রাকিব-মতিনের নৈপুণ্যে কম্বোডিয়াকে হারাল বাংলাদেশ

প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে মতিন মিয়ার পায়ের কারুকাজের পর রাকিব হোসেনের দুর্দান্ত লক্ষ্যভেদ গড়ে দেয় ব্যবধান।
ছবি: বাফুফে

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ১৮ ধাপ এগিয়ে কম্বোডিয়া। খেলাও তাদের মাটিতে। চেনা পরিবেশে নিজেদের মেলে ধরল তারা। সেই ঝাপটা সামলে গোলপোস্ট অক্ষত রাখলেন গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো। তৈরি করা দারুণ কিছু সুযোগের মধ্যে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা কাজে লাগাল একটি। তাতে শেষ হাসি হেসে মাঠ ছাড়ল হাভিয়ের কাবরেরার দল।

বৃহস্পতিবার নমপেনের জাতীয় স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিক কম্বোডিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে মতিন মিয়ার পায়ের কারুকাজের পর রাকিব হোসেনের দুর্দান্ত লক্ষ্যভেদ গড়ে দেয় ব্যবধান।

সব মিলিয়ে সাত ম্যাচ পর আন্তর্জাতিক মঞ্চে জয় পেল বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। গত বছর নভেম্বরে সবশেষ শ্রীলঙ্কার মাটিতে মালদ্বীপের বিপক্ষে ২-১ গোলে জিতেছিল তারা। এরপর পাঁচ হারের সঙ্গে মাত্র দুটিতে তারা ড্র করতে পারে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশের দায়িত্ব নেওয়া স্প্যানিশ কোচ কাবরেরা এই প্রথম নিলেন জয়ের স্বাদ ।

ছবি: বাফুফে

ম্যাচের ১১তম মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণে ভীতি ছড়ায় কম্বোডিয়া। বিপজ্জনক জায়গা থেকে সিন কাকাদার ফ্রি-কিক লুফে নেন বাংলার বাজপাখি খ্যাত জিকো। তিন মিনিট পর সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন মিডফিল্ডার জামাল ভূঁইয়া। বিশ্বনাথ ঘোষের থ্রোতে ডি-বক্সের ভেতরে ঠিকঠাক পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন তিনি। বল চলে যায় কম্বোডিয়ার গোলপোস্ট ঘেঁষে।

১৯তম মিনিটে কাকাদার দূরপাল্লার শট অসাধারণ দক্ষতায় সেভ করেন জিকো। চার মিনিট পর গোলের উল্লাসে মাতে বাংলাদেশ। বামপ্রান্তে নিজেদের অর্ধে বল পেয়ে প্রতিপক্ষের দুই খেলোয়াড়কে কাটিয়ে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যান ফরোয়ার্ড মতিন। এরপর ডানদিকে খুঁজে নেন মিডফিল্ডার রাকিবকে। প্রথম ছোঁয়ায় বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে কোণাকুণি শটে জাল কাঁপান তিনি।

পিছিয়ে পড়ে গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে কম্বোডিয়া। ২৭তম মিনিটে কিম সকুথের শট পোস্টের ওপর দিয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। চার মিনিট পর কাকাদার হেড থাকেনি লক্ষ্যে। বিরতির কিছুক্ষণ আগে ব্রাক থিভার ক্রসে ডি-বক্সের ভেতরে বলে পা লাগাতে পারেননি রেউং বুনহেইং।

দ্বিতীয়ার্ধে রক্ষণ জমাট রাখতে আরও মনোযোগী হয় বাংলাদেশ। ফলে আক্রমণে উঠলেও শেষে গিয়ে সুবিধা করতে পারেনি কম্বোডিয়া। ৭৪তম ব্যবধান দ্বিগুণ করতে পারতেন মতিন। বামপ্রান্তে ডি-বক্সের বাইরে থেকে তার বাঁকানো শট বাধা পায় ক্রসবারে। বদলি ফরোয়ার্ড সাজ্জাদ হোসেনের যোগ সময়ে সময়ে নেওয়া শট থাকেনি লক্ষ্যে।

পরের প্রীতি ম্যাচে আগামী মঙ্গলবার নেপালকে মোকাবিলা করবে বাংলাদেশ।

Comments