স্মরণ

সাধক বাউল শিল্পী রব ফকির আর নেই

‘আমার দেহটাই দোতারা, লালনের গানই আমার ধর্ম’Ñ নিজের সম্পর্কে কেউ জানতে চাইলে এভাবেই উত্তর দিতেন যিনি, লালনের গানের সেই সাধক বাউল শিল্পী আবদুর রব ফকির আর নেই। ৬ আগস্ট গভীর রাতে কুষ্টিয়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আবদুর রব ফকিরের বাড়ি কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বাড়াদী গ্রামে।


‘আমার দেহটাই দোতারা, লালনের গানই আমার ধর্ম’Ñ নিজের সম্পর্কে কেউ জানতে চাইলে এভাবেই উত্তর দিতেন যিনি, লালনের গানের সেই সাধক বাউল শিল্পী আবদুর রব ফকির আর নেই। ৬ আগস্ট গভীর রাতে কুষ্টিয়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। আবদুর রব ফকিরের বাড়ি কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বাড়াদী গ্রামে।


রব ফকিরের স্ত্রী আনজেরা খাতুন জানান, তিনি বেশ কিছুদিন ধরেই শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছিলেন। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য ভক্ত-শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন। রব ফকির নামেই তিনি বেশি পরিচিত। তার মৃত্যুর খবরে বাউল সমাজে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তার গ্রামের বাড়িতে ভক্ত-শুভানুধ্যায়ীদের ঢল নামে। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে লালন একাডেমি। নিজ গ্রাম বাড়াদীতে পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়েছে। ১৯৭২ সালের দিকে বাবা সিরাজ জোয়ারদারের হাত ধরে ছেঁউড়িয়ায় লালন সাঁইজির আখড়ায় যেতেন রব ফকির। সেই থেকে শুরু। সাধুগুরু ভালো লাগে। লালনের প্রতি ভক্তি আর ভালোবাসায় জড়িয়ে পড়েন। নিজেই দোতারা তৈরি শুরু করেন। সেই দোতারা বাজিয়ে লালন, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের গানের সুর তুলতেন। শাস্ত্রীয় সংগীতের সুর খেলা করত তার দোতারায়। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দোতারা বাজিয়ে গান করেছেন। আমৃত্যু লালনের তত্ত্বজ্ঞান ও নিগূঢ় কথা গানে গানে প্রচার করে গেছেন দুই বাংলায়ই সমান জনপ্রিয় এই শিল্পী। রব ফকিরের উল্লেখযোগ্য গানগুলো হচ্ছেÑ এবার মজা যাবে বোঝা, কোন কোলে হয় নানার ছবি, দাও আমায়, সহজ মানুষ, মনের মানুষ, শব্দ ঘরে শব্দ করি, আমি দেখলাম এ সংসার।

 

Comments

The Daily Star  | English
irregular migration routes to Europe from Bangladesh

To Europe via Libya: A voyage fraught with peril

An undocumented Bangladeshi migrant worker choosing to enter Europe from Libya, will almost certainly be held captive by armed militias, tortured, and their families extorted for lakhs of taka.

21h ago