‘তিনি শুধু পেটান’ এই ইমেজ নিয়ে কি পুলিশ পারবে ‘মানুষের রাজা’ হতে

‘মাইক্রোবাসে তুলেই গাড়ির মেঝেতে ফেলে মারধর। তারপর ফোন, “স্যার, মিসটেক, কী করব, ছেড়ে দেব?”’- নারায়ণগঞ্জে ডিবি পুলিশের পোশাক পরিহিতদের এই সংলাপ ঘুরে বেড়াচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

'মাইক্রোবাসে তুলেই গাড়ির মেঝেতে ফেলে মারধর। তারপর ফোন, স্যার, মিসটেক, কী করব, ছেড়ে দেব?'- নারায়ণগঞ্জে ডিবি পুলিশের পোশাক পরিহিতদের এই সংলাপ ঘুরে বেড়াচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে রমনা জোনের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) হারুণ অর রশিদের কর্মকাণ্ডের খবর। তার সম্পর্কে এ ধরনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের মন্তব্য হলো 'তিনি শুধু পেটান'।

এর আগে, নিজ সহকর্মীকেও চড় মেরে সমালোচিত হয়েছিলেন এডিসি হারুণ। নিউমার্কেট এলাকায় দোকান মালিক, বিক্রেতা ও ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় শিক্ষার্থীদের দিকে রাবারের বুলেট ছুড়তে এক কনস্টেবলকে নির্দেশ দেন তিনি। বুলেট শেষ বলায় তাকে চড় মারেন তিনি। পুলিশের একাংশের সম্পর্কে এই তথ্যগুলো এখন নিউজ ফিডে ঘুরছে, যা পুলিশের ইমেজকে নষ্ট করার জন্য যথেষ্ট।

তবে পুলিশ সম্পর্কে একটু অন্যরকম ও সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং গল্প প্রচলিত আছে কবি নির্মলেন্দু গুণকে নিয়ে। লম্বা দাঁড়ি ও চুলওয়ালা এই কবিকে রাতে শাহবাগ মোড়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দাঁড় করালেন দুই পুলিশ। তারা জানতে চেয়েছিলেন, আপনি কে? এত রাতে কেন বের হয়েছেন? কবি নিজের পরিচয় দেওয়ার পর, পুলিশ বেশ বিচলিত হয়ে পড়লেন। কারণ এরকম বড় দাঁড়ি ও চুলের কবিকে তো তারা চিনতে পারছেন না। তাও তারা দু'একটা প্রশ্ন করে ছেড়ে দিয়েছিলেন।

ছেড়ে দেওয়ায় কবি কৃতজ্ঞ হলেন। তিনি একটি কয়েন পকেট থেকে বের করে উপরের দিকে ছুঁড়ে দিলেন। পয়সাটা মাটিতে পড়ার পর তিনি সেটি তুলে পুলিশদের কাছে জানতে চাইলেন, বলেন তো এটা কিসের ছবি? পুলিশরা বেশ হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলেন এই লম্বা লোকের কর্মকাণ্ডে। তারা পয়সাটা দেখে বললেন, এটা ইলিশ মাছের ছবি। কবি ততক্ষণে তাদের আরও হতভম্ব করে বলে উঠলেন, 'ভাই, জানেন মাছের রাজা ইলিশ, আর মানুষের রাজা পুলিশ। আপনারা হচ্ছেন ভাই সেই রাজা।' এই বলে মুক্তির আনন্দে তিনি পথ চলতে শুরু করলেন।

খুব সম্প্রতি লক্ষ্মীপুরে পুলিশের এক সভায় পুলিশেরই একজন বড় কর্মকর্তার বক্তৃতা শুনে আমি খুব অবাক হয়ে গেলাম। তিনি যা বললেন, তা অনেকটা এরকম—অনেকেই বলেন, পুলিশ জনগণের বন্ধু। কিন্তু আমি এ কথা মানি না। পুলিশ যদি মানুষের বন্ধুই হবে, তাহলে তারা অপরাধীকে শাস্তি দিবে কেমন করে? পুলিশর এইসব দুর্বলতা মানায় না।

