ছাত্রত্ব হারানো গালিব মিথ্যা পরিচয়ে হয়েছেন রাবি ছাত্রলীগের সা. সম্পাদক

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ-হিল-গালিব গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সান্ধ্যকালীন কোর্সের শিক্ষার্থী নন। অথচ এই পরিচয় দিয়েই তিনি ছাত্রলীগের পদ পেয়েছেন।
আসাদুল্লাহ-হিল-গালিব। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ-হিল-গালিব গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সান্ধ্যকালীন কোর্সের শিক্ষার্থী নন। অথচ এই পরিচয় দিয়েই তিনি ছাত্রলীগের পদ পেয়েছেন।

প্রকৃতপক্ষে, গালিব ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হলেও দ্বিতীয় বর্ষ টপকাতে পারেননি। ওই বর্ষ থেকেই ড্রপআউট হয়েছেন। নিজেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সান্ধ্য কোর্সের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দিতেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার গালিবের ছাত্রত্বের ব্যাপারে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মোজাম্মেল হোসেনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, 'আসাদুল্লা-হিল-গালিবের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সান্ধ্য মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার বিষয়টি আংশিক ও অসম্পূর্ণ তথ্য। তিনি প্রকৃতপক্ষে এই বিভাগের শিক্ষার্থী নন।'

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গালিব ২০২১ সালের জুলাই সেশনের ছাত্র (আইডি নম্বর: ২৩১০০৪৬২১০) হিসেবে ভর্তির আবেদন করেছিলেন। তার জমা দেওয়া অনার্সের সার্টিফিকেটে অসঙ্গতি থাকায় সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিষয়টি যাচাই করে ২০২৩ সালের ৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বিভাগের সান্ধ্য মাস্টার্স প্রোগ্রামের জরুরি সভায় ভর্তি বাতিলের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়।'

সম্প্রতি গালিবের ছাত্রত্ব না থাকার কথা উল্লেখ করে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ায় এই বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ।

এ বিষয়ে গালিব দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাই না। আমি কিছু জানিও না। আমার কাছে বিভাগ থেকে দেওয়া সার্টিফিকেট আছে।'

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের বক্তব্য জানতে আজ সন্ধ্যায় তাকে ফোন করা হলেও রিসিভ করেননি।

উল্লেখ্য, সাড়ে ছয় মাস আগে হওয়া সম্মেলনে রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে আসেন আসাদুল্লাহ-হিল-গালিব। তখন তিনি নিজেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সান্ধ্যকালীন কোর্সের শিক্ষার্থী হিসেবে নিজের পরিচয় দেন। তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্সের সার্টিফিকেট জোগাড় করলেও সেটি ভুয়া প্রমাণিত হয়।

Comments