‘চোখ বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয় ফরহাদ মজহারকে’

​লেখক ও কলামিস্ট ফরহাদ মজহারকে চোখ বেঁধে গতকাল সকালে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্ত শেষে এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
আদাবর থানার বাইরে স্ত্রী ফরিদা আক্তার ও মেয়ে চৌমতলি হকের সাথে ফরহাদ মজহার। ছবি: রাশেদ সুমন

লেখক ও কলামিস্ট ফরহাদ মজহারকে চোখ বেঁধে গতকাল সকালে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্ত শেষে এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের ব্রিফ করার সময় গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন বলেন, ফরহাদ মজহার বলেছেন চোখ বেঁধে তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এর বাইরে তার নিখোঁজ হওয়া সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য তিনি জানাতে পারেননি।

আব্দুল বাতেন বলেন, গত রাতে আদাবর থানায় এ ব্যাপারে একটি অপহরণ মামলা হয়েছে। মামলায় ভিক্টিম হিসেবে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিতে মজহারকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুরো ঘটনার ব্যাপারে সাংবাদিকরা ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রশ্ন করলেও তিনি তা এড়িয়ে গিয়ে ব্রিফিংস্থল ত্যাগ করেন।

‘বস্তায় বেঁধে অপহরণ’, যশোরে একা উদ্ধার

র‍্যাপিড একশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) -৬ এর কমান্ডিং অফিসার রফিকুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে জানান ফরহাদ মজহার তাদেরকে বলেছেন তাকে একটি বস্তায় বেঁধে রাখা হয়েছিল।

ওই র‍্যাব কর্মকর্তা বলেন, “সিসিটিভি ফুটেজে তাকে একটি মাইক্রোবাসে ঢাকা ছাড়তে দেখা গেছে। গাড়িটি এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে সোমবার রাত সড়ে ৮টার দিকে খুলনা নিউমার্কেটের পাশের একটি রেস্টুরেন্টে তাকে রাতের খাবার খেতে দেখা যায়।”

“রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার আমাদেরকে এই খবর জানান। তখন মজহার একা ছিলেন। আমরা শহরের বাস কাউন্টারে তার ছবি দেখিয়ে তিনি যে বাসে ছিলেন সেটিকে চিহ্নিত করি।”

“মহাসড়কে বাস থেকে আমরা তাকে উদ্ধার করি। এর বাইরে আমরা কোন তথ্য পাইনি। তিনি বার বার বলছিলেন তিনি অসুস্থ রয়েছেন এবং পরে বিস্তারিত বলবেন,” বলেন র‍্যাব কর্মকর্তা রফিকুল।

খুলনা থেকে আদাবর থানায় অতঃপর ডিবি কার্যালয়ে

নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর যশোর থেকে উদ্ধার হওয়ার পর ফরহাদ মজহারকে খুলনা হয়ে ঢাকার আদাবর থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (গণমাধ্যম) মাসুদুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

মজহারকে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রথমে আদাবর থানায় আনা হয়। সেখানে অপেক্ষায় থাকা স্ত্রী ফরিদা আক্তার, মেয়ে চৌমতলি হক ও অন্য আত্মীয়দের সাথে তার দেখা হয়।

পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ফরহাদ মজহারকে পুলিশ খুলনা থেকে সাথে করে আদাবর থানায় নিয়ে আসে।

গতকাল ভোরে ফরহাদ মজহারকে অপহরণ করা হয়েছে পরিবারের পক্ষ থেকে এমন দাবি করার পর গণমাধ্যমের শিরোনামে উঠে আসেন তিনি। ১৮ ঘণ্টা নিরুদ্দেশ থাকার পর যশোরে একটি ঢাকামুখী বাস থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

Click here to read the English version of this news

Comments