দেখা যাচ্ছে, কনসেপ্টচুয়ালি তিনি ভুল কথা বলছেন। অভিযুক্ত অপরাধী ও অপরাধীর বন্ধু হওয়ার কথা তো কেউ বলছে না কোথাও, বলছে মানুষের বন্ধু হতে। পুলিশ বিপদে-আপদে তাদের পাশে থাকবে, এটাই সবাই প্রত্যাশা করে।

অন্যদিকে পুলিশের একটি দিবস পালনকালে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেছেন, পুলিশ এখন অনেকটা জনবান্ধব, নারীবান্ধব, শিশুবান্ধব। আমাদের আরও অনেক দূর যেতে হবে, অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। আমরা চাই, জনতার সঙ্গে, জনতার কাছে, জনতার হয়ে, কাজ করতে। যাতে মনে হয় আমরা শুধু ইউনিফর্ম পরা জনতা, যা আসলে জনতারই অংশ। যেটা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের একমাত্র মূলমন্ত্র।

পুলিশের ঊর্ধ্বতনসহ সংশ্লিষ্টরা বরাবরই বলছেন, 'পুলিশ জনগণের বন্ধু'। কিন্তু পুলিশ কতটুকু জনবান্ধব হতে পেরেছে, তা নির্ভর করবে পুলিশ কী করছে এবং জনগণ পুলিশ সম্পর্কে কী ভাবছে ও তাদেরকে কতটা সহজভাবে গ্রহণ করছে, তার উপরে।

সেদিন পত্রিকায় পড়লাম, একজন তরুণ ট্রাফিক সার্জেন্ট সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। ওই নিউজের নীচে মানুষের মন্তব্য পড়ে বিস্মিত হলাম। মানুষ গালাগালি তো করছেই, সঙ্গে বলছে, যেমন কর্ম তেমন ফল; পুলিশদের এমনই হওয়া উচিৎ ইত্যাদি ইত্যাদি। বাস্তবে পুলিশ মানুষের চোখে কতটা মন্দ হতে পারে, এরই একটি নজির এই খবরটি।

আমি মর্মাহত হয়ে মন্তব্য করলাম, কেন এসব বলছেন? একজন মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন, তাকে না চিনেই এইসব মন্তব্য করা কি উচিৎ হচ্ছে? ২-৩ জন ছাড়া বাকিরা ঝাঁপিয়ে পড়লো আমার মন্তব্যের উপর। ভাবলো আমি পুলিশের দালাল, অথবা আত্মীয়। তাই পুলিশ নিহত হওয়ার ঘটনায় কষ্ট পাচ্ছি।

তারা এমনও লিখলো, মানুষ যখন ট্রাফিক পুলিশের ওপর রাগ হয়ে নিজের মোটরসাইকেলে আগুন দেয়, তখন আপনি কোথায় ছিলেন? ছোট একটি ঘটনা থেকেই ধারণা করা যায়, পুলিশ ও জনতার সম্পর্ক ঠিক কোন অবস্থায় আছে।

পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শকসহ ৬ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের আদালতে একটি মামলার আবেদন করা হয়েছে। মিতু হত্যা মামলায় তার কারাবন্দি স্বামী, সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার আবেদনটি করেছেন।

ব্যাপারটা আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কাছে বেশ ইন্টারেস্টিং বলে মনে হচ্ছে। বাবুল আক্তার কী ভেবে এই অভিযোগ করেছেন, সে আলোচনায় না গিয়েও বলা যায়, পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগটি এবার পুলিশের সাবেক বড় কর্মকর্তাকেও করতে হলো। পুলিশ হেফাজতে যে নির্যাতন করা হয়—দেশের মানবাধিকার সংগঠন, গণমাধ্যম সে কথা বারবার বললেও কেউ এদিকে কোনো দৃষ্টি দেয় না। এবার খোদ সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাকেই এরকম একটি অভিযোগ করতে হলো।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে ৪০ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে ২৭ জন বিচারাধীন ও ১৩ জন অপরাধী।

