অপব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। তবে আমরা প্রধানমন্ত্রীর ওপর আস্থা রাখতে চাই। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের তার ওপর বিশ্বাস রাখতে বলেছেন। এই আইনের কারণে সরকার জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচনার মুখে পড়েছে।

 

‘সাংবাদিকদের ভাগ্য এখন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর নির্ভর করবে’

মতিউর রহমান চৌধুরী

প্রধান সম্পাদক, দৈনিক মানবজমিন

এটা খুব হতাশাজনক। এই আইন এখন স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং বাক স্বাধীনতার জন্য একটি বড় হুমকি। সাংবাদিকদের ভাগ্য এখন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ওপর নির্ভর করবে। পুলিশের দ্বারা আইনটি অপব্যবহারের গুরুতর ঝুঁকি রয়েছে। দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠক করে মন্ত্রীরা উদ্বেগের বিষয়টি মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে উত্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তারপর থেকে দুইবার মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক হয়েছে, কিন্তু এর একটিতেও এ আইন নিয়ে উদ্বেগের ব্যাপারে আলোচনা হয়নি। এটা খুবই দুঃখজনক।

 

‘রাষ্ট্রপতি কিভাবে এই আইনে স্বাক্ষর করলেন সেটি ভেবে অবাক হচ্ছি’

শ্যামল দত্ত

সম্পাদক, ভোরের কাগজ

আইনটি নিয়ে সম্পাদকদের উদ্বেগের বিষয়টি মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে আলোচনা হবে, জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীদের এমন আশ্বাসের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি কিভাবে এই আইনে স্বাক্ষর করলেন সেটি ভেবে অবাক হচ্ছি। অতীতে আমরা দেখেছি যে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারাটি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপব্যবহার করা হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটিও সাংবাদিক এবং মুক্ত চিন্তার মানুষদের বিরুদ্ধে ব্যবহারের ঝুঁকি রয়েছে। আসলে কী ঘটতে যাচ্ছে আমরা তা বোঝার চেষ্টা করছি।

 

‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণের জন্যই এই দমনমূলক আইন’

ফাহমিদুল হক

সহযোগী অধ্যাপক

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আমাদের অনুরোধ উপেক্ষা করে যখন সরকার আইনটি পাস করে, তখন আমাদের নীরব হয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণের জন্যই এই দমনমূলক আইন প্রণয়ন করা হয়েছে...এটি একটি কালো আইন। এটি আমরা প্রত্যাখ্যান করছি, যদিও আমাদের প্রত্যাখ্যান এক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলবে না।

Comments

The Daily Star  | English

AL govt closed down routes used for arms smuggling thru Bangladesh: PM

As a result, peace prevails in the seven sister states of India, she says

53m ago