দুই হাতেই বল করেন গাজী গ্রুপের এই ক্রিকেটার

ডানহাতি ব্যাটসম্যানের বেলায় প্রথাগত বাঁহাতি স্পিন, বাঁহাতি ব্যাটার পেলে হয়ে যান অফ স্পিনার
Husna Habib Mehedi
গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের হুসনা হাবিব মেহেদী।

ডানহাতি ব্যাটসম্যানের বেলায় প্রথাগত বাঁহাতি স্পিন, বাঁহাতি ব্যাটার পেলে হয়ে যান অফ স্পিনার। এবার ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে এমনই বল করেছেন গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের হুসনা হাবিব  মেহেদী। 

ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের চলতি আসরে লিস্ট-এ সংস্করণে অভিষেক হয় হাবিবের। ১৩ ম্যাচ খেলে তিনি নিয়েছেন ১৩ উইকেট।

বৃহস্পতিবার লিগের শেষ ম্যাচে প্রাইম ব্যাংকের দুই ওপেনারের ডান-বাম সমন্বয় দেখে নিজের দুই শক্তি কাজে লাগানোর চেষ্টা করেন হাবিব। বাঁহাতি তামিম ইকবালকে করছিলেন ডানহাতে অফ স্পিন বোলিং, এনামুল হক বিজয়কে বাঁহাতি স্পিনে আটকে রাখতে চেষ্টা চালাচ্ছিলেন।

অবশ্য তামিম তার অফ স্পিনে বেরিয়ে শট খেলছিলেন অনায়াসে। মূলত অফ স্পিন বল বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের বেলায় টার্ন করে বেরিয়ে যায়, আবার বাঁহাতি স্পিন ডানহাতিদের বেলায় বেরিয়ে যায়। দুই ধরণের ব্যাটসম্যানকে আটকাতে তাই সব্যসাচী দক্ষতা দিয়ে সফল হওয়ার চেষ্টা ছিল তার।

নিজের ৬ষ্ঠ ওভারে এসে এদিন প্রথম সাফল্য পান তিনি। একটি আর্ম ডেলিভারিতে ৯৬ রান করা বিজয়কে বোল্ড করেন হাবিব। এরপর স্টাম্পিং করে ফেরান নাসির হোসেনকেও। তবে ছিলেন বেশ খরুচে। ১০ ওভারে দুই উইকেট পেতে দেন ৮৩ রান। যদিও প্রাইম ব্যাংকের বড় রানের (৭ উইকেটে ৩৫৫) চড়ার দিনে তাদের বেশিরভাগ বোলারই ছিলেন খরুচে।

দুই হাতে বল করা বিশ্ব ক্রিকেটে এখন আর বিরল ঘটনা নয়। সাম্প্রতিক সময়ে শ্রীলঙ্কার কামিন্দু মেন্ডসিকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেই এমন বল করতে দেখা গেছে। শ্রীলঙ্কার হয়ে ৭টি ওয়ানডে ও ৫টি টি-টোয়েন্টি কামিন্দু দুই হাতে বল করেছেন। 

শ্রীলঙ্কার আরেক ক্রিকেটার হাসান তিলকেরত্নেও  আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুই হাতে বল করেছেন। মূলত বাঁহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবেই সুনাম ছিল তার। সাধারণত বল করতেন ডানহাতে অফ স্পিন। ১৯৯৬ বিশ্বকাপের এক ম্যাচে তিনি দুই হাতেই বল করেছিলেন।

গত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার ভারতীয় বংশোদ্ভুত নিবেথন রাধাকৃষ্ণনকে দুই হাতেই বল করে সাফল্য পেতে দেখা গেছে।

ভারতের বিদর্ভের বোলার অক্ষয় কারনেওয়ার সেদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের স্বীকৃত ম্যাচগুলোতে দু'হাতে বল করেন। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের স্বীকৃত ক্রিকেটে এর আগে দু'হাতে বল করতে দেখা যায়নি কাউকে।

Comments