পুলিশকে কেন কবি নির্মলেন্দু গুণ 'মানুষের রাজা' বলেছেন, সেটা একটু দেখি।

পুলিশ চুরি-ডাকাতি রোধ, ছিনতাই প্রতিরোধ, দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও সমাজ বিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করে। বিভিন্ন জনসভা, নির্বাচনী দায়িত্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য থাকে। ট্রাফিক পুলিশ ২৪ ঘণ্টা ধুলাবালি, শব্দ দূষণ, রোদ, বৃষ্টি সহ্য করে বেপরোয়া গাড়ি চালনা এবং অসচেতন পথচারীকে সামলাতে বাধ্য হয়। এই এতো দায়িত্বের তুলনায় তাদের সুযোগ-সুবিধা ও বেতন-ভাতা খুবই কম।

তবে এ কথাও ঠিক যে, সব সরকার পুলিশকে তাদের ঢাল বা অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে। অনেকেই পুলিশের নির্যাতন-নিপীড়নের স্বীকার হয়েছেন। ফলে পুলিশ বাহিনীর একটা বড় অংশ সবসময় দেশের সাধারণ মানুষের কাছে শত্রু হয়েই আছেন, মানুষের রাজা হয়ে নয়।

কক্সবাজারের ওসি প্রদীপের মতো অনেক পুলিশ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে রয়েছে মাদক চোরাকারবার, হয়রানি, হেফাজতে নির্যাতন, অর্থের বিনিময়ে মামলা দেওয়া বা নেওয়া, অর্থ আত্মসাৎ, ঘুষ, দুর্নীতিসহ নানান ধরণের অভিযোগ।

মানুষ বিপদে পড়লে সবার আগে পুলিশের দ্বারস্থ হয়। সাহায্য কামনা করে পুলিশের কাছ থেকেই। কিন্তু সব সময়, সব মানুষ কি সহায়তা ঠিকমতো পান? পান না। বরং মনে মনে বলেন, 'বাঘে ছুঁলে আট ঘা, পুলিশে ছুঁলে আঠারো ঘা'। সাধারণ মানুষ পুলিশের নাম শুনলে আঁতকে ওঠেন, ভয় পান এবং ঝামেলা মনে করে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন।

কেন মানুষের মনে সমাজের বড় বন্ধু পুলিশ সম্পর্কে এমন ধারণা হলো? এই ধারণা আদতে কতটা সত্য?

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশ (টিআইবি) সম্প্রতি বাংলাদেশ সেবাখাতগুলোর ওপর ২০২১ সালের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, দেশে যতোগুলো সেবাখাত রয়েছে এর মধ্যে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা।

ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, এই জরিপে অংশগ্রহণকারীদের শতকরা সাড়ে ৭২ শতাংশ মানুষ পুলিশের হাতে কোনো না কোনো ধরনের দুর্নীতির শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে শহরের তুলনায় গ্রামের মানুষ পুলিশের দুর্নীতির শিকার বেশি হয়েছেন। তারা পুলিশের বিভিন্ন বিভাগকে বেশি ঘুষ দিয়েছেন, নানা ধরনের ভয়ভীতির শিকার হয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে ও বিনা কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জরিপ অনুযায়ী সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত বিভাগ হচ্ছে থানা পুলিশ, এরপর ট্রাফিক, হাইওয়ে পুলিশ এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো জনগণের কাছ থেকে এই মেয়াদে ২ হাজার ১৬৬ কোটি টাকা ঘুষ হিসেবে আদায় করেছে বলে টিআইবির এক হিসাব বলছে।

সবচেয়ে দুঃখজনক তথ্য হচ্ছে, কম আয়ের মানুষ পুলিশ বিভাগের দুর্নীতির শিকার হয়েছেন বেশি। এরকম একটা পরিস্থিতিতেই বাংলাদেশ পুলিশের প্রধান আশা প্রকাশ করেছেন যে জনগণ একদিন বলবে 'পুলিশ আমাদের বন্ধু'।

