টিকটক ছাড়াও চীনের যেসব অ্যাপ যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়

টিকটক ছাড়াও চীনের যেসব অ্যাপ যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়

তথ্য চুরির অভিযোগে সম্প্রতিকালে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমগুলোর সংবাদের শিরোনাম হচ্ছে চীনের তৈরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাপ টিকটক।

যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতা ও বিশ্লেষকদের অভিযোগ টিকটক মার্কিন গ্রাহকদের তথ্য চীনা সরকারের সঙ্গে ভাগাভাগি করে, যা মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকির সৃষ্টি করেছে। এজন্য আইনপ্রণেতারা দেশটিতে টিকটক নিষিদ্ধও করতে চান। 

সম্প্রতি টিকটকের প্রধান নির্বাহী শু ঝি চু মার্কিন কংগ্রসের এক শুনানিতে তার কোম্পানির সঙ্গে চীন সরকারের সব ধরনের সম্পর্কের অভিযোগ নাকচ করেছেন। তবে তারপরও কাটেনি সন্দেহ। 

পশ্চিমা বিশ্বে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে এটিই একমাত্র চীনা অ্যাপ নয়, যা অত্যন্ত জনপ্রিয়। 

অ্যাপ বিষয়ক তথ্য বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান অ্যাপটোপিয়ার তথ্য অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রে শীর্ষ জনপ্রিয় ১০টি ফ্রি অ্যাপের মধ্যে চীনা অ্যাপ আছে ৩টি। এদের মধ্যে ২টি আবার যুক্তরাজ্যেও সর্বোচ্চ ডাউনলোড হওয়া অ্যাপের তালিকায় আছে। 

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে জনপ্রিয় চীনা অ্যাপ

ক্যাপকাট

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অ্যাপ পর্যালোচনাকারী প্রতিষ্ঠান সেন্সর টাওয়ারের তথ্য অনুসারে, শুধু ফেব্রুয়ারি মাসেই ভিডিও এডিটিং অ্যাপ ক্যাপকাট ১ কোটি ৩০ লাখ বার ডাউনলোড হয়েছে। বেশিরভাগ ব্যবহারকারীই এই অ্যাপটিকে টিকটকের ভিডিও এডিটের কাজে ব্যবহার করেন। 

মোবাইলে যাতে দ্রুত ও সহজে ভিডিও এডিট করা যায়, সেভাবেই অ্যাপটি তৈরি করা হয়েছে। অ্যাপটিতে জনপ্রিয় গান, ফিল্টার এবং বিশেষ ইফেক্টসহ এমন অনেক ফিচার আছে, যেগুলো একটি ভিডিওকে ভাইরাল করতে সহায়তা করে। টিকটকের মতো এই অ্যাপটিরও মালিক চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্স। 

শিইন

শিইন আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ব্র্যান্ড। ফোর্বসের তথ্য অনুসারে, ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এই ব্র্যান্ডটির বর্তমান মূল্য ১৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। 

চীনা বিলয়নিয়ার ক্রিস শু এই ব্র্যান্ডটি প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং এর সদর দপ্তর সিঙ্গাপুরে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরুণ ক্রেতাদের লক্ষ্য করে ফ্যাশনেবল পোশাক তৈরি করে এটি। প্রতিদিনই সাশ্রয়ী মূল্যের শত শত নতুন ডিজাইনের পোশাক যুক্ত হয় শিইনের ক্যাটালগে। টিকটক বা ইনস্টাগ্রামে  #Shein লিখে সার্চ দিলে হাজার হাজার প্রচারণামূলক ভিডিও পাওয়া যাবে। তরুণদের কাছে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয়।

টেমু

এই শপিং অ্যাপটি যুক্তরাষ্ট্রে চালু হয়েছে এখনো এক বছরও হয়নি। কিন্ত এটি এরই মধ্যে ডাউনলোডের দিক দিয়ে ওয়ালমার্ট ও অ্যামাজনকে ছাড়িয়ে গেছে। 

অ্যাপটি একটি অনলাইন সুপারস্টোর, যেখানে পোশাক, ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী থেকে শুরু করে যেকোনো কিছু কেনা যায়। ব্যবহারকারীরা এই অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি চীনা উৎপাদকদের কাছ থেকে পণ্য কিনতে পারেন। ফলে কোনো বিক্রেতাকে ওয়্যারহাউজ রক্ষণাবেক্ষণ করার পেছনে অর্থ ব্যয় করতে হয় না। এতে করে পণ্যও তুলনামূলক সাশ্রয়ী হয়। 

এই প্ল্যাটফর্মে পণ্যের দাম এতটাই কম যে অনেক সময় গ্রহকরা সন্দিহান হয়ে পড়েন। এই বছরের সুপারবোলের সময় টেমু প্রচারণা চালিয়েছিল। তখন অনেক গ্রাহক নতুন করে এই অ্যাপটির কথা জানতে পারেন। পণ্যের দাম এত কম হওয়ায় অবাক হয়ে বহু গ্রাহক ইন্টারনেটে 'টেমু কী বাস্তব?' লিখে সার্চ করেছেন। 

কোম্পানিটির সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন শহরে। এটি চীনের অন্যতম বৃহৎ রিটেইল প্রতিষ্ঠান পিডিডি হোল্ডিংসের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান। 

বিশেষজ্ঞরা বলেন, চীনা অ্যাপগুলোর সফলতার কারণ হচ্ছে চীনের বাজারে এসব অ্যাপগুলো তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যে টিকে থাকতে হয়। ফলে নিজেদের অ্যাপগুলোকে প্রতিনিয়ত উন্নতির ধারায় রাখতে হয়। চীনা বাজারে মার্কিন কোনো অ্যাপের প্রবেশাধিকার নেই। 

চীনা প্রযুক্তির একজন বিশেষজ্ঞ ঝেয়ি ইয়াং বলেন, 'চীনা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে নিজেদের দেশে এত তীব্র প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হয় যে, টিকে থাকার জন্যেই তাদের অ্যাপগুলোতে প্রতিনিয়ত উন্নত ও কার্যকর করতে হয়। ফলে সেগুলো কখনো কখনো আমেরিকান অ্যাপগুলোর চেয়েও ভালো অ্যাপে পরিণত হয়।'

এ ছাড়া গ্রাহকবান্ধব ও গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী অ্যাপ তৈরিতেও চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর সফলতা অনেক। টিকটক এবং উইচ্যাট তার প্রমাণ। 

টিকটক হচ্ছে প্রথম কোনো চীনা অ্যাপ, যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সরকার এটিকে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছেন। অ্যাপটি নিয়ে যুক্তরাজ্য, কানাডা এবং ইউরোপীয় ইউয়নিয়নেরও একই উদ্বেগ রয়েছে। 

সূত্র: বিবিসি
গ্রন্থনা: আহমেদ হিমেল

Comments

The Daily Star  | English
Remittance Earnings of Four South Asian Countries

Bangladesh back in South Asia remittance race

Bangladesh has returned to a competitive remittance growth path in line with its South Asian neighbours, with a larger-than-usual flow of money sent home by expatriates following the political changeover in August last year.

12h ago