'দ্রুত কাউকে আকাশে তুলবেন না, নিচেও নামাবেন না'

দুই বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে নেমে সাইফ হাসান নিজেকে মেলে ধরেছেন। অনিয়মিত স্পিনার হিসেবে দুই উইকেট নেওয়ার পর ব্যাট হাতে খেলেন ঝড়ো ইনিংস। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটারের আদর্শ এক ছবি পাওয়া গেছে তার ভেতর। অথচ তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রেখেছিলেন মূলত টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে। সাইফের বিবর্তন ও উন্নতি সবার নজর কাড়লেও কাউকে নিয়ে দ্রুত উচ্চাশা বা হতাশা কোনটাই না করতে অনুরোধ করলেন বাংলাদেশ দলের প্রধান সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।
শনিবার সিলেটে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে অফ স্পিনে ১৮ রানে ২ উইকেট নেন সাইফ, পরে রান তাড়ায় চারে নেমে ১৯ বলে ৩৬ রান করে অপরাজিত ছিলেন, এরমধ্যে মেরেছেন তিনটি বিশাল ছয়। তার খেলার ধরণ, শরীরী ভাষা নজর কেড়েছে আলাদাভাবে।
সাইফ দেশের ক্রিকেটে দীর্ঘ পরিসরের ব্যাটার হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। টেস্টে দল থেকে ছিটকে যাওয়ার নিজেকে সাদা বলের ক্রিকেটার হিসেবে গড়ে তুলেন তিনি। প্রত্যাবর্তনে নজর কেড়ে নিজের কুড়ি ওভারের স্কোয়াডে থাকার সার্থকরা প্রমাণ করছেন তিনি।
রোববার সিলেটে সংবাদ সম্মেলনে সালাউদ্দিন সাইফের পরিশ্রম ও ধৈর্যের প্রসঙ্গ তুলেও ধরলেও বাড়তি হাইপ নিয়ে কথা বলেছেন, 'আমি আগেও অনুরোধ করেছি যে একবার কাউকে খুব তাড়াতাড়ি আকাশে তুলে ফেলবেন নাম কাউকে তাড়াতাড়ি নিচেও নামাবেন না। ভালো খেলেছে, কাম ব্যাক করেছে যে এটা আসলে শক্ত মানসিকতার একটা পরিচয়। যে কোন মানুষের যখন ব্যাকফুটে চলে যাবে সেখান থেকে সবাই আসলে বেরিয়ে আসতে পারে না।'

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রেখেই কঠিন চ্যালেঞ্জের পর খানিকটা হারিয়ে যাওয়া, আড়ালে পড়ে থাকা, এরপর ঘুরে দাঁড়ানো, নিজেকে গড়ে তোলা সহজ নয় মনে করেন সালাউদ্দিন, 'একটা সময় সে ছিল টেস্ট প্লেয়ার, সেখান থেকে সে বেরিয়ে এসে যে ক্যারেক্টার শো করেছে এটা আসলে সবার ভিতরে থাকে না। উন্নতি তো চালিয়ে নিতে হবে, তার চেষ্টাটা ছিল। এটা আসলে খেলোয়াড় নিজেই চেষ্টা করেছে। সে আসলে নিজেকে অন্য জায়গায় দেখতে চেয়েছে। কারণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বারবার প্রথম ছয় সাতটা ম্যাচে সে ফেইল করেছে। সেখান থেকে মেন্টালি আবার ঘুরে দাঁড়ানো এটা আসলে কঠিন কাজ।'
সালাউদ্দিনের মতে সাইফের ভেতরে থাকা ধৈর্য আর নিবেদন তাকে এতদূর নিয়ে এসেছে, তার আশা সাইফ আরও বড় কিছুও করবেন, 'হয়তো আমরা বাইরে থেকে মনে করি এটা অনেক সহজ কাজ। এটা অনেক কঠিন কাজ। সেই কাজটা সে করেছে, সেটা তার ক্যারেক্টারের ভিতরে ছিল। সে নিজে উন্নতি করার চেষ্টা করেছে। এই কারণে তার আসলে ডেভেলপমেন্ট হচ্ছে। গতকাল ম্যাচে যে ক্যারেক্টারটা শো করেছে সেটা যেন আরো কন্টিনিউ করতে পারে। আর ওর চেষ্টার কথা বলব যে মানুষ অনেক মানুষই চেষ্টা করে বাট যে ধৈর্যটা আসলে অনেকের হয়তো থাকে এক মাস,দুই মাস বা এক বছর। কিন্তু তার ধৈর্যটা চার বছর ধরে দেখলাম। এটা একটা বড় ধরনের যে আপনি আসলে কতদিন ধরে আপনি ধৈর্যটা ধরে রাখলেন সেটার ফল পাচ্ছে, ভবিষ্যতে হয়তো সে আরো ভালো করবে।'
Comments