আমাদের নিরাপদ ও সুস্থ জীবনযাপনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত। নানা কারণে আমাদের পুলিশের ওপর নির্ভর করতেই হয়। আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ পুলিশ বিভিন্ন উপকারে আসে। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, একজন সাধারণ মানুষ পুলিশের কাছে সহযোগিতার জন্য গেলে সহযোগিতা পায় না। তাকে মূল্যায়ন করা হয় না। মানুষ মনে করে, সাদা পোশাকে পুলিশ তাদের কাছে বেশি ভীতিপ্রদ। তারা কোনো কাগজপত্র ছাড়াই মানুষকে তুলে নিয়ে যায়, চাঁদাবাজি করে এবং পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করে যেকোনো অন্যায় করে।

তবে এই অভিযোগের পাশাপাশি ইতিবাচক দিকও আছে। পুলিশ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি জনবান্ধব। কমিউনিটি পুলিশিং, মডেল থানার মতো উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে পুলিশ অনেক ক্ষেত্রে তাদের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠছে। কিন্তু তারপরও পুলিশ এখনও জনগণের প্রকৃত বন্ধু কতটুকু হতে পেরেছে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সবাই চাইছেন 'পুলিশ জনগণের বন্ধু হোক'। কিন্তু হচ্ছে কোথায়? জবাবদিহিতা বলে কোনো কিছু কি পুলিশ প্রশাসনে কাজ করছে? রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পুলিশ বাহিনীকে বিভিন্নভাবে ব্যবহার করার ফলে এই বাহিনীর মধ্যে দুর্নীতি, ক্ষমতা প্রদর্শনের মানসিকতা অনেকটাই বেড়ে গেছে। মানুষের নিরাপত্তা রক্ষা বিষয়টা গৌণ হয়ে গেছে।

কেন এমন হচ্ছে সেটা কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেই খুঁজে বের করতে হবে। বাংলাদেশ পুলিশের জনবল ও প্রযুক্তিগত বল অনেক ক্ষেত্রেই অপরাধীদের চেয়ে দুর্বল। অপরাধীরা যেসব আধুনিক গাড়ি, ফোনসহ নানা ধরনের ডিভাইস ব্যবহার করে, যে পরিমাণ টাকা-পয়সা ছিটিয়ে জাল বিস্তার করে, পুলিশ বাহিনী সবসময় তা পায় না। মাঠ পর্যায়ে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের বেতন ও সুবিধা কম।

এ ছাড়া, রাজনৈতিক পরিচয়ে পুলিশে নিয়োগপ্রাপ্তরা অনেকেই যোগ্যতার ভিত্তিতে আসেন না। তারাই পুলিশকে জন অ-বান্ধব করতে চান। এরপরেও সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, অপরাধ দমনে গত কয়েক বছরে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে পুলিশ। আমরা বিশ্বাস করি, পুলিশ অনেক কিছু চাইলেই করতে পারে। কিন্তু সাধারণ মানুষ অভিযোগ করে ক্ষমতাবানদের কাছেই পুলিশ দায়বদ্ধ। অথচ মানুষের সঙ্গে পুলিশ যতো বেশি সংশ্লিষ্ট হবে, ততো বেশি মানুষ তাদের সাফল্যের স্বাদ পাবে।

পুলিশের ভেতরে যখন থেকে আমলাতন্ত্র ও সামরিকীকরণ ব্যাপারটা ঢুকে গেছে, তখন থেকেই একশ্রেণীর পুলিশ কর্মকর্তা নিজেদের জনবিছিন্ন করে তুলেছেন। তারাই গলা উঁচু করে পাবলিকলি বলেন, পুলিশকে কঠিন-কঠোর হতে হবে, মানুষের বন্ধু হওয়া যাবে না।

