মেসির জাদুতে রোমাঞ্চকর ম্যাচ জিতে শেষ আটে মায়ামি

শুরুতে এগিয়ে দেওয়ার পর ম্যাচে শেষ দিকেও গোল করে দলকে সমতায় ফেরান লিওনেল মেসি।

নির্ধারিত সময় শেষ হতে ১০ মিনিটের মতো বাকি। ম্যাচে তখন দুই গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে ইন্টার মায়ামি। তখনই লিওনেল মেসির ফ্রিকিক থেকে আত্মঘাতী গোলের সুবোধে ব্যবধান কমে। এর পাঁচ মিনিট পর দুর্দান্ত এক ফ্রিকিক থেকে সরাসরি গোল আদায় করে নেন মেসি। তাতে ম্যাচ গড়ায় টাই-ব্রেকারে। সেখানে জয় তুলে নেয় মায়ামিই। ফলে লিগস কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল মেসির দল।

টেক্সাসের টয়োটা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সোমবার সকালে লিগস কাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে এফসি ডালাসকে টাই-ব্রেকারে ৫-৩ ব্যবধানে হারিয়েছে ইন্টার মায়ামি। নির্ধারিত সময়ের খেলা ৪-৪ গোলে সমতায় ছিল।

টাই-ব্রেকারে শুরুতেই মায়ামির হয়ে শট নিয়ে দলকে এগিয়ে দেন মেসি। এরপর ডালাসের পল আরিওলা লক্ষ্যভেদ করেন। সের্জিও বুসকেতস বল জালে পাঠানোর পর নিজেদের দ্বিতীয় শটে ভুল করে বসে ডালাস। প্যাক্সটন পমিক্যালের শট ক্রসবারে লেগে বেরিয়ে গেলে এগিয়ে যায় মায়ামি। অন্যদিকে পাঁচটি শটই নিখুঁতভাবে জালে পাঠায় মায়ামি।

তবে ম্যাচে এদিন সমান তালেই লড়াই হয়েছে। পঞ্চম মিনিটেই ট্রেডমার্ক শটে মায়ামিকে এগিয়ে দিয়েছিলেন মেসি। কিন্তু এরপর তিনটি গোল হজম করে দুই গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে তারা। এরপর দুই দল একটি করে গোল পেলে সেই দুই গোলের ব্যবধানেই পিছিয়ে থাকে তারা। কিন্তু মেসির জাদুতে সমতায় ফিরতে পারে তারা।

অবশ্য ম্যাচের শুরুতেই মায়ামির জালে বল পাঠিয়েছিল ডালাস। অফসাইডের কারণে সে যাত্রা বেঁচে যায় তারা। এরপর দুই মিনিট পর বাঁ প্রান্ত থেকে জর্দি আলবার কাটব্যাক পেয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া মেসির শটে এগিয়ে যায় মায়ামি। এরপর দুই দলই গোল করার বেশ কিছু সুযোগ পেলেও ডালাস সমতায় ফেরে ৩৭তম মিনিটে। মার্কো ফারফানের কাটব্যাক থেকে দারুণ এক ভলিতে বল জালে পাঠান ফাকুন্দো কুইগনন।

সমতায় ফিরে যেন উজ্জীবিত হয়ে ওঠে ডালাস। প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে এগিয়ে যায় তারা। জেসুস ফেরেইরার কাছ থেকে বল পেয়ে তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ডান প্রান্ত দিয়ে ঢুকে দুরূহ কোণ থেকে লক্ষ্যভেদ করেন বার্নার্ড কামুঙ্গো। ৬৩তম মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ায় তারা। ডান প্রান্ত থেকে নেওয়া অ্যালান ভেলাস্কোর ফ্রিকিক গোল মুখে সৃষ্ট জটলার সামনে ড্রপ করে সরাসরি জালে প্রবেশ করে।

এর দুই মিনিট পরই ব্যবধান কমায় মায়ামি। মেসির বাড়ানো বল থেকে দারুণ এক কাটব্যাক করেন আলবা। গোলমুখে ফাঁকায় পেয়ে জোরালো শটে বল জালে পাঠান বেঞ্জামিন ক্রেমাস্কি। তবে এর তিন মিনিট পর আত্মঘাতী গোল হজম করে বসে মায়ামি। সতীর্থকে পাস দিতে চেয়েছিলেন আরিওলা। কিন্তু আগুয়ান রবার্ট টেইলর বল ঠেকাতে গিয়ে নিজেদের জালেই পাঠিয়ে দেন।

৮০তম মিনিটে ম্যাচে ফিরে আসে মায়ামি। বাঁ প্রান্ত থেকে নেওয়া মেসির ফ্রিকিক হেড দিয়ে ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে দেন মার্কো ফারফান। এরপর পাঁচ মিনিট পর ঠিক অপর প্রান্তে ফ্রি কিক পায়। এবার মেসির শট সরাসরি লক্ষ্যভেদ হলে সমতায় ফেরার উল্লাসে মাতে মায়ামি। এরপর বাকি গল্প টাই-ব্রেকারে লিখে দলটি।

Comments

The Daily Star  | English

Trees are Dhaka’s saviours

Things seem dire as people brace for the imminent fight against heat waves and air pollution.

5h ago