আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০২৩

৭ 'এক', চৌদ্দতে ৬, সাতে ১৪- অদ্ভুত ইনিংসে শ্রীলঙ্কার যত অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড

৫৫ রানে অলআউটের অনেকটা অদ্ভুত এক ইনিংসের জন্ম দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। সেখানে তাদের হতে হয়েছে অনাকাঙ্ক্ষিত অনেক রেকর্ডের মালিক।

৭ 'এক', চৌদ্দতে ৬, সাতে ১৪- অদ্ভুত ইনিংসে শ্রীলঙ্কার যত অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড

৫৫ রানে অলআউটের অনেকটা অদ্ভুত এক ইনিংসের জন্ম দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। সেখানে তাদের হতে হয়েছে অনাকাঙ্ক্ষিত অনেক রেকর্ডের মালিক।
ভারত বনাম শ্রীলঙ্কা

৫৫ রানে অলআউটের অনেকটা অদ্ভুত এক ইনিংসের জন্ম দিয়েছে শ্রীলঙ্কা। সেখানে তাদের হতে হয়েছে অনাকাঙ্ক্ষিত অনেক রেকর্ডের মালিক। সেসবই দেখে আসি একসাথে…

৭- শ্রীলঙ্কার সাত ব্যাটার এক রানের বেশি করার আগেই আউট হয়েছেন এদিন। এক অথবা তার কমে রান কোন দলের এত বেশি ব্যাটার বিশ্বকাপে আউট হননি কখনোই। লঙ্কান পাঁচ ব্যাটার শূন্য রানে আউট হয়েছেন ভারত-শ্রীলঙ্কা ম্যাচে। সঙ্গে কুসল মেন্ডিস ও চারিথ আসালাঙ্কা আউট হয়েছেন ১ রান করে। বিশ্বকাপের বাইরে এমনিতেই ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কা এই ঘটনার সাক্ষী হয়েছে প্রথমবারের মতো। ভারতও এই প্রথম কোন দলের সাত ব্যাটারকে এক রান বা তার কমে আউট করেছে।

২- বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ে শ্রীলঙ্কার প্রথম পাঁচ ব্যাটার মিলে করেছেন মাত্র দুই রান। যা ওয়ানডে ইতিহাসেই কোন দলের প্রথম পাঁচ ব্যাটারের থেকে আসা সর্বনিম্ন রান। আর শুধু বিশ্বকাপের বেলায় দেখা যায়, আরও একটি মাত্র ম্যাচে দুই অঙ্কে যেতে পারেননি প্রথম পাঁচ ব্যাটার মিলে। ২০১৫ সালে সেদিনও অবশ্য পাকিস্তান ৮ রান আনতে পেরেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।

১৪- লঙ্কান ব্যাটিং অর্ডারের প্রথম সাত ব্যাটার মিলেও যে ১৪ রান করেছেন, সেটিতেও তারা বিব্রতকর রেকর্ডে নাম লিখিয়েছেন। ওয়ানডে ইতিহাসে এক ম্যাচে আর কোন দলের প্রথম সাত ব্যাটার মিলে এত কম রান করেননি। এর আগে সর্বনিম্ন ১৯ রান ছিল কানাডার। সেদিন অবশ্য কানাডাকে বিব্রতবোধ করিয়েছিল লঙ্কানরাই। আর কোন ম্যাচে প্রথম সাতজন ব্যাটিংয়ে নেমে সম্মিলিত ২০ রানের কম করেননি।

১- শ্রীলঙ্কার উপরের সারির আট ব্যাটার মিলে এদিন চার মেরেছেন মাত্র একটি। ১৯৯৬ বিশ্বকাপের পর, কোন দলের টপ আট ব্যাটার মিলে কোন ম্যাচে এত কম চার মারলেন এই ম্যাচেই। এমনিতে ওয়ানডেতে ২০০০ সাল থেকেও কোন ইনিংসে টপ আট ব্যাটার থেকে সেটি সর্বনিম্ন, যেখানে আটজনের অন্তত পাঁচজন ব্যাট হাতে নেমেছেন।

১- ১৪ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে শ্রীলঙ্কা। বিশ্বকাপে কোন টেষ্ট খেলুড়ে দেশ ২০ রানের কমে ৬টি উইকেট হারিয়ে ফেলল এই প্রথম। আর সবমিলিয়ে এর আগে বিশ্বকাপে একবার এর কমে কোন দল প্রথম ৬ উইকেট হারিয়েছে। সেটিতেও অবদান শ্রীলঙ্কার, তবে ভিন্ন ভূমিকায়। ২০০৩ বিশ্বকাপে কানাডার ৬ উইকেট তুলে নিয়েছিল লঙ্কান বোলাররা ১২ রানেই।

২৯/৮- ৩০ রান পাড়ি দেওয়ার আগেই লঙ্কানরা যে আট উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল, এতেও তারা গড়েছে অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড। বিশ্বকাপে ত্রিশ রানের কমে আট উইকেট হারিয়ে ফেলা প্রথম দল হল তারা। এর আগে ওয়ানডে বিশ্বকাপে প্রথম আট উইকেট সর্বনিম্ন ৩১ রানে হারিয়েছিল কোন দল। সেই দল কানাডা, প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা। সেই ২০০৩ বিশ্বকাপের ম্যাচ, যেখানে শ্রীলঙ্কা ৩৬ রানে অলআউট করে দিয়েছিল কানাডাকে।

৫- বিশ্বকাপে এক ম্যাচে কোন দলের যৌথভাবে সর্বোচ্চ 'ডাক' মারার রেকর্ডের অংশ হয়েছে শ্রীলঙ্কা। বিশ্বকাপে ইনিংসে সর্বোচ্চ ডাকের রেকর্ডটি হচ্ছে ৫! ভারতের বিপক্ষে মুম্বাইয়ে লঙ্কান পাঁচজন- পাথুম নিসাঙ্কা, দিমুথ করুনারত্নে, সাদিরা সামারাবিক্রমা, দুসান হেমন্ত, দুশমন্ত চামিরা- সবাই আউট হয়েছেন শূন্য রানে।

১- পাঁচ নাম্বারে নেমে ২৪ বল খেলে মাত্র এক রান করেছেন চারিথ আসালাঙ্কা। কমপক্ষে ২৪ বল খেলে এত কম রান করার নজির, টেস্ট খেলুড়ে দেশের টপ সাতে নামা ব্যাটারদের মধ্যে বিশ্বকাপের মঞ্চে আর কারোরই নেই। যেকোন পজিশনে দেখতে গেলেও, টেস্ট খেলুড়ে দেশের আর একজনকেই পাওয়া যায়। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রিওন কিং খেলেছিলেন ৩০ বলে ১ রানের ইনিংস, নেমেছিলেন দশ নাম্বারে অজিদের বিপক্ষে সে ম্যাচে।

৩- এক দলের তিনজন ব্যাটার ৮০ এর উপরে রান করেছেন, কিন্তু কেউই সেঞ্চুরি করতে পারেননি- বিশ্বকাপে এমনটা হয়েছে ভারত-শ্রীলঙ্কা ম্যাচেই প্রথম। ভারতের ইনিংসে শুবমান গিল ৯২ রান করে আউট হয়েছেন। বিরাট কোহলি সেঞ্চুরি থেকে ১২ রান দূরে ছিলেন। শ্রেয়াস আইয়ার আউট হয়েছেন ৮২ রানে।

Comments