পুলিশ এমন একটি সেবা সংস্থা, যাদের কাছে না গিয়ে বিপদগ্রস্ত মানুষের আর কোনো উপায় থাকে না। বিশেষ করে দরিদ্র, ক্ষমতাহীন, প্রান্তিক মানুষের ওপর কোনো অন্যায়-অবিচার হলে একমাত্র পুলিশ ও আইনরক্ষাকারী বাহিনীই পারে তাদের পাশে দাঁড়াতে। তাই যখন টিআইবির প্রতিবেদনে দেখি দরিদ্র মানুষই সবচেয়ে বেশি পুলিশের দুর্নীতির শিকার হচ্ছে, তখন খুব উপায়হীন মনে হয়।

আশাকরি নতুন প্রজন্মের পুলিশ আরও মেধাবী হবে এবং নিজেদের সুপিরিয়র না ভেবে জনগণের বন্ধু ভাববেন।

পুলিশ হোক বা আমলা হোক বা অন্য পেশাজীবী বা রাজনীতিবিদ, সত্য কিন্তু একদিন প্রকাশিত হয়েই যায়। তাই রাষ্ট্র বা তার কোনো অঙ্গ সংগঠনের আইন বহির্ভূত কাজ করা উচিৎ নয়, সেই আইন বহির্ভূত কাজের ফলে যত উপকারই হোক না কেন। রাষ্ট্র আইন বহির্ভূত কাজ করলে সেটা একদিন প্রকাশিত হবে এবং রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়।

প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি এমন একটা জিনিষ, যা ভয় দেখিয়ে বা মানুষের মুখ বন্ধ রেখে উঁচু রাখা যায় না, কাজে প্রকাশ করতে হয়। তথ্য গোপন করেও ভাবমূর্তি ধরে রাখা যায় না। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, অনেক চেষ্টা করেও আমেরিকা সত্য লুকাতে পারেনি। আমেরিকায় একটি আইন বিষয়ক গবেষণায় দেখা গেছে, গুয়ানতানামো বে কারাগারে আটক প্রায় সাড়ে ৭০০ বন্দির মধ্যে শতকরা ৩ শতাংশেরও অপরাধ প্রমাণিত হয়নি। শতকরা ৮০ শতাংশ বন্দিকে সেখানে আটকে রাখা হয়েছে আফগান বা পাকিস্তানের পুলিশ বা মিলিটারি দ্বারা, যাদের বেশিরভাগই শত্রুতা থেকে বা ঘুষ না দেওয়ার জন্য। জাতির কলঙ্কজনক অধ্যায় যারা রচনা করে, তারা খুব উৎসাহের সঙ্গে সেটা করে। আর ভাবে, এটা তীব্র দেশপ্রেম।

আমরা জোর দিয়ে বলতে চাই, সাধারণ মানুষের পাশে থাকাটাই প্রকৃত দেশপ্রেম। রাষ্ট্রের আইনকে পাশ কাটিয়ে বা সংবিধানকে তোয়াক্কা না করে আইন বহির্ভূত কাজ করাও দুর্নীতি এবং সেটাও সন্ত্রাসবাদ। কমিউনিটি পুলিশিং, পুলিশের ভালো কাজের প্রচার, অসৎদের শাস্তি, সততার জন্য পুরস্কার চালু করেই ইমেজকে আরও উজ্জ্বল করতে হবে। আর তখনই মানুষের মধ্যে পুলিশ হবে 'সত্যিকারের রাজা'।

শাহানা হুদা রঞ্জনা, সিনিয়র কোঅর্ডিনেটর, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন

(দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদকীয় নীতিমালার সঙ্গে লেখকের মতামতের মিল নাও থাকতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির আইনগত, মতামত বা বিশ্লেষণের দায়ভার সম্পূর্ণরূপে লেখকের, দ্য ডেইলি স্টার কর্তৃপক্ষের নয়। লেখকের নিজস্ব মতামতের কোনো প্রকার দায়ভার দ্য ডেইলি স্টার নেবে না।)

Comments

The Daily Star  | English

15pc VAT on Metro Rail: Quader requests PM to reconsider NBR’s decision

Dhaka is one of the most unliveable cities in the world, which does not go hand-in-hand with the progress made by the country, says the road transport and bridges minister

30m ago