লাউতারোর সমালোচনার কড়া জবাব চালহানোগ্লুর

ফ্লুমিনেন্সের বিপক্ষে হেরে ক্লাব বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর সতীর্থদের উদ্দেশে ক্ষুব্ধ বার্তা দিয়েছিলেন ইন্টার অধিনায়ক লাউতারো মার্তিনেস। যদিও নির্দিষ্ট করে কারো নাম বলেননি। পরে ক্লাব প্রেসিডেন্ট জুজেপে মারোত্তা নিশ্চিত করেন, আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের ইঙ্গিত ছিল হাকান চালহানোগ্লুর দিকে। এবার পাল্টা জবাব দিয়েছেন এই তুর্কি মিডফিল্ডার। এমনকি তার স্ত্রী সিনেম চালহানোগ্লুও।

সোমবার রাতে ইনস্টাগ্রামে একটি দীর্ঘ পোস্টে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন ৩১ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার, 'গতকাল আমরা হেরেছি, এবং এটা কষ্টদায়ক। আমি দুঃখ পেয়েছি, কেবল একজন খেলোয়াড় হিসেবে নয়, বরং একজন আন্তরিক মানুষের মতো কষ্ট পেয়েছি। যদিও আমি বর্তমানে ইনজুরিতে, আমি ম্যাচের পরপরই ফোন ধরেছিলাম এবং কয়েকজন সতীর্থকে ফোন করেছি, উজ্জীবিত করতে—কারণ আমি দলের জন্য নিঃস্বার্থভাবে ভাবি।

'তবে যা বেশি কষ্ট দিয়েছে, তা হলো পরের কথাগুলো। এমন কথা যা তীব্রভাবে আঘাত করে। এমন কথা যা বিভক্ত করে, ঐক্যবদ্ধ করে না। আমার ক্যারিয়ারে, আমি কখনও অজুহাত খুঁজিনি। আমি সবসময় দায়িত্ব নিয়েছি। আমি ব্যথার মধ্যেও খেলেছি, আমি নেতৃত্ব দিয়েছি, বিশেষ করে কঠিন মুহূর্তে কথা দিয়ে নয়, বরং কাজের মাধ্যমে।

'আমি প্রতিটি মতামতকে সম্মান করি, একজন সতীর্থের কাছ থেকেও, এমনকি ক্লাব সভাপতির কাছ থেকেও, কিন্তু সম্মান একতরফা হয় না। আমি সবসময় মাঠে এবং মাঠের বাইরে সম্মান দেখিয়েছি, এবং আমি বিশ্বাস করি যে ফুটবলে, জীবনের মতো, সত্যিকারের শক্তি সম্মান দেখানোর মধ্যে নিহিত, বিশেষ করে যখন আবেগ তুঙ্গে থাকে।

'আমি কখনও এই ক্লাবের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করিনি, কখনও বলিনি যে আমি ইন্টারে খুশি নই। অতীতে অনেক লোভনীয় প্রস্তাব এসেছিল। কিন্তু আমি থেকে গেছি কারণ এই ক্লাবের জার্সির মানে আমার জানা আছে। আমি আমার দেশের অধিনায়ক হয়েছি, জানি নেতৃত্ব কীভাবে দিতে হয়। নেতৃত্ব মানে হলো চাপের মুহূর্তে দলকে জুড়ে রাখা, আঙুল তোলা নয়।'

একই সঙ্গে স্বামীর প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়ে সামাজিকমাধ্যমে তার স্ত্রী সিনেম লিখেছেন, 'কিছু মানুষ তোমার প্রতি বিশ্বস্ত নয়। তারা তোমার প্রতি তাদের প্রয়োজনের প্রতি অনুগত। একবার তাদের প্রয়োজন বদলে গেলে, তাদের আনুগত্যও বদলে যায়। ভালো হৃদয় থাকার জন্য আফসোস করো না, হাকান। সব ভালো জিনিস ফিরে আসে এবং বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।'

তুরস্কের জায়ান্ট ক্লাব গালাতাসারায়ের প্রেসিডেন্ট দুরসুন ওজবেক ইতোমধ্যেই জানিয়েছেন, চালহানোগ্লুকে দলে নেওয়ার আলোচনায় রয়েছেন। এখনও আনুষ্ঠানিক কিছু না হলেও ধারণা করা হচ্ছে, এটি চালহানোগ্লুর নিজ দেশে খেলার প্রথম সুযোগ হতে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, ম্যাচের পর লাউতারো বলেছিলেন, 'যারা ইন্টার জার্সি পরে থাকতে চায়, তারা থাকুক; যারা চায় না, তারা বিদায় নিক। আমরা একটা বড় ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করি, বড় লক্ষ্যের জন্য লড়ি। আমি নাম বলব না, কিন্তু অনেক কিছুই দেখেছি যা ভালো লাগেনি। আমি লড়াই করতে চাই, কারণ আমরা আবার শীর্ষে ফিরেছি।"

তার মন্তব্যের সূত্র ধরে ইন্টার প্রেসিডেন্ট মারোত্তা স্পোর্টস মিডিয়াসেটে বলেছিলেন, 'আমি লাউতারোর কথাকে ইতিবাচকভাবেই দেখি। একজন নেতা হিসেবে সে কিছু সত্য উচ্চারণ করেছে। কেউ যদি যেতে চায়, আমরা দরজা খুলে দিই। লাউতারো হয়তো চালহানোগ্লুকে ইঙ্গিত করেছিল, তবে এটাকে স্বাভাবিক মৌসুম শেষের বাস্তবতা হিসেবে দেখি।'

তবে চলমান বিতর্কের মধ্যেই এক বিষিয়  স্পষ্ট হয়েছে ইন্টারে চালহানোগ্লুর ভবিষ্যৎ এখন বড় এক প্রশ্নবোধক চিহ্নের মুখে।

Comments

The Daily Star  | English

Over 100 injured in overnight clashes between CU students, locals

Following the clash, the university authorities have postponed all departmental examinations scheduled for today.

1h ago